নৌপরিবহন, রেলপথ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আনতে নৌবাণিজ্য খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কাজ করছে। সরকার এরইমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং, এনসিটি, বে-টার্মিনালের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নৌবাণিজ্য খাতে বিনিয়োগ করতে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এজন্য আমাদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়াতে হবে। তা না হলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং বিশ্ব সামুদ্রিক দিবস পালন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এবিএম শামীম।
মেরিনারদের প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনার বিষয়ে কাজ করার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা মেরিনারদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাই এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে চাই। ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ শেষে জাহাজে চাকরি করার ক্ষেত্রে এক বছরের ট্রেনিংয়ের একটা বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেটা কীভাবে কমিয়ে আনা যায় অথবা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি জাহাজে চাকরি শুরু করার বিষয়ে নতুন করে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার। পাশাপাশি বিদেশি জাহাজগুলোতে চাকরি করার ক্ষেত্রে ভিসা জটিলতা নিরসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তা দূর করা হবে।
নৌপরিবহনমন্ত্রী এ ধরনের অনুষ্ঠানে আরও কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ৬৪ কেজির কেক বানাতে হবে—এ ধরনের কালচার থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করতে হবে কেন? আমরা বিদেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাই, সেখানে খাবারের মেনু থেকে শুরু করে সবকিছু অত্যন্ত সাধারণ। তারা তো উন্নত দেশ। সক্ষমতা থাকলেই অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে, তা কিন্তু নয়।
মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এবিএম শামীম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, নীতি থেকে বাস্তবায়ন এবং সম্ভাবনা থেকে উৎকর্ষের পথে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে টেকসই অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। তিনি দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপদ নেভিগেশন, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি ৬৪ বছর ধরে মেরিটাইম শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে আসছে। একাডেমির প্রশিক্ষিত পাঁচ হাজারের বেশি মেরিনার দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ও বিশ্বের বিভিন্ন মেরিটাইম প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। একাডেমি থেকে ১২৫ জনের বেশি নারী মেরিনার প্রশিক্ষণ শেষে বাণিজ্যিক জাহাজে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা শোভাযাত্রায় অংশ নেন এবং সফেদা, আমলকী ও আমড়ার চারা রোপণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা কেক কেটে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেন।