আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশের মেধাবী প্রকৌশলীদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে তাদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে দেশের উন্নয়ন ও শিল্পায়নে কাজে লাগানোর উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সরকার এ লক্ষে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবনবান্ধব কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে।
শনিবার রাজধানীর আইইবি ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা মেধা, প্রজ্ঞা, শ্রম, দেশপ্রেম ও পেশাগত দক্ষতায় সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। তবে দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো, উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের পর অনেক মেধাবী প্রকৌশলী বিদেশে স্থায়ী হয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জন্য এসব মেধাবী জনশক্তিকে দেশে ধরে রাখা প্রয়োজন।
মন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এর মধ্যে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের ভেতরে থেকেই নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, শিল্পায়ন এবং কৃষির আধুনিকায়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা, যেখানে প্রকৌশলীরা তাদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
আইনমন্ত্রী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ব্যয়-সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জনগণের করের টাকায় পরিচালিত প্রকল্পগুলো পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় যৌক্তিক ও সাশ্রয়ী রাখার বিষয়েও বিশেষ নজর দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে দেশের প্রকৌশলীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প সহনশীলতা, নিরাপত্তা, আলো-বাতাস ও পরিবেশগত বিষয়সমূহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়।
মন্ত্রী বলেন, একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনে প্রকৌশলীরা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দেশের মানবসম্পদকে বিশ্বমানের সম্পদে পরিণত করার লক্ষে সরকার কাজ করছে এবং এ যাত্রায় প্রকৌশলীদের সহযোগিতা অপরিহার্য।
এএস