বাংলাদেশে কৃষকের ব্যবহৃত কীটনাশকের বাজারের আকার প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। তবে এই বাজারের প্রায় ৯৫ শতাংশই তৈরি পণ্য আমদানিনির্ভর। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র ৫ শতাংশ। আমদানি করা সক্রিয় উপাদান (অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট) দিয়ে দেশে উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা পরিবহনসহ নানাভাবে ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব বলে মনে করছে বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বামা)।
গতকাল সোমবার ঢাকার ঢাকা ক্লাবে বামা আয়োজিত ‘বাংলাদেশ পেস্টিসাইডস মার্কেট অ্যান্ড গ্লোবাল ট্রেন্ডস’ শীর্ষক আলোচনায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে দেশের কীটনাশকের বাজার, আমদানি, স্থানীয় উৎপাদন ও রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বামার উপস্থাপনা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট কীটনাশক আমদানি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সক্রিয় উপাদান আমদানি হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টন, যা মোট আমদানির প্রায় ৫ শতাংশ। বাকি প্রায় ১ লাখ ৯০০ টন এসেছে তৈরি কীটনাশক হিসেবে। অর্থাৎ দেশে ব্যবহৃত কীটনাশকের বড় অংশই সরাসরি বিদেশ থেকে তৈরি পণ্য হিসেবে আসছে।
অন্যদিকে, দেশে ২২টি স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সক্রিয় উপাদান আমদানি করে কীটনাশক তৈরি করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার টন। বিপরীতে তৈরি কীটনাশক আমদানির সঙ্গে যুক্ত আমদানিকারকের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০-এর বেশি।
বামার হিসাবে, সক্রিয় উপাদান আমদানির অংশ মোট আমদানির ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা গেলে প্রায় ২৫ হাজার টন সক্রিয় উপাদান আমদানি করা সম্ভব হবে। এই পরিমাণ কাঁচামাল ব্যবহার করে দেশে প্রায় ১ লাখ টন তৈরি কীটনাশক উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হতে পারে। এতে স্থানীয় চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ পূরণের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে পরিবহন ব্যয়ও কমবে। বামার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে তৈরি কীটনাশক আমদানিতে বছরে প্রায় ৫ হাজার ২০ ফুট কনটেইনার প্রয়োজন হয়। সক্রিয় উপাদান আমদানি করে দেশে উৎপাদন বাড়ানো গেলে কনটেইনারের প্রয়োজন প্রায় ৭৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৫০টিতে নেমে আসতে পারে। এতে বছরে প্রায় ৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪০ কোটি টাকা পরিবহন ব্যয় সাশ্রয় হতে পারে।
দেশে কীটনাশকের ব্যবহারও বাড়ছে। বামার উপস্থাপনায় বলা হয়, কৃষকের ব্যবহারের হিসাবে বর্তমানে এই বাজারের আকার প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ধরে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাজারটি ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে।