বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় দপ্তরটি ‘নীরবতা’ ভেঙে আবার ‘সরব’ হয়ে উঠেছে। সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে সকাল থেকে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সরব উপস্থিতি।
বেলা ১১টায় বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অফিসে এলে কর্মী-সমর্থকেরা তাকে স্বাগত জানান।
নয়াপল্টনে এসে পৌঁছালে প্রধান ফটকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিএনপির সহদফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, তারিকুল ইসলাম তেনজিং ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। পরে বিএনপি মহাসচিব তৃতীয় তলায় নিজের চেম্বারে গিয়ে বসেন।
সেখানে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য সালেহ উদ্দিন, হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সহসভাপতি তপন কুমার মজুমদারসহ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফুল দিয়ে বিএনপি মহাসচিবকে শুভেচ্ছা জানান।
এয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরে এই প্রথম বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এলেন।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি প্রায় নেতা-কর্মীশূন্য ছিল, অলস সময় কেটেছে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
সোমবার সকালে দেখা গেল উল্টো চিত্র। অফিস কর্মীরা আনন্দ-উৎফুল্ল, সাজগোছ করা হয়েছে ব্রিফিং কক্ষ।
বিএনপি দপ্তরের কর্মকর্তা রেজাউল করীম বলেন, ‘মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যার আসবেন, সে জন্য সকাল থেকে আমরা রেডি ছিলাম। স্যার এসেছেন আমাদের ভালো লাগছে।'
একজন অফিস কর্মী বলেন, ‘গত ছয়টি দিন একেবারে ফাঁকা ছিল, নেতা-কর্মী কেউ সেভাবে আসেনি। আমাদের কাজকর্ম ছিল না।'
‘আজকে অনেকে আসছেন, স্লেগান দিচ্ছেন, গমগম করছে অফিস।'
পল্টনে মহানগর বিএনপির কর্মী আবদুল হালিম বলেন, ‘মহাসচিব আসবেন জেনে সকাল ১০টায় পার্টি অফিসে এসেছি। সঙ্গে আরও কয়েকজন এসেছেন। গত কয়েক দিন ছিল বিএনপি অফিসটা একেবারে নীরব। লোকজন সেভাবে দেখিনি।’
‘আজকে এসে মনে হচ্ছে অফিস প্রাণ ফিরে পেয়েছে।’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তৃতীয় তলায় নিজের চেম্বারে বসেন। চেম্বারে বসে বিএনপি মহাসচিব দপ্তরের সহসম্পাদকদের নিয়মিত অফিস করার নির্দেশ করেন।
তিনি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজকর্মের খোঁজ-খবর নেন এবং সবাইকে নিয়মিত অফিসে থাকতে বলেন। তিনি তাদের বলেন, ‘আপনারা নিয়মিত অফিস করবেন, কোনো কাজ ফেলে রাখা যাবে না। নেতা-কর্মীরা দূর-দূরান্ত থেকে এলে তাকে সহযোগিতা করবেন। এটাতে যেন কোনো শিথিলতা না হয়।’
নয়াপল্টনের অফিসে প্রায় ৪৫ মিনিট অবস্থানের পর বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সচিবালয়ের উদ্দেশে অফিস ত্যাগ করেন।