বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মামলায় কারাবন্দি জওয়ানদের পরিবার এবং চাকুরিচ্যুত সদস্যরা বুধবার থেকে ঢাকায় আন্দোলন করে আসছিলেন। চাকরি ফিরিয়ে দেয়া ও কারাবন্দি জওয়ানদের মুক্তিসহ তিন দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছিলেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শত শত মানুষ। ।
টানা দুই দিন আন্দোলনের পর ঢাকার কর্মসূচি আপাতত সমাপ্তি টেনে সকলের নিজ নিজ জেলায় গণসংযোগ ও মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেন ভূক্তভোগীরা।
নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী, শুক্র ও শনিবার নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ চালানোর পাশাপাশি আগামী রোববার জেলায়-জেলায় মানববন্ধন করবেন তারা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন ভূক্তভোগীদের পাশে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সমন্বয়ক মাহিন সরকার।
রাজধানীতে আসা এসব ভুক্তভোগী মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা এখন নিজ নিজ জেলায় ফিরে গিয়ে শুক্র ও শনিবার প্রচারপত্র বিতরণসহ গণসংযোগ চালাবেন। “আগামী রোববার জেলায়-জেলায় প্রেস ক্লাবের সামনে বিডিআর কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে মানববন্ধন করবেন। রোববারের পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।"
২০০৯ সালে হাসিনা সরকারের সময়ে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর থেকে কারাগারে আটক রয়েছেন অনেক বিডিআর সদস্য, চাকুরিচ্যুত হয়েছেন অনেক। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এসব বিডিআর সদস্যদের স্বজনরা সম্প্রতি তাদের মুক্তির দাবি তুলেছেন। এরই অংশ হিসেবে বিডিআর স্বজনরা রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।।
তাদের তিন দফা দাবি হল কারাবন্দিদের মুক্তি; পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলা বাতিল, চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল ও পুনর্বাসন এবং পিলখানা হত্যা মামলায় পুনঃতদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
বুধবার শহীদ মিনারে মানববন্ধন করার পর তারা প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দিতে রাষ্ট্রীয় বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন। কিন্তু শাহবাগ মোড়ে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে একটি প্রতিনিধিদলকে স্মারকলিপি দিতে যায়। রাতে তারা শহীদ মিনারে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটায়।
বৃহস্পতিবার সকালে দ্বিতীয় দিনের মত শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। দুপুরে তারা সেখান থেকে উঠে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। যার নাম দেয়া হয় শাহবাগ ব্লকেড কর্মসূচি।
কর্মসূচির সমাপ্তি টানতে গিয়ে মাহিন সরকার বলেন, "দুইদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত বিডিআর সদস্য ও তাদের পরিবার এখানে অবস্থান করছেন। গতকাল সমাবেশ করার পরও পজেটিভ রেসপন্স পাইনি। বৃহস্পতিবার আমরা শাহবাগ ব্লকেড করেছি। “জনদুর্ভোগ যেন না হয়, তাই সে কর্মসূচি স্থগিত করে দুই ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আসি। এ আল্টিমেটামের শেষ দিকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।”
তিনি বলেন, "বিডিআরের গ্রেপ্তার সদস্যদের জামিন শুনানি বকশীবাজারে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে এজলাসে আগুন দিয়ে নথিপত্র পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে স্বাভাবিক বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।
"সরকারের সঙ্গে অন্য কোনো মহলের চাপ আছে কি না, সেটি তাদের আচরণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পরবর্তী শুনানির তারিখ ১৯ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা মনে করেছি, শুনানির সময় অনেক বেশি দীর্ঘ। আমরা মনে করি একটি বিশাল ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী এখানে রয়েছে।