হোম > জাতীয়

শাপলা হত্যাকাণ্ডসহ কোনো অপরাধকে আমরা তামাদি হতে দেব না: তথ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো অপরাধকে আমরা তামাদি হতে দেব না। সে অপরাধ যেই করুক না কেন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা থেকে শুরু করে শাপলা চত্তরের হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত যাহা হত্যাকাণ্ড, যাহা মানবতাবিরোধী, যাহা অন্যায় যাহা ন্যায্যতার বিরুদ্ধে এবং যাহা সর্বশক্তিমানের আইনের বিরুদ্ধে- তেমন কোনো অপরাধকে আমাদের সরকার তামাদি হতে দেবে না।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে শাপলা স্মৃতি সংসদ আয়োজিত ‘শাপলার শহীদ গাথা-৫ মের গণহত্যা স্মরণ ও মূল্যায়ন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য মন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান সরকার সংসদের প্রথম অধিবেশনে শাপলা চত্তরের সকল শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়েছে। আমরা আমাদের শোক বার্তা জানিয়েছি আনুষ্ঠানিকভাবে।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ জুলাই অভ্যুত্থান এবং শাপলা চত্বরের শহীদসহ সবার সম্মান যা দেয়ার যতটা সম্ভব সবটাই আমরা দেয়ার চেষ্টা করেছি এবং এই সম্মান দেয়ার মধ্য দিয়েই জাতির কাছে আমরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বার্তা দেয়ার চেষ্টা করেছি যে বাংলাদেশে কোনো অপরাধকে আমরা তামাদি হতে দেব না। কিন্তু এই কাজ করার জন্য সবার সহযোগিতা লাগবে বলে জানান তিনি।

তথ্য মন্ত্রী বলেন, শাপলা চত্তরের এই হত্যাকাণ্ডের বিভীষিকাময় স্মৃতি আজও আমাদের কাছে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ২০১৩ সালের ৫ মে বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, যাই হোক না কেন যত বাধাই আসুক না কেন শাপলা চত্তরের হেফাজতের সমাবেশ অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন সেই সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসাবে কি ধরনের প্রতিকূলতা কি ধরনের হুংকারকে মোকাবিলা করে মঞ্চে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন তাও আপনারা জানেন। এই ন্যক্কারজনক গণহত্যার পরে বিএনপির বিবৃতিতেই প্রথম এটাকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, শুধু বিএনপি তাকে গণহত্যা বলে চিহ্নিত করেই সেইদিন ক্ষান্ত হয়নি, দুইদিনব্যাপী হরতালের ডাক দিয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং আমাদের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। হত্যাকারীরা যখন এ অপরাধকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য নানান রকম বিকৃত তথ্যর ছড়াছড়ি করতে শুরু করল, সরকারের সমস্ত ধরনের সমর্থক গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে নানা রকম নাটক এবং মিথ্যা কাহিনী প্রচার করতে শুরু করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত সরকার যে বয়ান দাড় করল সেটি হচ্ছে- এটা বিএনপির নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটেছে। এবং যে মামলাগুলি দায়ের করা হয়েছিল তাতে আসামির মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ বিএনপি এবং তার অঙ্গ সংগঠনের নেতারা ছিলেন।

তথ্য মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা যখন শাপলা বা জুলাই নিয়ে কথা বলি, অথবা যখন আমরা ৫২ বা ৬৯ নিয়ে কথা বলি তখন আমাদের খেয়াল রাখতে হবে- এই প্রতিটি ঘটনারই সম্মিলিত ফলাফল হচ্ছে বাংলাদেশ। এ ঘটনার প্রতিটিরই সম্মিলিত ফলাফল হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং এই সব ধরনের আত্মত্যাগ এবং শহীদের রক্তের সম্মিলিত ফলাফল হচ্ছে এই দেশের সার্বভৌমত্ব এবং এই দেশের স্বনির্ভরতা এবং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি। দলে আমরা কে কত বড়, কে ক্ষমতায়, কে ক্ষমতায় নেই তার চাইতেও এই লক্ষ্যের প্রতি আমাদের যে ঐক্য তা যদি আমরা বজায় রাখতে পারি, তাহলেই শাপলা চত্তরের শহীদসহ এদেশের মাটিতে যারা যারা ঘুমিয়ে আছে, শুধুমাত্র দেশপ্রেমের কারণে যারা প্রাণ ত্যাগ করেছে তাদের সবার প্রতি আমাদের প্রকৃত দায়িত্ব পালন করা হবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, নবীজির বিরুদ্ধে যখন কেউ কথা বলে তখন গোটা সমাজ এক হয়ে যায়, গোটা দেশ আমরা এক হয়ে যাই। কোনোভাবেই এ ধরনের অপরাধীদেরকে আমরা প্রশ্রয় দেই না এবং আমাদের মধ্যে কি পার্থক্য আছে তা আমরা দেখি না। বরঞ্চ এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমাদের যে ঐক্য এই ঐক্যই হচ্ছে আমাদের সবচাইতে বড় শক্তি।

শাপলা স্মৃতি সংসদের এই অনুষ্ঠানে বক্তারা ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত শাপলা গণহত্যার বিচার, সত্য উদ্ঘাটন এবং শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানান।

এ সময় তথ্যমন্ত্রী শাপলা স্মৃতি সংসদের দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছানোর আশ্বাস দিয়ে বলেন, জাতীয় সংসদে আমরা যে কারণে শাপলার শহীদদের স্মরণ করেছি সেই কারণেই এই শহীদদের পরব প্রতি দায়িত্ব পরবর্তী দায়িত্ব আমরা অবশ্যই পালন করব।

সভাপতির বক্তব্যে শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, শাপলার শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান বর্তমান সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৫ মে শাপলা আন্দোলন ছিল একটি ঐতিহাসিক সংগ্রামের প্রতীক। সে সময় আমি কারাগারে বন্দি ছিলাম। ঢাকায় যখন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলছিল, তখন আমাকে খুলনায় স্থানান্তর করা হয়। কারাগারে বসে রেডিওতে আমি সেদিনের সংবাদ শুনেছি।

তিনি বলেন, সৈয়দ আশরাফ যখন হেফাজতকে রাস্তা ছাড়ার কথা বলেছিলেন, তখন মাওলানা মামুনুল হকের অগ্নিগর্ভ বক্তব্য আমি রেডিওতে শুনেছিলাম। অন্যদিকে শেখ হাসিনা শাহবাগপন্থীদের উস্কে দিয়েছিলেন। ৫ মে’র সমাবেশ কোনো দলের ছিল না; দেশপ্রেমিক সর্বস্তরের মানুষ সেখানে অংশ নিয়েছিল।

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, আমরা আমাদের জাতীয় পীর ও আলেমদের কীভাবে সম্মান করি, তার উপর জাতীয়তার ভিত্তি নির্ভর করে। ২০১৩, ২০২১ ও ২০২৪—প্রতিটি সংকটে আলেম-ওলামারা দেশের জন্য জেগে উঠেছেন।

তিনি আরও বলেন, যদি আমরা শহীদদের যথাযথ সম্মান দিতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতের সংকটে কেউ জীবন উৎসর্গে এগিয়ে আসবে না।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, তেরো দফার সাথে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দাবি উত্থাপন করা গণতান্ত্রিক অধিকার। এই দাবিকে কেন্দ্র করে যে নির্মম দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে, তা ছিল গণতন্ত্রবিরোধী।

তিনি আরও বলেন, সেদিন ভোরের আগেই পুরো ঢাকা পরিষ্কার করে ফেলা হয়েছিল। সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। মিডিয়ার একটি অংশও সত্যের পক্ষে নয়, বরং আওয়ামী লীগের দালালি করেছে।

তিনি সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ওলামায়ে কেরামকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে। গেরুয়া আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে এবং সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী, শায়খ মুসা আল হাফিজ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী আমীর মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, সংসদ সদস্য মাওলানা সাইদ উদ্দীন আহমাদ হানজালা, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সেক্রেটারি মুফতি রেজাউল করীম আবরার, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, ড. সরোয়ার হুসাইন, শাপলা স্মৃতি সংসদের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, সহ-সভাপতি মাওলানা ইলিয়াস হামিদী এবং বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, লেখক ও এক্টিভিস্ট রুহুল আমিন সাদী, ইফতেখার জামীল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে শাপলা স্মৃতি সংসদ আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়।

এএস

অন্য দেশের তুলনায় খুবই সামান্য বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম

আমিও আমার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান, তাহলে সমস্যাটা কোথায়

হাম ও উপসর্গে একদিনে ৭ শিশুর মৃত্যু

জিয়া-খালেদার কবরে শ্রদ্ধা পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

শাপলা হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যার স্বীকৃতি বিএনপিই প্রথম দিয়েছে

নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের কাজ চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

জনতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হবে আধুনিক পুলিশি সেবা: আইজিপি

শাপলা শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি শাপলা স্মৃতি সংসদ চেয়ারম্যানের

মির্জা ফখরুলসহ ১৫ জন পাচ্ছেন ‘আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক’

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