বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, কর্মী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা ব্যবস্থা আরও সহজ ও সহজলভ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ জনগণের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা জরুরি।
বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভিয়েতনামের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত গুয়েন ম্যানহ কুঅং সাক্ষাৎ করতে এলে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ভিয়েতনামের সঙ্গে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তিনি বলেন, দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দু’দেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অংশীদারিত্বের ক্ষেত্র আরো সম্প্রসারণ করার জন্য ভিসা ব্যবস্থা সহজ করা প্রয়োজন।
এ সময় রাষ্ট্রদূত দুই রাজধানীর মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপন, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন ও উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রদূত ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে ভিয়েতনাম সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর ভিয়েতনাম সফরকালে উষ্ণ আতিথেয়তার স্মৃতিচারণ করে দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, বাইসাইকেল, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানিযোগ্য পণ্যের আমদানি বৃদ্ধির জন্য ভিয়েতনামের প্রতি আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।
বিদায়ী রাষ্ট্রদূতকে তাঁর সফল কর্মকাল এবং বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম সম্পর্ক উন্নয়নে অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরও তিনি দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে ভূমিকা রাখবেন।
রাষ্ট্রপতি ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূতের সুস্বাস্থ্য ও সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করেন এবং ভিয়েতনামের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিববৃন্দ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভিয়েতনাম দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।