হোম > জাতীয়

গভীর সংকট থেকে আর্থিক খাত স্থিতিশীলতায়

সৈয়দ মিজানুর রহমান ও কাওসার আলম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করছে। নতুন সরকারের জন্য অর্থনীতিতে বড় সুখবর হচ্ছে, দীর্ঘ সময়ের অস্থিরতা, অনিয়ম ও লুটপাটে ধসেপড়া অর্থনীতির সংকট থেকে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে এখন দেশের আর্থিক খাত।

আওয়ামী লুটপাটে বিনিয়োগে মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি, রপ্তানি আয়ে ভাটা, বৈদেশিক ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েছিল দেশ। একই সঙ্গে ধস নামে শেয়ারবাজারে। পুরোপুরি ভেঙে পড়ে ব্যাংকব্যবস্থা। পাহাড়সম খেলাপি ঋণ রেখে যায় লুটেরা আওয়ামী লীগ সরকার। এমন এক অচল অর্থনীতির হাল ধরেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের বিদায়ের আগে বিনিয়োগে বড় কোনো চমক ছাড়া আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতাকেই সফলতা বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

তাদের মতে, ডলারের বিনিময় হারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য ঈর্ষণীয়। বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বিপুল পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করলেও অর্থনীতিতে তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া আর্থিক খাতের সংস্কারের রূপরেখা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী দিনে অর্থনীতির চাকা সহজেই ঘুরে যাবে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ড. এম মাসরুর রিয়াজ আমার দেশকে বলেন, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে খাদের কিনারে থাকা একটি অর্থনীতি পেয়েছিল। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে সে অর্থনীতিকে খাদে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতসহ আর্থিক খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, লুটপাট ও দুর্নীতির প্রবণতা বন্ধে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ফলে অর্থনীতির নিম্নগামিতা থেমে গিয়ে স্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গভীর সংকটময় অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে বের করে পুনরুদ্ধারের ধারায় ফিরিয়ে এনেছে । এখন প্রয়োজন ধারাবাহিক সংস্কার ও পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থনীতিকে পূর্ণগতিতে ফিরিয়ে আনা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আর্থিক খাতের সংস্কার, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ ও অনিয়ম প্রতিরোধে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বিতরণ বন্ধ হয়েছে এবং ব্যাংকিং খাত ধীরে ধীরে সুসংগঠিত কাঠামোয় ফিরে আসছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতিগত ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে, যা নতুন সরকারের জন্য ইতিবাচক সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা আরো বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতির ক্ষতগুলো চিহ্নিত করে লুটপাট বন্ধ করেছে, টাকা পাচার বহুলাংশে রোধ করেছে। হুন্ডির প্রভাব কমিয়ে রেমিট্যান্স বাড়িয়েছে। নিম্নমুখী রিজার্ভকে করেছে ঊর্ধ্বমুখী। বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স-প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়েছে, আমদানি ব্যয় নির্বাহ সহজ হয়েছে এবং টাকার মান স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা মিলেছে। এর ফলে দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য ও বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি আরো নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। ভবিষ্যতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও শিল্প উৎপাদন সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতিতে আরো গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তথ্যানুযায়ী, আওয়ামী লীগের শেষ সময়ে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকর আর্থিক ও মুদ্রানীতির ফলে গত জানুয়ারি মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে। যদিও এটি এখনো কিছুটা উচ্চমাত্রায়, তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসার এই প্রবণতা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে।

একইভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। অব্যবস্থাপনা ও অর্থপাচারের কারণে আওয়ামী লীগের শাসনামলে রিজার্ভ তলানিতে নেমে এলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রিজার্ভ পুনরুদ্ধার হয়েছে। বৈধ রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, বৈদেশিক ব্যয়ের সুশাসন ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার ফলে রিজার্ভের অবস্থান এখন অনেক বেশি স্থিতিশীল। এই শক্তিশালী রিজার্ভ দেশের আমদানি ব্যয়, ঋণ পরিশোধ ও সামগ্রিক আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশের গ্রোস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার বিপ্লবে পতন হওয়া ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলের শেষ সময়ে গ্রোস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২০ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রিজার্ভ বেড়েছে ১৪ বিলিয়ন ডলার।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় রিজার্ভের অবস্থা ছিল দুর্বল। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ শক্তিশালী রিজার্ভ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন সরকারের জন্য একটি দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করেছে।

এদিকে আওয়ামী সরকারের আমলে ভুয়া আমদানিসহ নানা উপায়ে অর্থপাচারের ঘটনা ঘটে। এর ফলে দেশের মুদ্রাবাজারেও চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। ২০২২ সালে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৫ টাকা। কিন্তু দুই বছরের ব্যবধানে সে ডলারের দর বেড়ে দাঁড়ায় ১২০ টাকায়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ডলারের মূল্য বাজারভিত্তিক করা হলেও ডলারের বিপরীতে টাকার মুল্যমান স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ১২১-১২২ টাকার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। ডলারের দর ধরে রাখার জন্য বাজার থেকে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর ঠিক বিপরীত চিত্রই ছিল আওয়ামী লীগের শাসনামলে। বাজার স্থিতিশীল রাখার কথা বলে ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভের ডলার বিক্রি শুরু করেছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত টানা তিন বছর ধরে রিজার্ভ থেকে বিক্রি করা হয় প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার।

