গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা-পরিপন্থী, লুটপাট ও পাচারমুখী এবং উৎপাদন ও উৎপাদকবিরোধী বাজেট সংশোধনের দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কর্মসূচির অংশ হিসেবে পথসভা, গণসংযোগ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন।
ঢাকা, কুড়িগ্রাম, রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, গাজীপুর, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, সুনামগঞ্জ, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ, পাবনা, শেরপুর ও সাতক্ষীরাসহ দেশের ২৩টি জেলার ৩২টি স্থানে আজ সংগঠন তিনটি যৌথভাবে এই কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচিতে সংগঠনগুলোর আঞ্চলিক ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ জনগণ অংশ নেন।
দেশব্যাপী এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা জেলার কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা ও কেরানীগঞ্জে মানববন্ধন, পথসভা ও গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়। কারওয়ান বাজার পথসভায় অংশ নেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিজামউদ্দিন ঠাকুর মানু, ইবনুল সাঈদ রানা, জহিরুল ইসলাম কাজল; অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দীন এবং জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমেদ।
পথসভার সভাপতিত্ব করেন অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নজরুল হক। সঞ্চালনা করেন রাজনৈতিক সংগঠক ফিরোজা বেগম।
পথসভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, ৫৫ বছরের ধারাবাহিকতায় এবারের বাজেটেও উৎপাদন, কৃষি, ব্যবসা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিবর্তে এমন নীতি ও অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হয়েছে, যা সম্পদ কেন্দ্রীকরণ, লুটপাট ও অর্থ পাচারকে নিরুৎসাহিত করার পরিবর্তে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক অর্থনৈতিক কাঠামোকেই বহাল রেখেছে। এবারের বাজেটে ৩ লাখ কোটি টাকা পাচারের সুযোগ আছে। গণমানুষের স্বার্থ, জাতীয় অর্থনীতির বিকাশ এবং উৎপাদনমুখী বৈষম্য হ্রাসের প্রশ্নে বাজেটে স্পষ্ট রূপরেখা না থাকায় নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য শক্তির বিকাশ এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতির পরিবর্তে পুরনো লুটপাট ও অর্থপাচারের উপযোগী মডেলকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণে বাজেটে যেটুকু নির্দেশনা রাখা হয়েছে, তা দেশের বর্তমান সংকট ও চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল, দায়সারা এবং অপর্যাপ্ত।
এই অমিত সম্ভাবনাময় খাতের জন্য যতটুকু গুরুত্ব সহকারে ও পরিপূর্ণভাবে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা, গবেষণা ও রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ থাকা দরকার ছিল, প্রস্তাবিত বাজেটে তার তীব্র ঘাটতি রয়েছে। অথচ তীব্র জ্বালানি সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ এবং জলবায়ু ঝুঁকির বাস্তবতায় নবায়নযোগ্য শক্তিই হতে পারে টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
এ সময় বাজেট সংশোধনের দাবিতে আগামী ২৭ জুন ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে নাগরিক আলোচনা সভা করারও ঘোষণা দেওয়া হয়। আজ দেশব্যাপী পরিচালিত গণসংযোগ থেকে সাধারণ নাগরিকের যে বাজেট ভাবনা ও মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে, তা আগামী ২৭ তারিখের কেন্দ্রীয় সভা থেকে সংশোধনী প্রস্তাব আকারে জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।
নেতৃবৃন্দ দেশের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক, পেশাজীবী এবং স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনসমূহকে আজকের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তা সফল করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং একই সঙ্গে ২৭ তারিখের কেন্দ্রীয় আলোচনা সভায় সক্রিয় অংশগ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানান।