প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে। তবে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই কাজ করতে পারলে কাঙ্ক্ষিত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, এই সরকার গণতান্ত্রিক সরকার। সবাই ভালো থাকবো, একটি অংশ নয়, সমাজের সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে চাই- এটাই হোক স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার।
শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা হবে। তবে গবেষণা বা মন্তব্য এমন হওয়া উচিত নয়, যা দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অবমূল্যায়ন ঘটায়।
তিনি বলেন, অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, আর অতীত ভুলে গেলে দুই চোখই অন্ধ। অতীতকে ভুলে থাকা চলবে না, আবার অতীত নিয়ে পড়ে থাকলেও তা যেন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, আহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সাহসী জনগণের অবদান স্মরণ করছি। তাদের অনন্য অবদানে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষভাবে শহীদ জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার স্বপ্ন লালন করতেন। তার দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতি ও ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক নিবন্ধ তা প্রমাণ করে। ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত এই নিবন্ধে তিনি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে স্বাধীনতার ঘোষণার ঘটনা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বর্ণনা করেছেন, যা মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ কোনো এক দলের নয়, এটি ছিল 'জনযুদ্ধ'। লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষা করতে সকলের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খননসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, যা জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক—‘সমাজের একটি অংশ নয়, আমরা সবাই মিলে ভালো থাকবো’। আমরা সবাই মিলে ভালো থাকার চেষ্টা করবো এবং ভালো থাকবো ইনশাআল্লাহ।