হোম > জাতীয়

বাজেটে আশার চেয়ে শঙ্কাই বেশি, জবাবদিহি ও বাস্তবতার প্রশ্নে সরব বক্তারা

রাজধানীতে বাজেট সেমিনার

স্টাফ রিপোর্টার

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ঘিরে অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিক, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা নানা প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, প্রস্তাবিত বাজেট আশার চেয়ে আশঙ্কাই বেশি। তাদের মতে, বাজেটের আকার বড় হলেও বাস্তবায়ন সক্ষমতা, রাজস্ব আহরণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে সুস্পষ্ট ও কার্যকর রূপরেখার ঘাটতি রয়েছে। উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে বাজেট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বক্তারা সতর্ক করে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে বড় বাজেটও কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারবে না।

বুধবার (১৭ জুন) পুরানা পল্টনের ইআরএফ মিলনায়তনে ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট: উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওআইআরডি) আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব।

ওআইআরডির নির্বাহী পরিচালক ও সিটি ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. জুলফিকার হাসান স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বাজেটের সঙ্গে মানুষের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও জীবনযাত্রার প্রশ্ন জড়িয়ে থাকে। সরকার বাজেটকে জনবান্ধব হিসেবে উপস্থাপন করলেও এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে হলে বরাদ্দ, বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে ওআইআরডি ফেলো ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক ড. যোবায়ের আহমেদ। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের বেশ কয়েকটি লক্ষ্য বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার তুলনায় অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। তিনি মনে করেন, বিদ্যমান প্রবৃদ্ধির হার থেকে এক বছরে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এবং একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রাও বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণের ওপর বাড়তি নির্ভরতা ভবিষ্যতে অর্থনীতির জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে না পৌঁছালে দলীয়করণ ও দুর্নীতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তিনি মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থানের সংকটকে বাজেট বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বেকারত্ব কমানোর জন্য কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো রোডম্যাপ নেই। তিনি ব্যাংকিং খাতের সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্য আর্থিক খাতকে দুর্বল করে দিয়েছে।

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া ফুয়াদ বলেন, নতুন বাজেটের আগে আগের বাজেটের ব্যয় ও ফলাফল নিয়ে পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দুর্নীতি ও অপচয়ের কারণে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার হলে উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পিস স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, বাজেট আলোচনায় জাতীয় নিরাপত্তা, ভূ-রাজনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলো প্রায়ই আড়ালে থেকে যায়। তিনি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন, কৃষি এবং উৎপাদনশীল খাতে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের সময় কত অর্থ অপচয় বা দুর্নীতির মাধ্যমে হারিয়ে যাচ্ছে, তা নির্ণয়ে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। প্রতিটি খাতে কার্যকর পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান অর্থপাচার, ভুয়া প্রকল্প এবং শিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক বলেন, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পেলে উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে উঠতে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সংকটের অন্যতম কারণ নৈতিকতার অবক্ষয় ও জবাবদিহির ঘাটতি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় কেবল নীতিমালা নয়, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমও গুরুত্বপূর্ণ। বাজেটকে সংখ্যার হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনগণের কল্যাণ, জাতীয় স্বার্থ এবং সুশাসনের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।


এমএমআর

সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

অস্বচ্ছল পরিবারের সক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠবে ফ্যামিলি কার্ড: ডিসি ফরিদা

অবৈধভাবে গ্রিস যাত্রা: ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার এক

পুলিশের ১২ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি

মামলার কারণে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ আটকে রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রস্তাবিত বাজেট শ্রমিকবান্ধব নয়, এলিটবান্ধব

স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়লেই হবে না, অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে

সংসদে অতিরিক্ত ওজনের চেয়ার স্থাপনের কারণ জানালেন এমপি জয়নাল আবদিন

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের প্রশংসায় শিশির মনির

সংসদে কওমি আলেম-ওলামাদের জন্য বাজেটে বরাদ্দের দাবি মুফতি মুহাম্মদুল্লাহর