রাজধানীর খিলক্ষেতে নিজের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে রহস্যময় পার্টি আয়োজনের ঘটনায় অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৯ অক্টোবর ভোররাতে পূর্বাচলের তিনশফুট সড়কসংলগ্ন পুলিশ হাউজিং আবাসিক এলাকায় ওই কর্মকর্তার ভাড়া দেওয়া বাড়িতে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। সেখান থেকে ৮৫ জন নারী ও পুরুষকে আটকের পর বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ‘পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হওয়া এবং জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন’ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ আদেশ ২৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।
একই সঙ্গে সাময়িক বরখাস্তের সময় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলে (পিএসটিএস) সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে পুলিশ সদর দপ্তরের রিয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখায় কর্মরত জহিরকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
আলোচিত ওই অভিযানের পর ডিবি জানায়, বাড়িটিতে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলছিল। অভিযানে গাঁজা, ইয়াবা, মদ ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ২৬ জন নারীসহ মোট ৮৫ জনকে আটকের তথ্যও জানায় ডিবি।
এ ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অতিরিক্ত এ ডিআইজিকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশে শনিবার বলা হয়, অভিযানের ঘটনা ও এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ফলে জনমনে পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে এবং জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি ‘চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে’।
অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের এ কর্মকাণ্ডকে ‘শিষ্টাচারবহির্ভূত, অকর্মকর্তাসুলভ এবং বিভাগীয় নিয়ম-শৃঙ্খলা পরিপন্থি’ বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ শাস্তিযোগ্য অপরাধে তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
একই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালে ওই কর্মকর্তা বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।
এআরবি