সন্ত্রাস দমন, টহল কার্যক্রম জোরদার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সক্ষমতা বাড়াতে ১৬৩টি যানবাহন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব গাড়ি সংগ্রহে ব্যয় হবে ১২২ কোটি ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘র্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য যানবাহন সংগ্রহের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। পর্যালোচনা শেষে কমিটি এতে সম্মতি দেয়।
অনুমোদিত তালিকায় রয়েছে ৩টি জিপ, ১০০টি প্যাট্রল পিকআপ ও ৬০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাস। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মাধ্যমে দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব যানবাহন সংগ্রহ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত ২৭ জানুয়ারি অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) বৈঠকে প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদন পায়। পরে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।
জানা গেছে, গত ৫ এপ্রিল অর্থ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে সব ধরনের যানবাহন ক্রয়ে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলেও দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং র্যাবের অভিযানে গতিশীলতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষ অনুমোদনের আবেদন করে। সেই প্রেক্ষাপটেই প্রস্তাবটি অনুমোদন পেয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, যানবাহনের ঘাটতির কারণে বিভিন্ন এলাকায় র্যাবের টহল ও অভিযান পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছিল। বাহিনীকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে প্রকল্পটির আওতায় নতুন যানবাহন যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর অনুমোদিত হয়। এর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। চলতি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রকল্পটির অনুকূলে ১৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।