হোম > জাতীয়

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার সুযোগ নেই

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকা শক্তি চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে অবিলম্বে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তারা বলেন, দেশের বন্দর বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই বন্দর ও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সরকারের জন্য অগ্নি পরীক্ষা। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। কেননা, এসব চুক্তির আড়ালে আমেরিকা আধিপত্য বিস্তার শুরু করে।

রোববার দুপুরে রাজধানীতে এক প্রতিবাদ সভায় তারা এসব মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে ‘দেশ বাঁচাও বন্দর বাঁচাও আন্দোলন’। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ এহসানুল হুদা। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বতা করেন। মোমিনুল আমিনের পরিচালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য সৈয়দ হাসান মারুফ রুমি ও সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, বিএনপি নেতা রাশেদ খান প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্যে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের সবচাইতে আধুনিক। নিউম্যুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল সবচাইতে আয়বর্ধক এবং সবচাইতে গতিশীল একটা বন্দর। এই বন্দরকে এই মুহূর্তে কারো কাছে ইজারা দেওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং এটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত যোগ্যতার সাথে পরিচালিত করছে। ভবিষ্যতেও এটা যে কোনো দেশীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালিত করবে। বিদেশিদের হাতে বন্দর তুলে দিলে বন্দরের সার্বভৌমত্ব স্পর্শকাতর বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তাসহ বৈদেশিক মুদ্রা আমাদের দেশ থেকে চলে যাবে। আমরা এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাবো এবং আমরা সবসময় চাইবো যে দেশীয় যারা ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো আছে তাদের সক্ষমতা যাচাই করে এ বন্দরকে তাদের দ্বারা পরিচালিত করা হোক।

সাইফুল হক বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও আমরা চট্টগ্রাম বন্দরকে হ্যান্ডেল করার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারিনি? যা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এটি আমাদের প্রধান সমুদ্র বন্দর এবং আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতির একটি চালিকা শক্তি ও হৃৎপিণ্ড। এটা কোনোভাবেই আমরা বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে পারিনা। বর্তমান বিএনপি সরকারকে এ বিষয়ে চুক্তি বাতিল করতে হবে। কথা পরিষ্কার। এমনিতেই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম বন্দর লাভজনক প্রতিষ্ঠান। যদি কোনো সীমাবদ্ধতা থেকে থাকে তবে সেটি উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। এটি আমাদের শেষ জায়গা। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে আরো উন্নত করতে যা করা দরকার করা হোক। কিন্তু কোনোভাবেই বিদেশিদের হাতে লিজ দেওয়া যাবে না।

ভারত দ্বিচারিতা করছে অভিযোগ করে সাইফুল হক আরও বলেন, তারা নিজেদের নাগরিকদের জবরদস্তি করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। যা আগ্রাসী তৎপরতা ও অন্যায়। এ ধরনের আচরণ অব্যাহত রাখলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়তে পারে। রামিসা হত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে রায় হলো ভালো কথা। কিন্তু এমন আরো রামিসা হত্যার বিচার এখনো হয়নি। সেগুলো নিয়েও এমন গতিতে বিচার হওয়া উচিত। না হলে সামাজিক অনাচার বন্ধ করা যাবে না।

শহীদ উদ্দীন মাহমুদ স্বপন বলেন, নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় অর্থনীতির প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠান। আমরা বহু বছর ধরে দেশের জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলন করে আসছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তো স্বার্থ বিরোধী চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে দিতে চায়। তারা তো ছিলো অনির্বাচিত। এখন নির্বাচিত সরকার কেনো সেই চুক্তি বহাল রাখবে? তাহলে ভরসা ও জবাবদিহিতা কোথায়? দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেনা। কারণ তাদেরকে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে। ফলে সরকারের উচিত হবে এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা।

সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আমাদের দেখতে হবে- চট্টগ্রাম বন্দর আমাদের সার্বভৌমত্বের জায়গা। আজকে বিদেশিরা আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ করতে চায়। আমাদেরকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করতে হবে।

বাসদের বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, সীমান্তে পুশইনের মাধ্যমে শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা করছে প্রতিবেশী দেশ। যদি কেউ অবৈধভাবে থেকে থাকে সে বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করা দরকার। সেইসঙ্গে আহ্বান থাকবে যাতে বাংলাদেশের হৃৎপিণ্ড চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে লিজ দেওয়া না হয়।

সভাপতির বক্তব্যে দেশ বাঁচাও বন্দর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে চেয়েছে। অথচ সেখানে বিনিয়োগের কোনো সুযোগ নেই। আমরা বিশ্বাস করতে চাই এখন দেশে নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সবার আগে বাংলাদেশ এই নীতিতে এগিয়ে যাবো। যেখানে মূলত দেশের স্বার্থ প্রাধান্য থাকবে। আমরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম বন্দরকে আরো উন্নত করতে চাই।

ঘুস-হয়রানি বন্ধে কঠোর বার্তা সচিব সভায়

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে চাকরি পেল আজন্ম দৃষ্টিহীন রাবি শিক্ষার্থী

সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি রোধে কঠোর নির্দেশ

কারখানায় সরবরাহ বেড়েছে, বাসাবাড়িতে গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট কাটবে কবে

হাজিদের কোনো কষ্ট, অবহেলা বা জুলুম সহ্য করা হবে না: ধর্মমন্ত্রী

সুশাসন ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

হিফজখানায় শিশুদের মারধর করা নাজায়েজ: মাওলানা আবুল বাশার

শিশুদের সম্ভাবনা বিকাশে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

ছোট্ট কাপড়ের দোকান থেকে ভিপি, সাদিক কায়েমের বেড়ে ওঠার নানা গল্প

টেকসই উন্নয়নে পারমাণবিক বিজ্ঞানকে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ: আইসিটিমন্ত্রী