পরিবেশ উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, পেশাদার সাংবাদিকতা গড়ে তুললে কোনো সরকারই দমন করার সাহস পাবে না। এমন চর্চা তৈরি হলে যে কেউ সাংবাদিকদের দমন করার আগে দুইবার ভাববে।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে জুলাই রেভল্যুশনারি জার্নালিস্ট’স অ্যালায়েন্স (জেআরজেএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মত বা দলীয় পরিচয় থাকতে পারে। কিন্তু সাংবাদিকতা করার সময় দেশের মানুষ সাংবাদিকদের কাছ থেকে বস্তুনিষ্ঠতা প্রত্যাশা করে। এছাড়া, সংবিধানে মানুষের বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সংগঠনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব অধিকার অন্তরে ধারণ করেই সাংবাদিকদের আইনের কাঠামোর ভেতর থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে মতবিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু সাংবাদিকতা করার সময় মূল লক্ষ্য হতে হবে বস্তুনিষ্ঠতা। সংবাদ বস্তুনিষ্ঠভাবে পরিবেশন করা হয়েছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষণে ভিন্নমত থাকতে পারে, কেউ খুশি হতে পারে, আবার কেউ নাও হতে পারে। তবে নিজের মত অনুযায়ী বিশ্লেষণ করার অধিকার সাংবাদিকের রয়েছে।
আইন প্রণয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রচারসহ সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর খসড়া জনমতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। খসড়া মানেই চূড়ান্ত নয়। যুক্তিসংগত মতামত পেলে তা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। সব দাবি পূরণ না হলেও আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়ন করাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা আরও বলেন, গণতন্ত্র শুধু নির্বাচন দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় না। গণতন্ত্র রক্ষায় সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। পটপরিবর্তনের পর সাংবাদিকদের আনুগত্য পরিবর্তনের অভিযোগ থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে পেশাগত উত্তম চর্চার মাধ্যমে।
জুলাই রেভল্যুশনারি জার্নালিস্টস অ্যালায়েন্সের সভাপতি আব্দুল্লাহ তুহিনের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক কেফায়েত শাকিলের সঞ্চলনায় এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি উবায়দুর রহমান শাহিন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, জেআরজেএ'র সদস্য সচিব ইস্রাফিল ফরায়েজি, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক জয়নাল আবেদিন শিশির, সাংবাদিক ও গবেষক প্লাবন তারিক প্রমুখ।