লিবিয়া থেকে ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অন্তত ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। তবে একই নৌকা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ২৬ জনকে, যার মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি।
তবে এসব অভিবাসন প্রত্যাশীদের মৃত্যু নৌকা ডুবিতে নয় বরং নৌকায় যান্ত্রিক ত্রুটি থাকায় এবং প্রায় এক সপ্তাহ সাগরে ভাসমান থেকে অনাহারে এবং পিপাসার কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে নিখোঁজের পরিবার।
শনিবার রাত ১১টায় বিষয়টি আমার দেশ-কে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের পাইলগাঁও গ্রামের নিখোঁজ আমিনুর রহমানের ভাই মিজানুর রহমান।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার ভাইয়ের সাথে যারা অন্য নৌকায় যারা গেইম দিয়েছিলো তাদের মধ্যে একজন জানিয়েছে তাদের নৌকা গ্রিস পৌছেছে। কিন্তু অপর নৌকা অর্থাৎ আমার ভাই যে নৌকায় ছিলো সেটি মাঝ সাগরে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। মূলত তার কাছ থেকেই আমরা ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানতে পারি।
এসময় তিনি আরো বলেন, চতুর্দিক খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আমার ভাই যে নৌকায় ছিলো সেটি ছয় দিন সাগরে ভাসমান ছিলো৷ তাদের মধ্যে বেশিরভাগ অনাহারে, পানি পিপাসায় মৃত্যু হয়েছে। তবে যারা কিছু খাবার সাথে নিয়েছিলো এবং সাগরের পানি পান করতে পেরেছিলো তারা বেঁচে থাকতে পেরেছে
সর্বশেষ তথ্যনুযায়ী নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জের দশ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এরমধ্যে, দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সরদারের ছেলে নুরুজ্জামান ময়না (৩৮), আব্দুল গনির ছেলে সাজিদুর রহমান (৩২), মৃত কারী ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান এহিয়া (২৫) ও উপজেলার রনারচর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান(৪৫)।দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে ফাহিম আহমেদ মুন্না(২০)। এছাড়া জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
শুক্রবার ভোরে ক্রিট দ্বীপের কাছে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ এক নারী ও এক শিশুসহ ২৬ জনকে উদ্ধার করে। পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্যে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে অনেকের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং একজন চাদের নাগরিক। তাদের মধ্যে দু’জনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ক্রিটের হেরাক্লিয়ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।