সংসদে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীয় আওতাভুক্ত সুবিধাভোগীদের সমন্বিতভাবে একই ছাতার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।
রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রথমে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন।
কুষ্টিয়া-১ আসনের রেজা আহাম্মেদ চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতার ভাতা সরবরাহ পর্যায়ে নানা অনিয়মের খবর পাওয়া যায়। অনেকের কাছে টাকা দাবি করা হয়। এটা অবশ্যই একটি দুর্নীতি। আমাদের চেষ্টা থাকবে সরবরাহ কার্যক্রমের বিষয়টি যতটা সম্ভব স্বচ্ছতার মধ্যে নিয়ে আসা।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ফ্যামিলি কার্ড নামে বড় একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি। আমরা ক্রমান্বয়ে চেষ্টা করব একটি সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে সমস্ত সুবিধাভোগীকে একটি পরিবারের আওতায় নিয়ে আসার। বর্তমানে আমরা অত্যন্ত ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থায় বিরাজ করছি। এর থেকে দেশকে যেমন উঠিয়ে দাঁড় করাতে হবে, তেমনি আমরা চাইব সুবিধাভোগীরা যেন উপকৃত হয়। এর জন্য প্রয়োজন একটি সম্মিলিত কাঠামোর মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের একটি সুবিধাজনক জায়গায় নিয়ে যাওয়া।’
নোয়াখালী-২ আসনের জয়নাল আবেদীন ফারুকের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যে তালিকাটা আমাদের হাতে রয়েছে, তা আমরা যাচাই করছি। ফ্যাসিস্ট আমলে যে তালিকা থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে যেসব অনিয়ম হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা সংশোধন করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় নিয়ে আসব।’
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে তালিকা তৈরিতে অনেক স্বজনপ্রীতি করা হয়েছিল। আমরা চেষ্টা করছি ভাতা পাওয়ার যোগ্য প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করার। বিদ্যমান তালিকা যাচাই করে আমরা এটা করব। এ লক্ষ্যে আমরা কাজও শুরু করেছি।’
নড়াইল-২ আসনের আতাউর রহমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সব ধরনের স্বজনপ্রীতি ও বণ্টন পর্যায়ের সব ধরনের অনিয়মের ঊর্ধ্বে উঠে স্বচ্ছতার মাধ্যমে কাজ করতে চাই। বিগত সময়ের না পাওয়ার বেদনাসহ নানা তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। এর থেকে বেরিয়ে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চাই। এজন্য আমরা সমতা বজায় রেখে সুবিধাগুলো দেওয়ার চেষ্টা করব।’
সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, ‘দেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে, নিয়োগের যোগ্যতা ও সনদ নিয়ে একটি জটিলতা রয়েছে। আশা করছি এটি কাটিয়ে শিগগিরই আমরা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সক্ষম হব। এ ক্ষেত্রে কারিআনা পাশধারীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মকে প্রাধান্য নিয়ে আমরা কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি ‘
এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকার শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি সিস্টেম চালু করেছিল। আমার কাছে এটাকে যুক্তিসংগত মনে হয়নি। আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য আমরা অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সবার অভিমত নিয়ে ভর্তির বিষয়ে চিন্তা করব। আমরা ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোকে সরকারের আওতায় এনে দেশের নিয়মকানুন মেনে যুগোপযোগী করা যায় কি না, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা ইবতেদায়ি ও কওমি শিক্ষাসহ সব শিক্ষাব্যবস্থাকে সমন্বিত শিক্ষা পদ্ধতির আওতায় আনার কাজ করছি। এটা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের করা এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এহসানুল হক বলেন, সরকার নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বর্তমান সরকার এগুলোর মানোন্নয়নের বিষয়ে বদ্ধপরিকর। সরকার নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে এহসানুল হক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য নতুন করে আবেদন আহ্বান করবে সরকার। পুরাতন আবেদনগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে।