সেদিন ছিল মঙ্গলবার। ২০১০ সালের জুন মাসের প্রথম দিন। রাত সাড়ে ১০টা। পাঠকনন্দিত দৈনিক আমার দেশ-এর তেজগাঁওয়ের ছাপাখানা। প্রতিদিনের মতো প্রথম সংস্করণের ছাপা কেবল শুরু হয়েছে। কিছু পত্রিকা ছাপা হয়ে বাইন্ডারদের হাতে প্যাকেট হচ্ছিল। এ সময় একটি কাগজ হাতে হুড়মুড় করে ছাপাখানায় ঢুকে পড়ে বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ। প্রেসকর্মীদের আটকের হুমকি দিয়ে মেশিন বন্ধ করে দেওয়া হয়। জব্দ করা হয় ছাপা হওয়া পত্রিকার কপি। ডিক্লারেশন বাতিল করা হয়েছে মর্মে ঢাকার জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত একটি কাগজ দেখায়। সবাইকে বের করে দিয়ে প্রেস সিলগালা করে দেয়।
প্রায় একই সময়ে আরো কয়েকশ পুলিশ সদস্য ঘিরে ফেলে কারওয়ান বাজারের বিএসইসি ভবন। এই ভবনের ১১ তলায় ছিল পত্রিকার সম্পাদকীয়, বার্তা ও প্রশাসনিক কার্যালয়। অফিসেই কর্মরত ছিলেন সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও সাংবাদিকরা। শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের মতো কমান্ডো স্টাইলে পুলিশ পত্রিকার অফিসে ঢুকতে চায়। সংবাদকর্মীরা বাধা দেন। প্রচণ্ড ধ্বস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। রাত ১১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত আগ্রাসী পুলিশ বাহিনীকে প্রতিরোধ করেন পত্রিকার সাংবাদিক-কর্মচারীরা। বাড়তে থাকে পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা। রাষ্ট্রীয় পেটোয়া বাহিনীর বেপরোয়া মাস্তানিতে এক পর্যায়ে হার মানতে হয় সংবাদকর্মীদের।
বুটের লাথি আর লাঠির আঘাতে সাংবাদিকদের আহত ও লাঞ্ছিত করে ভোর ৪টার পর তুলে নেওয়া হয় সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে। এভাবে সৃষ্টি হয় এক কালো রাত, কালো অধ্যায়।
১৯৭৫ সালের ১৬ জুন ‘কালো দিবস’-এর পর দেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসের আরেক কালো জুন, পহেলা জুন। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনে প্রথম দফায় আমার দেশ বন্ধের ষষ্ঠদশ বার্ষিকী আজ। কর্মস্থল থেকে অকুতোভয় সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের প্রথম দফায় গ্রেপ্তারের ১৬তম বার্ষিকী। নিজেদের পেশা ও সম্পাদককে রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টায় সেই রাত ছিল আমার দেশ-এর সংবাদকর্মীদের জন্য বিভীষিকাময় এক রজনী।
আইনি লড়াইয়ে ১০ দিনের মাথায় আমার দেশ প্রকাশনায় ফেরে। দীর্ঘ কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। সে মুক্তি স্থায়ী হয়নি। ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল ফের গায়ের জোরে পত্রিকা বন্ধ করে দিয়ে মাহমুদুর রহমানকে অফিস থেকে দ্বিতীয় দফায় গ্রেপ্তার করে শেখ হাসিনার পুলিশ বাহিনী। তারপর হাজারো সংবাদকর্মীর দীর্ঘ প্রায় এক যুগের দুঃসহ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে ২০২৪ সালের শেষে। গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের পর ওই বছরের ২২ ডিসেম্বর আমার দেশ পুনরায় প্রকাশনায় ফেরে। দীর্ঘ বিরতি সত্ত্বেও পাঠকরা আমার দেশকে আবার আপন করে নিয়েছেন।
ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই যেভাবে শুরু
আমার দেশ-এর যাত্রা শুরু ২০০৪ সালে। পত্রিকার উদ্যোক্তা ছিলেন মোসাদ্দেক আলী ফালু। প্রকাশক ছিলেন তার বড় ভাই হাসমত আলী। ২০০৭-এর ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় মোসাদ্দেক আলী ফালু গ্রেপ্তার হয়ে জেলে নিক্ষিপ্ত হলে পত্রিকাটি সংকটে পড়ে। কর্মীদের বিপুল বেতন-ভাতা বকেয়া পড়ে। এক পর্যায়ে মালিকদের পক্ষ থেকে পত্রিকাটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে। তখন চরম বৈরী সময়ে পত্রিকার দায়িত্ব নেন সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান। ওই সময় তিনি দৈনিক নয়া দিগন্তে নিয়মিত কলাম লিখে নন্দিত হন।
সংকটকালে আমার দেশ-এর উপদেষ্টা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন প্রখ্যাত সাংবাদিক আতাউস সামাদ। তার ও অন্যান্য সিনিয়র সাংবাদিকের অনুরোধে সাড়া দিয়ে মাহমুদুর রহমান পত্রিকার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৮ সালে আমার দেশ পাবলিকেশনসের সব সম্পদ ও দায়-দেনা কাঁধে তুলে নেন তিনি। সিংহভাগ শেয়ার হস্তান্তর হলেও সরকারি হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিন যাবৎ সম্পাদক ও প্রকাশক পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে পত্রিকার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।
