ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিটি নাগরিকের এবং এ দেশে সবার সমান অধিকার ও সমান কর্তব্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি বলেন, অতীতে মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণ-অভ্যুত্থানের রাজপথে কেউ কারও ধর্ম নিয়ে বিভেদ করেনি; এ দেশে সবাই প্রথমে মানুষ এবং বাংলাদেশি।
সোমবার রাতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী পূজা মণ্ডপে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আজকের এই আয়োজন আনন্দের আয়োজন, একটি মিলনমেলা। এখানে উপস্থিত এবং দেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের জানাই আন্তরিক শারদীয় শুভেচ্ছা। আমাদের সবচেয়ে বড় এবং প্রথম পরিচয় হলো—আমরা প্রত্যেকেই এই দেশের সন্তান, আমরা সবাই বাংলাদেশি।’
ঐতিহাসিক ঐক্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, তখন এই দেশের মানুষ স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনতে অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তখন কেউ বিবেচনা করেনি কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। একইভাবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও মানুষের রাজনৈতিক ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমেছিল।
নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, ‘ধর্ম যার যার হতেই পারে—আমার একটি ধর্ম, আপনার আরেকটি ধর্ম; কিন্তু এই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি আমাদের সবার। এই দেশের প্রতি আপনার যেমন অধিকার ও কর্তব্য রয়েছে, আমারও ঠিক তেমনই অধিকার ও কর্তব্য রয়েছে। রাষ্ট্র হিসেবে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া যেমন রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব, তেমনি আমাকেও নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’
তিনি আরো যোগ করেন, একজন বিপদে পড়লে অন্যজন পাশে দাঁড়ানো এবং একে অপরকে রক্ষা করাই হওয়া উচিত সবার মূল দায়িত্ব। ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে সবাইকে মানুষ ও বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।