শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের কোন চিন্তা এখন পর্যন্ত সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন স্বল্প সময়ে সংস্কার কমিশন করে কোন কিছুই হবে না। শিক্ষা প্রশাসনকে আগে দুর্নীতিমুক্ত ও সুস্থির অবস্থায় আনতে হবে। শিক্ষার বিভিন্ন দপ্তরকে মেরামত করতে হবে। তারপর সময় পেলে শিক্ষার জন্য উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা যেতে পারে।
তিনি বুধবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব)-এর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব পরিকল্পনার কথা জানান।
মতবিনিময়কালে ইরাব সভাপতি ফারুক হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান সালমান, সাবেক সভাপতি সাব্বির নেওয়াজ, নিজামুল হক, শরীফুল আলম সুমন, শিক্ষা উপদেষ্টার একান্ত সচিব(উপসচিব) মো. আবু ওয়াদুদ, সিনিয়র তথ্য অফিসার সিরাজ-উদ-দৌলা খান, উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব মিস কামরুন নাহার সহ ইরাব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি কমলেও এখনও দুর্নীতি হচ্ছে জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষা অধিদপ্তরগুলোতে দুর্নীতি হচ্ছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হচ্ছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে। অনেক শিক্ষক-কর্মকর্তা দুর্নীতি করলেও তাদের বিষয়টি যাতে পরিদর্শন রিপোর্টে না আসে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের টাকা দেয়া হয়।
এদিকে শিক্ষকদের এমপিও পেতে ঘাটে ঘাটে দুর্নীতির বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ ও এমপিভুক্তি একসঙ্গে সম্পন্ন করা হবে।
গুচ্ছে থাকতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তিনবার চিঠি পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়ায় থাকাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তিতে কত টাকা ব্যয় হত; গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তারা কত টাকা আয় করছেন—এই দুটি বিষয়ের হিসাব নেওয়া হবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থা প্রথম খারাপ হয় ১৯৭২ সালে। বঙ্গবন্ধুর সময়ে শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন ইউসুফ আলী। তার একটা প্রচণ্ড ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তারা ভালো কলেজগুলোকে ইউনিভার্সিটি কলেজ বানিয়ে দিয়েছিল। এরপর পলিটিক্যালি সব কলেজগুলোকে জাতীয়করণ করা হলো। জাতীয়করণ না করলেও ব্যক্তি উদ্যোগে গ্রামে গ্রামে কলেজ গড়ে তোলা হলো, অনুমোদন নেওয়া হলো। এভাবে গড়ে উঠলো আজকের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এখন এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি বেকার।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকদের বেতন-ভাতার বিষয়টি অন্যায্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা প্রাথমিকের সমমান। অথচ প্রাথমিকে জাতীয়করণ করা হয়েছে কিন্তু ইবতেদায়ীকে বাইরে রাখা হয়েছে। তাদের সমস্যাটা জেনুইন, কিন্তু এই মুহূর্তে অনশন করে আমাদের বিব্রত করা ছাড়া আর কিছুই হবে না। এটি না করে বরং কি করে কি করা যায় সেই চিন্তা করতে আমাদের সময় দিতে হবে।