আওয়ামী লীগ আমলে বাণিজ্যিক ভারসাম্যেও বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। সে ঘাটতি কাটিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তা উদ্বৃত্ত অবস্থায় এসেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বৈদেশিক লেনদেনে বাণিজ্যিক ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৬৬০ কোটি ডলার। সে ঘাটতি কাটিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উদ্বৃত্ত হয়েছে ৩২৯ কোটি ডলার। চার অর্থবছর পর অর্থনীতিতে বাণিজ্য ভারসাম্যে উদ্বৃত্তের এ ঘটনা ঘটে। মূলত আমদানির কমে রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে ডেটা ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা লুকিয়ে রাখার যে প্রবণতা ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে সঠিক চিত্র তুলে ধরেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আওয়ামী সরকারের আমলে রপ্তানি আয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সংশয়, সন্দেহ রয়েছে। মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অর্থনীতির একটা ভালো চেহারা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা ছিল আওয়ামী লীগের শাসনামলে।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে ব্যাংকিং খাতের একটি চিত্র তুলে ধরা যেতে পারে। শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি, এক্সিম ব্যাংক, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূতকরণের মাধ্যমে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে একটি নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। অথচ এসব ব্যাংকের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ খেলাপি হয়ে গিয়েছিল। শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা ঋণাত্মক পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের আমলে এসব ব্যাংক মুনাফা দেখিয়েছিল। ব্যাংকের খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যেতে পারে। আওয়ামী লীগের আমলের শুরুতে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকার মতো। আওয়ামী লীগের পতনের সময় তা দেখানো হয় দুই লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে একের পর এক খেলাপি ঋণের তথ্য বেরিয়ে আসতে থাকে। লুকানো এ খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। আওয়ামী লীগের আমলে ব্যাংকিং খাত লুটেরা গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। চট্টগ্রামের বিতর্কিত ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমের নিয়ন্ত্রণেই ছিল ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো।

ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও খেলাপি ঋণের বাস্তব চিত্র সামনে এনে তা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ শনাক্তকরণ, ঋণ আদায়ে কঠোরতা এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতকে আরো স্থিতিশীল করবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির সুযোগ বন্ধ করার মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত আরো মজবুত হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, উদ্যোক্তা খাত ও উৎপাদন খাতকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, রিজার্ভের ওপর পূর্বের চাপ এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে। ভবিষ্যতে সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে অর্থনীতি দ্রুতগতিতে প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, অর্থনীতির মূলভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এখন প্রয়োজন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সুশাসন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও উৎপাদন সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া। তিনি আরো বলেন, বর্তমান আর্থিক ভিত্তি দেশের অর্থনীতিকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় এনে দিয়েছে এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে সাফল্য দেখালেও সরকারের ভেতরেরই একটি অংশের কারণে আর্থিক খাতের সংস্কার পথভ্রষ্ট হয়েছে।

নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ

অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিপর্যস্ত পরিস্থিতি থেকে অর্থনীতিকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে আসতে সমর্থ হলেও নতুন সরকারের জন্য বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দুর্বল রাজস্ব আয়ের কারণে ব্যয়ের ঘাটতি পূরণে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২৫) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদেশি ঋণের বোঝাও আগামী সরকারের জন্য একটা সংকট তৈরি করতে পারে। ইআরডির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় আট শতাংশ বেশি।

এদিকে দেশি ঋণও বেড়েছে। গত অর্থবছরের ১০ দশমিক ৭৬ ট্রিলিয়ন টাকা থেকে বেড়ে এটি বর্তমানে ১১ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। ঋণ ও ঋণের সুদ মওকুফেও সরকারকে চাপের মুখে পড়তে হবে।

অন্যদিকে চলতি বছরের নভেম্বরে এলডিসি উত্তরণের কথা রয়েছে বাংলাদেশের। এলডিসি উত্তরণের ফলে রপ্তানিসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, সেটাও মোকাবিলা করতে হবে নতুন সরকারকে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, ব্যাংকিং খাতসহ আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, ইশতেহারে যেসব প্রতিশ্রুতি রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নেও সরকারকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

শপথ নিতে সংসদ ভবনে আসছেন নবনির্বাচিত এমপিরা

নতুন আইজিপি হওয়ার চেষ্টায় তিনজন, পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ

জামায়াতের উত্থানে ভীতি ছড়াচ্ছে ভারতীয় মিডিয়া

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কৃষিখাতে স্বস্তি বিরাজ করছে

এলপি গ্যাসে ভ্যাট কমাল সরকার

গণতন্ত্রের যে চর্চা শুরু হয়েছে, তা যেন কখনো থেমে না যায়

কারওয়ান বাজার ও পুরান ঢাকার আগুন নিয়ন্ত্রণে

পুরান ঢাকায় জুতার কারখানায় আগুন , নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট

জনগণের এমপি হবেন বলে প্রত্যাশা করি: সৈয়দ আবদাল আহমদ

যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে যা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার