আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের দায়ের হওয়া সব গায়েবি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর সাতদিনের মধ্যে প্রত্যাহার হবে ২৫ জেলার আড়াই হাজার মামলা। এসব মামলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কয়েক লাখ আসামী। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল অন্তর্বর্তী সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আজ মঙ্গলবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ড. আসিফ নজরুল সরকারের সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা জানান। এসময় তিনি উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে কাউন্সিল গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি, সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার, স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস প্রতিষ্ঠা, বিবাহের ক্ষেত্রে কর প্রত্যাহার, অনলাইন সত্যায়ন, বিভিন্ন আইনের সংস্কার, জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের অগ্রগতি, ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনাকে ফেরত আনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
গায়েবি ও রাজনৈতিক হয়রানি মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, আপনারা অবগত আছেন বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার কোনো অভিযোগ ছাড়াই গায়েবি মামলা দিয়ে হাজার হাজার বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে হয়রানি ও নির্যাতন করেছে। আমরা এসব মামলা যাচাই বাচাই ও যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া মেনে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। হাসিনার পতন ও পলায়নের পর সারা দেশের আদালতের সাড়ে চার হাজার পিপি (আইন কর্মকর্তা) পালিয়ে গেছে। আমরা নতুন করে এসব আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। ইতোমধ্যে ২৫ জেলার আড়াই হাজার মামলার তালিকা আমরা পেয়েছি। এক সপ্তাহের মধ্যে এসব মামলা বাতিল হয়ে যাবে। বাকি জেলার মামলাগুলোর তালিকা এবং আরও কোনো গায়েবি মামলা থাকলে সেগুলোরও তালিকা চেয়েছি। ফেব্রুয়ারির মধ্যে সেগুলোও বাতিল হয়ে যাবে।
বিচারের জন্য শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়ে আসিফ নজরুল বলেন, আমরা বিচারের জন্য ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে চিঠি দিয়েছি। ভারত এখনও পর্যন্ত কিছু বলেনি। এরইমধ্যে শেখ হাসিনার নামে রেড এলার্ট জারি করার প্রক্রিয়া চলমান আছে। ভারত তাকে ফেরত না দিলে দু’দেশের মধ্যকার পত্যর্পণ চুক্তির লংঘন হবে বলেও জানান তিনি। আসিফ নজরুল বলেন, শেখ হাসিনাকে বিচারের জন্য ফেরত আনার বিষয়ে সরকার প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ফোরামে যাবে এবং যে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন সেটাও নেবে।
সাইবার আইনের দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকারের আমলে সাইবার নিরাপত্তা আইনের ৩৩২টি মামলা পর্যালোচনা করা হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব মামলা প্রত্যাহার হয়ে যাবে। আইনটি বাতিল বা সংশোধনের বিষয়ে আইসিটি মন্ত্রণালয় যাচাই বাচাই করছে। আমরাও একটি মতামত দিয়েছি। আশা করি, খুব শিগগিরই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
উচ্চ আদালতে বিচারক পদে সৎ, দক্ষ, দলনিরপেক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞরা যাতে নিয়োগ পান এজন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল এপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল নামে একটি নিয়োগ কমিটি করা হবে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও একজন কর্মরত বিচারপতি, হাইকোর্টের দুইজন বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সমন্বয়ে এ কাউন্সিল হবে।
গণহত্যাকারীদের বিচার আগে হবে নাকি জাতীয় নির্বাচন আগে হবে? একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে বিচারের কোনো সম্পর্ক নেই। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। আর বিচার করবে স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল। হাজারো ছাত্র-জনতাকে হত্যাকারীদের বিচারের বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল ও দেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ। গণহত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের জন্য প্রয়োজনে আরও একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে বলেও জানান আইন উপদেষ্টা।