রাজধানীর রায়েরবাজারের সাদেক খান কৃষি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে ৪৬ টি দোকান পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ৫ কোটি টাকা। বুধবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা বলছেন, আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, কয়েক মিনিটের মধ্যেই একের পর এক দোকান দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। শেষ পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে অন্তত ৪৬টি দোকান।
বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোররাত ৩ টা ৪০ মিনিটে দিকে আগুন লাগার খবর আসে নিয়ন্ত্রণকক্ষে। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট। তবে আগুনের তীব্রতা ও মার্কেটের ভেতরের দাহ্য উপকরণের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয় তাদের।
ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রোজিনা খাতুন জানান, প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে। এরপর একের পর এক ইউনিট যোগ দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় টানা এক ঘণ্টার চেষ্টার পর ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্কেটের ভেতরে প্রচুর প্লাস্টিকের ক্যারেট, কার্টন ও পাটের বস্তা থাকায় আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাদেক খান কৃষি মার্কেটটি মূলত পাইকারি সবজি ও কৃষিপণ্যের বড় আড়ত হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রায় ১৫০টি দোকান রয়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হয় কেনাবেচা। ফলে অধিকাংশ দোকানেই রাতে মালামাল মজুদ থাকে। আগুন লাগার সময় দোকানগুলো বন্ধ থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে, এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। কারণ অনেক দোকানে আগের রাতেই নতুন করে পণ্য তোলা হয়েছিল, যা আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এদিকে আগুনের মাঝেও কিছু মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হন ফায়ার ফাইটাররা ও স্থানীয়রা। প্রায় ৫০ লাখ টাকার সমমূল্যের পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবুও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মুখে এখন শুধুই হতাশা। একজন ব্যবসায়ী বলেন, “রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় গেছি, সকালে এসে দেখি কিছুই নেই। সব শেষ হয়ে গেছে।” আরেকজন জানান, “ঋণ করে মাল তুলেছিলাম, এখন কীভাবে তা শোধ করবো বুঝতে পারছি না।”
এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি—এটাই একমাত্র স্বস্তির বিষয়। তবে আগুনের ভয়াবহতা ছিল অনেক বেশি। প্রায় ১৮ হাজার বর্গফুট এলাকার মধ্যে থাকা অন্তত ৪২টি দোকান পুরোপুরি পুড়ে গেছে এবং আশপাশের আরও ৪ টি মিলিয়ে ৪৬ টি দোকান পুড়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন লাগার পরপরই চারপাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ পানির পাইপ ও বালতি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু আগুনের তীব্রতার কাছে তা ছিল অপ্রতুল।