পরিবেশমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
বুধবার আগারগাঁওস্থ বন অধিদপ্তরে এ বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ, বন ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বৈঠকে সবুজ উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময়, দূষণ রোধ এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পরিবেশমন্ত্রী বাংলাদেশে বায়ু, পানি ও শব্দ দূষণ রোধে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নে চীনের ক্রমাগত সহযোগিতা কামনা করেন।
আলোচনাকালে মন্ত্রী বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। যা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বছরে ৫ কোটি হারে বাস্তবায়িত হবে। তিনি আরও জানান, আগামী ১৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভায় গৃহীত পরামর্শের আলোকে মন্ত্রণালয় একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে এবং মে মাস থেকে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি শুরু হবে, যা সরকারের জন্য অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হবে।
চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নে চীনের অব্যাহত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালীকরণ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের বায়ুদূষণ রোধে চীনের পক্ষ থেকে একত্রে কাজ করার আগ্রহও ব্যক্ত করেন।
সাভারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের "আমিনবাজার ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ" প্রকল্পের মাধ্যমে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে আলোচনা করেছে এবং আশা করা যাচ্ছে যে সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সচিব আরও বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে চীনের সাফল্য বাংলাদেশের জন্য অনুসরণীয় এবং এ খাতে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর ও ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে।