রাজধানীসহ দেশের আট বিভাগে বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১০৫ মিলিমিটার। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ১০৪, নেত্রকোনায় ১০১, পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ৯৯, নারায়ণগঞ্জে ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এদিন রাজধানীতে ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের ভাষায়, ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হলে সেটিকে বলা হয়ে থাকে অতিভারী বৃষ্টিপাত। এদিকে থেকে বুধবার দেশের ৫টি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ১০ জেলায় ভারী বৃষ্টি, ১৫ জেলায় মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি এবং ৯ জেলায় মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হয়েছে। এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সাতক্ষীরায় ৩৩ দশমিক ৬ এবং রাজধানীতে ছিল ২৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির প্রভাবে চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এসব নদী হলো ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা। এর মধ্যে মনু ছাড়া বাকি তিন নদীই নেত্রকোণা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির প্রভাবে দেশের পাঁচ জেলায় বন্যা হতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ জেলার মধ্যে ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনায় বন্যা শুরু হয়ে গেছে। বাকি তিন জেলায় বন্যা হতে পারে, কারণ এসব জেলার নদ–নদীর পানি বাড়ছে। এর মধ্যে এখন যে বৃষ্টি ঝরছে তা আরও অন্তত পাঁচ দিন থাকতে পারে বলে বৃষ্টির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বুধবার সকালে গণমাধ্যমকে বলেন, মৌলভীবাজার, নেত্রকোণা, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোণা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির জন্যই এ অবস্থা।
এদিকে আজ সকাল থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশে টানা ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাগুলোতে। আগামী ৩ মে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। এছাড়া সংস্থাটি নতুন করে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাত, সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর এবং নৌবন্দরসমূহে দুই নম্বর সতর্কবার্তা জারি করেছে। দেশের আবহাওয়ার এ পরিস্থিতিকে দুর্যোগপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করে ঝড় ও বজ্রপাতের বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক।
আবহাওয়াবিদ ড. বজলুর রশিদ আমার দেশকে বলেন, আগামী ৩ মে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেছেন, বুধবার সারাদেশে কমবেশি বৃষ্টি ও ঝড় হলেও দক্ষিণাঞ্চলে অর্থাৎ বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় অঞ্চলে বেশি বৃষ্টিপাত ও ঝড় হয়েছে। এ অবস্থা কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।
বুধবার ভোর থেকেই রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টি শুরু হয়ে চলে দুপুর পর্যন্ত। সকাল ৯টার দিকে ঝুমবৃষ্টি শুরু হলে ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী, স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী এবং খেটে খাওয়া দিনমজুরসহ নানা পেশার মানুষ। এদিকে ঝড়-বৃষ্টির কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে বুধবার ভোর ৬টা থেকে কয়েক ঘণ্টা ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকে।
বুধবার সন্ধ্যায় পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ দিন সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়া আগামী ৩ মে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাত অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
ঝড় সতর্কীকরণ বার্তায় বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে পশ্চিম কিংবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬১ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে বারবার ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যত্র একই দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ওইসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্যের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর কিছুটা উত্তাল রয়েছে। ছোট-বড় ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ছে। বাতাসের তীব্রতাও ক্রমেই বাড়তে শুরু করেছে। পুরো উপকূলের আকাশ ঘন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আছে। এতে দেশের চার সমুদ্র বন্দরকেই বারবার তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব মাছধরা নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ২০ এপ্রিল থেকে গত রোববার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়া। গত বুধবার চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।