বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক
সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূস। গতকাল বুধবারের এসব বৈঠকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের গত ১৬ বছরে পাচার হওয়া শত শত কোটি ডলার দেশে ফিরিয়ে আনতে বিদেশি বন্ধুদের কাছে সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, এদিন ড. মুহাম্মদ ইউনূস জার্মানির ফেডারেল চ্যান্সেলারির প্রধান এবং ফেডারেল মন্ত্রী, জার্মানির ফেডারেল চ্যান্সেলারি উলফগ্যাং স্মিথ, বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংটার্ন সিনাওয়াত্রা, সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল কাউন্সিলর ফর এয়ার ফরেন ডিপার্টমেন্টের ইগনাজিও ক্যাসিস, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সংস্কৃতি ও শিল্পকলা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শেখা লতিফা বিনতে মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদি, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সাবেক মার্কিন বিশেষ দূত জন কেরি এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা।
এসব বৈঠকে শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশে কীভাবে প্রকাশ্য ও দিবালোকে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছিল তা খতিয়ে দেখতে শীর্ষ বিশেষজ্ঞ, থিংক ট্যাংক, সাংবাদিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজিবিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ এবং জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক আরিফুল ইসলাম।
জার্মানমন্ত্রী উলফগ্যাং স্মিথকে চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকারের প্রচেষ্টা সম্পর্কে অবহিত করেন লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি জানান, সরকার এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি সম্পদ পুনরুদ্ধার কমিটি এবং একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের জন্য প্রাথমিকভাবে ২০ শীর্ষ টাকা পাচারকারীকে চিহ্নিত করেছে সরকার।
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জার্মানমন্ত্রীকে বলেন, আমরা যখন নতুন বাংলাদেশের কথা বলি, তখন পরিষ্কার বাংলাদেশের কথাও বলি।
প্রধান উপদেষ্টা এ প্রভাবে জার্মানির সমর্থন চেয়েছেন এবং জার্মানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়েও আলোচনা করেছেন। জার্মানমন্ত্রী বলেন, এপ্রিলে একটি নতুন জার্মান ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে।
ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ নেপালের জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনা অন্বেষণের জন্য ভারত, নেপাল এবং ভুটানকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চায়।
প্রধান উপদেষ্টা সুইস ফেডারেল কাউন্সিলর ইগনাজিও ক্যাসিসের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জলবায়ু অর্থায়নসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেছেন। তিনি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে কার্বন ধরে রাখার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে সহায়তার জন্য সুইজারল্যান্ডকে অনুরোধ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার পরিকল্পনা এবং আগামী সাধারণ নির্বাচনের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিশ্বনেতাদের অবহিত করেন।
জার্মানমন্ত্রী ও সুইস কাউন্সিলরের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা করেন।
বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপ এবং কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেডির সঙ্গে তার সাক্ষাতের সময়, প্রধান উপদেষ্টাকে জানানো হয়েছিল যে, কীভাবে বেলজিয়ামের রাজপুত্রের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ দ্বারা চালু করা একটি ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি আফ্রিকান দেশে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বন সংরক্ষণের আকারকে প্রসারিত করতে সহায়তা করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংটার্ন সিনাওয়াত্রার সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট এবং নৌপরিবহনসহ অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা করেন। সিনাওয়াত্রা বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের পর দুই দেশের মধ্যে যুবকদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে তার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। থাই প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের এপ্রিলে ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ড. ইউনূস বলেছেন যে, তিনি সংস্থার পরিকল্পিত শীর্ষ সম্মেলনে বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য উন্মুখ।
প্রধান উপদেষ্টা আসিয়ানের একটি সেক্টরাল সংলাপ অংশীদার হতে এবং এর ফলে সংস্থার পূর্ণ সদস্য হওয়ার জন্য থাইল্যান্ডের সমর্থনও চেয়েছিলেন।