সংবাদ সম্মেলনে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা
ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলনের অনুরোধে রোজায় লেবু, তেল ও চিনিসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা।
সোমবার দুপুরে কারওরান বাজারের কিচেন মার্কেটে ইসলামিয়া শান্তি সমিতির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দাম কমানোর এ ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা। মাহে রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এতে সংহতি প্রকাশ করে ঢাকা-১২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন বলেন, ‘কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের কিছু জায়গায় চাঁদা দিতে হয়। যে কারণে তারা সেটা পণ্যের দামে যোগ করেন। কারওয়ান বাজারে শুধু মুরগি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা নিচ্ছে একটি দল। এসব বন্ধ করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাহায্য লাগবে। আমি ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানিয়েছি পণ্যের দাম কমাতে। তারা আমার আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ দাম কমিয়েছি। কারও ওপর চাপিয়ে দিতে চাইনি। রমজানের দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা থেকে লাভের আংশ থেকে তারা এ ছাড় দিয়েছেন। আমি ব্যবসায়ীদের কনভিন্স করে দাম কমাব। তাদের জোর-জবরদস্তি করে পায়ে ঠেলতে চাই না, বুকে ধরে দাম কমাতে চাই।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রতি পিস লেবু ২ টাকা, তেল প্রতি লিটারে ১ টাকা, চিনি প্রতি কেজি ১ টাকা, ছোলা ২ টাকা, ট্যাং ২০০ গ্রামের প্যাকেটে ৫ টাকা, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৩০ টাকা ও মিনিকেট চালের দাম প্রতি কেজি ১ টাকা কমিয়ে বিক্রির ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা।
এ সময় কারওয়ান বাজার পাকা মার্কেট আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আমরা শ্রীমঙ্গল থেকে ১১ থেকে ১২ টাকা পিস লেবু কিনি। সেটা কারওয়ান বাজারে এনে ৫ ক্যাটাগরিতে আলাদা করে বিক্রি হয়। কিছু লেবু ৩-৪ টাকা বিক্রি হয়, আবার ভালো বড় লেবু দাম ১৭ টাকায়ও বিক্রি হয়। আমরা এখন থেকে প্রতি লেবুতে ২ টাকা কমিয়ে দেব। অর্থাৎ যে লেবুর দাম ১৭ টাকা ছিল, সেটা ১৫ টাকায় বিক্রি হবে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে সব তেল বিক্রেতার পক্ষে আখি ইন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমরা ৫ লিটার তেল ৯২০ টাকা বিক্রি করি। গায়ের দাম আরও বেশি, ৯৫০ টাকা। এখন থেকে প্রতি ৫ লিটারে আরও ৫ টাকা ছাড় দেওয়া হবে।
কিচেন মার্কেটের সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বলেন, চিনি প্রতি কেজি প্যাকেটের গায়ের দাম ১০৫ টাকা, যা ১০২ টাকায় আমরা কারওয়ান বাজারে বিক্রি করতাম, এখন থেকে ১০১ টাকা বিক্রি করবো।
ছোলার দাম প্রসঙ্গে কুমিল্লা স্টোরের কর্ণধার গোফরান বলেন, এতদিন আমরা ছোলা ৮০ টাকা কিনে ৮৫ টাকা কেজি বিক্রি করেছি, এখন লাভ ২ টাকা কমিয়ে ৮৩ টাকা বিক্রি করবো।
রমজানের প্রয়োজনীয় আরেক পণ্য ট্যাংয়ের দাম নিয়ে একজন ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে ২ কেজি জার ট্যাং ১ হাজার ৯০০ টাকা এমআরপিতে বিক্রি হয়। আমাদের কারওয়ান বাজারে বিক্রি হতো ১ হাজার ৫৮০ টাকা। এখন ১ হাজার ৫৬০ টাকা বিক্রি হবে। ছোট পেপার বক্স ৩৮০ টাকা বিক্রি হবে, যা আগে ৩৮৫ টাকা ছিল।
মাংস ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখন থেকে আমরা ৩০ টাকা কমে ৭৫০ টাকায় প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি করবো।
চাল ব্যবসায়ীরা বলেন, আগে মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ২ টাকা লাভ করতাম, এখন ১ টাকা লাভে মিনিকেট চাল ৮০ টাকা থেকে ৮১ টাকায় বিক্রি করা হবে।