তীব্র ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মে মাসের এই সময়ে এসে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার পাশাপাশি বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য বা অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে গরমের অনুভূতি বহুগুণ বেড়ে গেছে।
আবহাওয়া অফিস দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিলেও বাস্তব চিত্রে গরম থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় স্বস্তির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না; বরং মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হলেও তাতে ভাপসা গরম আরো বাড়তে পারে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে দেশের ওপর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগাম প্রভাব এবং বঙ্গোপসাগর থেকে উঠে আসা প্রচুর জলীয়বাষ্পের কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। থার্মোমিটারে তাপমাত্রা যা-ই দেখা যাচ্ছে, অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে মানুষের শরীরে গরম অনুভূত হচ্ছে তার চেয়ে ৪-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। ফলে সামান্য পরিশ্রমেও শরীর ঘেমে যাচ্ছে এবং একধরনের অস্বস্তিকর গুমোট পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী পাঁচ দিনের এই পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দেশের তিনটি বিভাগে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কিছু অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে সর্বোচ্চ ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া রাঙ্গামাটিতে ১১, বান্দরবনে ৬, কক্সবাজারে ৫, শ্রীমঙ্গলে ৩, পটুয়াখালী ও সীতাকুণ্ডে ২, নেত্রকোনায় ১ মিলিমিটার এবং বগুড়া ও খেপুপাড়ায় সামান্য বৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া রাজধানীসহ দেশের ৫১টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আর কোথাও বৃষ্টি হয়নি। আগের দিনের তুলনায় বুধবার তাপমাত্রা বেড়েছে। বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল লক্ষ্মী পুরের রামগতিতে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা আগের দিন যশোরে ছিল ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস । রাজধানীতে তাপমাত্রা বেড়ে হয়েছে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি; যা আগের দিন ছিল ৩৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি। গতকাল সকাল ৬টায় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ আর সন্ধ্যা ৬টায় ৬৩ শতাংশ।
অন্যদিকে আগের দিন চার জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও বুধবার পরিধি বেড়ে রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, টাঙ্গাইল, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর ও চাঁদপুরের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
জনজীবনে প্রভাব
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। রিকশাচালক, দিনমজুর ও হকারদের তীব্র রোদে কাজ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দুপুরের দিকে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল আগের তুলনায় বেশ কমে যাচ্ছে।
তীব্র গরমে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকেরা সুতি ও হালকা রঙের পোশাক পরার এবং প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ পানি, ডাবের পানি ও স্যালাইন খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের এই আবহাওয়ায় বাড়তি সতর্কতায় রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
পূর্বাভাস ও সতর্কতা
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দু-তিন দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে এই বৃষ্টিপাত একটানা না হওয়ায় এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায়, বৃষ্টির ঠিক পরপরই মেঘ কেটে গেলে রোদের কারণে গরম আরও বাড়তে পারে।
আপাতত দেশের কোথাও দীর্ঘমেয়াদি বা একটানা ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা কম, যার ফলে মে মাসের বাকি দিনগুলোতে এই ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি আরও কিছু সময় বজায় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এমবি