বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। দুর্ঘটনার পর আটক করেও ছেড়ে দেওয়া ১৬ বছর বয়সী কিশোরকে পরে আবার হেফাজতে নিয়ে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। এর আগে মামলায় তার নাম না থাকায় এবং গাড়ির চালক হিসেবে ৪৪ বছর বয়সী আকাশ মারকের নাম আসায় প্রশ্ন উঠেছিল—দুর্ঘটনার সময় স্টিয়ারিংয়ে আসলে কে ছিলেন?
পুলিশের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে কিশোরের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার অপর আসামি আকাশ মারক এখনো পলাতক। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়িটি জব্দ রয়েছে। গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৪ বছর বয়সী মেহেদী। তার বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।
আটক, মুক্তি, ফের গ্রেপ্তার
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া লোকজন গাড়ির চালকের আসনে থাকা কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। তবে প্রথম দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তখন পুলিশের ভাষ্য ছিল, উত্তেজিত জনতার হাতে কিশোরটি যাতে হামলার শিকার না হয়, সে জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তখন তাকে প্রয়োজন হলে আবার হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী তদন্তে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা জানিয়ে আজ বুধবার তাকে আবার হেফাজতে নেওয়া হয়। গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন জানান, কিশোরকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মামলায় নাম ছিল না কিশোরের
নিহত মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে গুলশান থানায় মামলা করেন। এজাহারে গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারকের নাম উল্লেখ করা হয়। সেখানে কিশোরকে আসামি করা হয়নি। এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেন আকাশ। এতে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর থেকে আকাশ পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলায় কিশোরের নাম না থাকার কারণ জানতে নিহতের ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এজাহারে আকাশের নাম আসার পেছনে বাদীর বক্তব্য বা ঘটনার অন্য কোনো বিবরণ এখনো জানা যায়নি।
সিসিটিভিতে যা ধরা পড়েছে
দুর্ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, কালো রঙের একটি গাড়ি দ্রুতগতিতে এসে ফুটপাতে উঠে পড়ে। সেখানে বসে থাকা মেহেদী গাড়ির নিচে চাপা পড়েন। পরে গাড়িটি সড়কবাতির খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। এরপর গাড়ি থেকে দুজনকে বের হতে দেখা যায়। চালকের পাশের দরজা দিয়ে কালো টি-শার্ট পরা এক কিশোর নামেন। অন্য পাশ দিয়ে বের হন শার্ট পরা মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি। লোকজন এগিয়ে এলে দুজন গাড়ির পাশে অবস্থান করেন। পরে কিশোরটিকে সরে যেতে দেখা যায়। জানা গেছে, গ্রেপ্তার কিশোর গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। গাড়িটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন।
কিশোরকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে দুর্ঘটনার সময় গাড়ির চালক কে ছিলেন, আকাশ মারক কীভাবে মামলার আসামি হলেন এবং কিশোরের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কী তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল, পরে তদন্তে নতুন কী পাওয়া গেল—সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয়ে গুলশান থানা পুলিশ কিছুই বলছে না। আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ডিএমপির মুখপাত্র, উপ-পুলিশ কমিশনার আকতার হোসেন আমার দেশ’কে বলেন, প্রাথমিকভাবে নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেছে, সেখানে চালক হিসেবে ওই কিশোর ছিল না বলে তখন বাদী জানিয়েছিল। পরবর্তীতে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই কিশোরকে হেফাজতে নেয়।