এরই মধ্যে মইন-ফখরুদ্দীন সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়ায় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী আধিপত্যবাদী রাষ্ট্রের আশীর্বাদে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে। সরকারের দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সংবাদমাধ্যম দলন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাহসী সাংবাদিকতা করে আমার দেশ হয়ে ওঠে গণমানুষের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। নির্ভীক সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সম্পাদনায় ‘আমার দেশ স্বাধীনতার কথা বলে’ নতুন স্লোগান নিয়ে একের পর এক সাড়া জাগানো প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রচার সংখ্যা বাড়তে থাকে লাফিয়ে লাফিয়ে।
২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বরের পত্রিকায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর ঘুস কেলেঙ্কারি নিয়ে চাঞ্চল্যকর শীর্ষ সংবাদ প্রকাশ করে আমার দেশ। একটি গ্যাস কম্প্রেশার স্থাপনের কাজ দিয়ে মার্কিন কোম্পানি শেভরনের কাছ থেকে ৩৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ ডলার ঘুস গ্রহণের ওই সংবাদ প্রকাশের পর সরকার আমার দেশ পত্রিকার ওপর সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
প্রতিবেদন প্রকাশের একদিন পর ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামের সামনে প্রতিবেদক এম আবদুল্লাহর (এই প্রতিবেদক) গাড়িতে বোমা হামলা চালিয়ে তাকে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়। হামলায় তার গাড়ির পেছনের অংশ উড়ে যায়। ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও আহত হন তিনি। একই সময়ে সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের গাড়িতে তেজগাঁও এলাকার সাতরাস্তা মোড়ের কাছে হাতুড়ি হামলা হয়। এতে তার গাড়ির কাচ ভেঙে যায়।
জয় এবং তৌফিক-ই-ইলাহীর দুর্নীতির ওই সংবাদ প্রকাশের পরদিন থেকে সারা দেশে সিরিজ মামলা শুরু হয়। সম্পাদক, প্রকাশক ও প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে এক সপ্তাহের মধ্যে ২৭টি মামলা করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। মামলায় হাজিরা দিতে গেলে হামলা হয় মাগুরাসহ কয়েকটি স্থানে। এমন পরিস্থিতিতেও অদম্য সম্পাদকের নেতৃত্বে শেখ হাসিনার অপশাসনের বিরুদ্ধে সাহসী সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত থাকে। বেসামাল সরকার শেষ পর্যন্ত পত্রিকাটি বন্ধ করে দেওয়ার পথ খুঁজতে থাকে।
সেই কালো দিন-রাত
২০১০ সালের ১ জুন সকালে পত্রিকার প্রকাশক হাসমত আলীকে একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা তুলে নিয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে একটি বানোয়াট অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর আদায় করে। সেটি পুঁজি করে রাতে অভিযানে নামে পুলিশ। পত্রিকার ছাপাখানা বন্ধ করে, সম্পাদককে গ্রেপ্তার করে।
হাসমত আলীর কাছ থেকে গোয়েন্দা সংস্থার জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ‘২০০৮ সালে আমার দেশ-এর সব শেয়ার মাহমুদুর রহমানের কাছে বিক্রি করে দেন, যা জয়েন্ট স্টক কোম্পানির মাধ্যমে হস্তান্তরও করা হয়। এর পর ২০০৯ সালের ১১ অক্টোবর তিনি নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে প্রকশকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। কিন্তু তার পরও মাহমুদুর রহমান পত্রিকার প্রকাশক হিসেবে তার নাম ছাপিয়ে আসছেন। এর মধ্যে পত্রিকার বিরুদ্ধে ৩১টি মামলা হয়েছে। সবগুলো মামলায় প্রকাশক হিসেবে তিনি আসামি হয়েছেন। এতে তিনি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হন।
অথচ প্রকৃত অবস্থা ছিল হাসমত আলী প্রকাশক পরিবর্তনের জন্য আবেদন করলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দিনের পর দিন ঘুরেও তা করা সম্ভব হয়নি। সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে মাহমুদুর রহমানকে প্রকাশক ও সম্পাদক করতে পারেনি জেলা প্রশাসন। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে তাকে।
সম্পাদককে গ্রেপ্তারের আগে আমার দেশ-এর কর্মীরা অসম সাহসী ভূমিকা পালন করেন। কয়েকশ সশস্ত্র পুলিশ সদস্যকে রাত ১১টা থেকে প্রায় ৩টা পর্যন্ত অফিসে ঢুকতে দেননি তারা। লিফট বন্ধ করে আমার দেশ-এর কর্মীরা পুলিশের ১১ তলায় ওঠা বাধাগ্রস্ত করেন। সিঁড়ি ভেঙে উঠতে হয় পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের। শুয়ে-বসে অফিসের মূল ফটক অবরোধ করে রাখেন সাংবাদিকরা। বিক্ষোভ করতে থাকেন। দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশের সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তি হয় সাংবাদিকদের। পুলিশ বলতে থাকে, ‘সরকার আমার দেশ পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল করেছে, পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করতে হবে।’ সাংবাদিকরা পাল্টা জবাব দেন, ‘আমরা পথ ছাড়ব না, আমাদের রক্তের ওপর দিয়ে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে হবে।’ এভাবে রাত ৩টা পর্যন্ত চলার পর পুলিশ শক্তি বাড়িয়ে ১০ মিনিট সময় বেঁধে দেয় পথ ছাড়ার জন্য।
