সংসদে মন্ত্রী-এমপিদের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যক্রমে ছন্দপতন ঘটেছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রী ও সরকার দলের এক এমপি সংসদের বৈঠকে দেরিতে অংশ নেওয়ায় কার্যসূচির ব্যত্যয় ঘটিয়ে সোমবার স্পিকারকে অধিবেশন পারিচালনা করতে হয়েছে।
সংসদের বৈঠকও শুরু হয়েছে কিছুটা দেরিতে। অধিবেশন দেরিতে শুরু হওয়ায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রশ্নও তোলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকার দলের পক্ষ থেকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর যশোর সফরসহ কিছু কারণ উল্লেখ করা হয়।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, সংসদের কার্যক্রম যেকোন সরকারি কার্যক্রমের চেয়ে অগ্রাধিকার লাভ করে থাকে।
সোমবার বিকাল ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরুর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের ৬ মিনিট পরে শুরু হয়। বৈঠকে সভাপতির দায়িত্বে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করে জরুরি জন–গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের (বিধি–৭১) নোটিশগুলোর নিষ্পত্তি কাজ শুরু করেন। শুরুতেই তিনি নোটিশ উত্থাপনকারী বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য (নোয়াখালী) জয়নুল আবদিন ফারুককে আহ্বান করেন।
এরপরপরই তিনি বলেন, কিন্তু মন্ত্রী মহোদয় কী আছেন? স্পিকার তখন জয়নুল আবদিনকে একটু অপেক্ষা করতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী (স্বরাষ্টমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ) আসতে একটু দেরি হচ্ছে। এরপর সড়ক পরিবহন মন্ত্রী না থাকায় দ্বিতীয় নোটিশও (ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের) স্থগিত রাখেন স্পিকার।
অপরদিকে নোটিশ দাতা সদস্য সরকার দলের (সুনামগঞ্জ-১) কামরুজ্জামান কামরুল বৈঠকে তা থাকায় তার নোটিশের নোটিশের কার্যক্রম স্থগিত রেখে স্পিকার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা শুরু করেন।
সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রী ও একজন সংসদ সদস্য বৈঠকে উপস্থিত হলে ঘন্টাখানেক পরে স্পিকার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা স্থগিত রেখে আগের কার্যসূচি ভুক্ত ৭১ বিধির তিনটি নোটিশ নিষ্পত্তি করেন। নোটিশ নিষ্পত্তিকালে তৃতীয় নোটিশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান তিনি আগাগোড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। প্রশ্নকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
নোটিশ নিষ্পত্তির পর আবারো পয়েন্ট অব অর্ডারে একাধিক সংসদ সদস্য সংসদে কথা বলেন। এরপর স্পিকার আসরের নামাজের জন্য ৩০ মিনিটের বিরতি দেন। বিরতির শেষে আবারো রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় ফেরত যান স্পিকার।
এদিকে স্পিকার নোটিশের কার্যক্রম স্থগিত রাখে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় যাওয়ার আগে সরকার ও বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলেন।
সংসদ অধিবেশন দেরিতে উপস্থিত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, সংসদে আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি আছি। আমাদের কাছে জাতি সর্বাধিক পরিমাণ সহানুভূতি আশা করে।
গতকালকে (রোববার) সংসদ নির্ধারিত সময়ের আধাঘণ্টা পরে শুরু হয়েছে, আজও (সোমবার) কয়েক মিনিট পরে শুরু হয়েছে। দিনের কার্যক্রম শেষে পরের দিনের কার্যক্রম কখন শুরু হবে, তা বলা হয়ে থাকে। কিন্তু কোন কারণে এটা বিলম্বিত হয়, আমি মনে করে কার্যক্রম শুরুর পূর্বেই কারণটা জানিয়ে দেওয়া হোক, শুরুতেই জানানো উচিত। যা গতকালও বলা হয়নি, আজও বলা হয়নি। তিনি উপস্থিতির ব্যাপারেও আরও সতর্ক হওয়ার কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, দিনের অধিবেশন শেষে গতরাতে (রোববার) ডেপুটি স্পিকার সময় ঘোষণা করেছিলেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন বিকেল তিনটায় অধিবেশন বসবে। কিন্তু সংসদ সদস্যরা দেরিতে আসার কারণে অধিবেশন বিলম্বিত হয়েছে। আমি শুধুমাত্র অনুরোধ জানাতে পারি, পরবর্তী অধিবেশনের জন্য যে সময় ঘোষণা করা হবে, মাননীয় সদস্যগণ সে সময়মতো সংসদে উপস্থিত থাকলে কোন সমস্যা হবে না।
সংসদের বৈঠক দেরিতে শুরুর কারণ ব্যাখ্যা দিয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেন, সংসদ এ যাবতকাল সময়মতো বসেছে। শুধুমাত্র গতকালকে (রোববার) আমাদের সংসদীয় দলের বৈঠক ছিল। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি থাকায় প্রধানমন্ত্রীর আসতে ১০ মিনিট দেরি হওয়ার কারণে দেরি হয়েছে। এজন্য আমরা দুঃখিত। কিন্তু কথাটা হচ্ছে ১০ মিনিটের জায়গায় আধাঘণ্টা বললে সেটাতে দুঃখিত বলা যায় না, সেটা অসুবিধা। ভবিষ্যতে আমরা সতর্ক থাকব, যাতে দেরি না হয়, যাতে সময়মতো শুরু করতে পারি।
চিফ হুইপ বলেন, আজকে (সোমবার) প্রধানমন্ত্রী যশোর গিয়েছেন। সঙ্গত কারণে আমাদের অনেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরাও সেখানে গিয়েছেন। কাজেই সে কারণে আজকে একটু দেরি হতে পারে। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করব, যাতে ভবিষ্যতে সময়মতো আসি। সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সময়মতো অধিবেশনে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন চিফ হুইপ।
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, একটি বিষয় সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, সংসদের কার্যক্রম যেকোন সরকারি কার্যক্রমের চাইতে অগ্রাধিকার লাভ করে থাকে।
এদিকে সোমবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্যকে অনুপস্থিত দেখা গেছে। একজন সদস্য উপস্থিত থাকলেও তিনি প্রস্তুত নন জানিয়ে পরে বক্তব্য দেবেন বলে জানিয়েছেন।