হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ এলাকায় সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাতের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আলোচনায় প্রশ্ন উঠেছে, বারবার একই কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে এর পেছনে অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতি রয়েছে কি না।
রোববার দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কার্যালয়ে এ বিষয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা), প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশে ডিএইচএল এক্সপ্রেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিয়ারুল হক, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সিএন্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে যা উঠে এসেছে
বৈঠকে তদন্ত কমিটি জানায়, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা তথ্য-উপাত্ত, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনাটির প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন দিক গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সব আলামত ও তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।
অগ্নিকাণ্ডের পর প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনার কথা জানা গেছে। তবে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, শর্ট সার্কিট হবে কেন? এর আগেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই কারণ উঠে এসেছিল। তাহলে কোথাও না কোথাও নিশ্চয়ই গাফিলতি রয়েছে, সেটি আমাদের স্বীকার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটিকে দ্রুত প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কারও অবহেলা বা দায়িত্বহীনতার প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
শুক্রবার রাতে আগুন লাগে
গত শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১১টা ২৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো বিভাগের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন একটি কুরিয়ার কনটেইনারে আগুন লাগে। খবর পেয়ে বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং ইউনিট এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনার পর আগুনের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কাঠামোগত দুর্বলতার দিকেও নজর
তদন্তসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু তাৎক্ষণিক কারণ শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়; পুরো কার্গো ব্যবস্থাপনার অবকাঠামোগত দুর্বলতা, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণের মানও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন প্রতিনিধি উল্লেখ করেন, অতীতের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রেও শর্ট সার্কিটের বিষয়টি সামনে এসেছিল। ফলে বারবার একই ধরনের ব্যাখ্যা আসায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা জানান, এটি কেবল প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ। আগুনের প্রকৃত কারণ, দায়-দায়িত্ব এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অবহেলা ছিল কি না, তা চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এমএমআর