এ সময় রাজনৈতিক নেতাদের অনেকে আমার দেশ কার্যালয়ে ছুটে আসেন। বিশেষ করে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান, শিমুল বিশ্বাস, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান আমার দেশ সম্পাদকের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানাতে কার্যালয়ে উপস্থিত হন।
প্রায় ২০০ সশস্ত্র পুলিশ সদস্যের অভিযানে সাংবাদিকদের বাধার সময় কয়েকজন সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও আহত হন। পরে বাধাদানকারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও মামলা করে পুলিশ। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার ওই মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পত্রিকার তৎকালীন ডেপুটি এডিটর সৈয়দ আবদাল আহমদ, সহকারী সম্পাদক সঞ্জীব চৌধুরী, নগর সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী প্রমুখ। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ৪০০ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
মাহমুদুর রহমানের রিমান্ড ও নির্যাতন
গ্রেপ্তারের পর বিকাল ৩টা পর্যন্ত ক্যান্টনমেন্ট থানায় রাখা হয় মাহমুদুর রহমানকে। বিকালে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবিতে আইনজীবীরা বিক্ষোভ করেন। তাদের লাঠিপেটা করা হয়। যে মামলায় অফিস থেকে গ্রেপ্তারের কথা বলেছিল, সেই হাসমত আলীর মামলায় আদালত জামিন মঞ্জুর করে। কিন্তু পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার ভিত্তিহীন মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলী হোসাইন। যদিও পুলিশের কাজে তিনি বাধা দেননি।
সাংবাদিকদের বাধা ডিঙিয়ে সম্পাদকের কার্যালয়ে পৌঁছালে মাহমুদুর রহমান পুলিশের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই চলে যান। তিন দিনের রিমান্ড শেষে একের পর এক বানোয়াট মামলা আর রিমান্ড চলতে থাকে। রিমান্ডে থাকাকালে মাহমুদুর রহমানকে ঢাকা সেনানিবাস থানায় নিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়। চোখ বেঁধে বুক ও পিঠে চাপ দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। ওই নির্যাতনে প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও অংশ নেন বলে পুলিশের একটি সূত্র তখন জানিয়েছিল। তখন দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো ওই নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল।
১ জুন পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বাতিল ও বন্ধ করার পর টানা ১০ দিন প্রকাশনা বন্ধ ছিল। পরে উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) রিট আবেদন করা হলে জেলা প্রশাসকের ডিক্লারেশন বাতিল আদেশ স্থগিত করা হয়। আমার দেশ পুনরায় পাঠকের হাতে যাওয়ার সুযোগ পায়।
মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিকরা টানা কর্মসূচি পালন করেন। সারা দেশে মুক্তি আন্দোলন দানা বাঁধে। বিশিষ্ট নাগরিকরা মুক্তির দাবি জানান। ১৪ জন সম্পাদক বিবৃতি দিয়ে মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি করেন।
গ্রেপ্তারের পরদিনই আপিল বিভাগে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। ‘চেম্বার মানেই সরকার পক্ষে স্টে’ এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের দায়ে এক মাস পর ৫ জুলাই হাজির করা হয় আপিল বিভাগে। দ্রুত শুনানি করে দেওয়া হয় সাজা। মুক্তি মেলে দীর্ঘ কারাভোগের পর।
দ্বিতীয় দফায় ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে, গায়ের জোরে প্রেসে তালা লাগিয়ে আমার দেশ-এর প্রকাশনা বন্ধ করে দেয় হাসিনা সরকার। কমান্ডো স্টাইলে অভিযান চালিয়ে একই দিন সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে দ্বিতীয় দফায় গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে দিনের পর দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়। নিক্ষেপ করা হয় কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। টানা সাড়ে তিন বছর জেলে থাকার পর ২০১৬ সালের নভেম্বরে জামিনে মুক্তি পান মাহমুদুর রহমান।
এআরবি