ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি স্থাপন, তা অপসারণ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাবি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আবু তৈয়ব হাবিলদার। সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি এই ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।
পডকাস্টে আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, সাধারণ মানুষের রক্ত ও জীবনের বিনিময়ে সফল হওয়া আন্দোলনের ফসল যদি যুদ্ধাপরাধী ও তাদের অনুসারীরা ভোগ করে, তবে তিনি কখনোই এ আন্দোলনে অংশ নিতেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা জুলাইয়ে লড়াই করেছি, তাদের ত্যাগের বিনিময়ে যদি রাজাকার ও তাদের সন্তানরা ক্যাবিনেটে কিংবা সংসদে যায়, এটা যদি জানতাম, তাহলে খোদার কসম আমি এই আন্দোলন করতাম না।’
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল দুর্নীতি, দলবাজি ও স্বৈরাচারমুক্ত একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করা; কিন্তু বর্তমানে আন্দোলনের মূল শক্তি সাধারণ মানুষকে পাশ কাটিয়ে স্বার্থান্বেষী মহল এর সুবিধা নিচ্ছে।
ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি স্থাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিন্নাহর চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের কারণেই ১৯৪৮ সালের মার্চে ভাষার দাবিতে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের সূচনা হয় এবং ছাত্রদের গ্রেপ্তার করা হয়। ফলে ডাকসুর ইতিহাসে কখনোই তাকে নায়ক হিসেবে স্থান দেওয়া হয়নি। ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব নির্বাচনি ইশতেহারের বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা থেকেই জিন্নাহর ছবিটি সরিয়েছেন উল্লেখ করে তৈয়ব বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের নির্দেশে নয়, বরং ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি দায় থেকেই তিনি করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদে মীর জাফরের মতো বিতর্কিত চরিত্রের ছবি স্থাপন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
একই সঙ্গে তিনি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জামায়াতে ইসলামী ও গোলাম আযমের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশকে অস্বীকার করে কোনো অপশক্তিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।’ পরিশেষে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস লালন করতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।