গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রশাসনের মাধ্যমেই তাদের রাজনৈতিক ইশতেহার বাস্তবায়ন করে থাকে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে এবং সেটি সরকারি প্রশাসনের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করছে। এটি একদম স্পষ্ট ও স্বাভাবিক কথা।’
রোববার বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিপিএটিসি) ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে যেকোনো রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস বা সমর্থন থাকতেই পারে, এতে দোষের কিছু নেই। তবে পদ ও দায়িত্ব ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন না করে তা কেবল ভোটের মাধ্যমে ব্যালট পেপারে প্রয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের যুক্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা জনগণের সামনে আমাদের ইশতেহার বা এজেন্ডা তুলে ধরেছিলাম। জনগণ ভোটের মাধ্যমে সেই ইশতেহারকে সমর্থন জানিয়ে আমাদের সরকার গঠনের ম্যান্ডেট দিয়েছে। ফলে এটি এখন আর কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ইশতেহার নয়, এটি সমগ্র দেশের অধিকাংশ জনগণের ম্যান্ডেট ও সরকারের নীতিতে (Government Policy) পরিণত হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশেই এই চর্চা হয়ে থাকে। জনগণের দেওয়া দায়িত্বের ভিত্তিতে সরকার যে নীতি গ্রহণ করে, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে তা বাস্তবায়ন করাই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মূল সাংবিধানিক দায়িত্ব।
প্রশাসনিক কাজের দীর্ঘসূত্রতা দূর করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য (Red Tape) কাটিয়ে সেবাপ্রক্রিয়াকে সহজ ও নাগরিকবান্ধব করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন।
বক্তব্যের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, জনসংখ্যার ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশে পরিবেশ দূষণমুক্ত ও সুস্থ রাখা কোনো দলীয় বিষয় নয়; বরং ব্যক্তি, পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্যের স্বার্থেই এটি প্রত্যেক নাগরিকের অন্যতম জাতীয় কর্তব্য।