এবারের অমর একুশে বইমেলায় কালো তালিকাভুক্ত প্রকাশকদের প্যাভিলিয়ন বাতিল করেছে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ।
বৈষম্যবিরোধী সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি ও বাংলাদেশ সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মেলা পরিচালনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
যেসব প্রতিষ্ঠানের প্যাভিলিয়ন বাতিল করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছেÑ তাম্রলিপি, কাকলী প্রকাশনী, পাঠক সমাবেশ, পুঁথিনিলয়, সময়, মিজান পাবলিশার্স, চারুলিপি, জিনিয়াস পাবলিকেশন, নালন্দা, পার্ল পাবলিকেশন, বিশ্বসাহিত্য ভবন, শব্দশৈলী। অন্যপ্রকাশ, আগামী প্রকাশনী ও অনুপম প্রকাশনীর প্যাভিলিয়ন সাইজ ছোট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব সরকার আমিন, কবি ও সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় কবিতা পরিষদের আহ্বায়ক কবি মোহন রায়হান, প্রকাশক প্রতিনিধি সাঈদ বারী, মো. গফুর হোসেন, আবুল বাশার ফিরোজ, আরিফুর রহমান নাইম, মাহবুব রাহমান, মো. জহির দীপ্তি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই বিপ্লবের পর থেকেই বৈষম্যবিরোধী সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি দালাল প্রকাশকদের কালো তালিকা করে এদের বয়কটের জন্য সোচ্চার আন্দোলন গড়ে তুলে। এক পর্যায়ে বাংলাদেশ সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি এবং জাতীয়তাবাদী সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ যুক্তভাবে তিন সংগঠন দালাল প্রকাশকদের বাংলা একাডেমিতে প্যাভিলিয়ন না দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন এবং প্রতীকী অনশন করে।
এবার মেলার পরিধি আরও বাড়বে। নতুন প্রকাশক প্রতিষ্ঠান যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১০০টি। আগে প্রতি বছর চার থেকে সাড়ে ৪০০ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণ করে আসছে। এর মধ্যে প্যাভিলিয়ন ৩৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান, চার ইউনিট ২৫টি প্রতিষ্ঠান, তিন ইউনিট ৫০টি প্রতিষ্ঠান, দুই ইউনিট ১৬৫টি এবং এক ইউনিট ১৬৬টি প্রতিষ্ঠান।
বৈষম্যবিরোধী সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হাসান বলেন, এটা আমাদের একার না সম্মিলিত নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ প্রকাশকদের বিজয়। এজন্য বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। তবে আগামী, অন্যপ্রকাশ ও অনুপমকে ছাড় দেওয়া যাবে না। এরা বড় দালাল। তিনি বলেন, প্রকাশকদের প্রাণের দাবি স্টল ভাড়া অর্ধেক কমানোর ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।