স্বল্প সময়ের বৃষ্টিতেই তলিয়ে গেল রাজধানীর অধিকাংশ সড়ক। এতে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসীর। রোববার সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এতেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পানি ঢেউ খেলে। অফিস ছুটির পর ঘরমুখো মানুষকে পড়তে হয় ভয়াবহ বিড়ম্বনায়। সড়কগুলোতে দেখা যায় তীব্র যানজট।
২৮ ঘণ্টায় কোনো এলাকায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে ভারী এবং এর চেয়ে বেশি হলে অতিভারী বৃষ্টিপাত বলে গণ্য করা হয়। এদিক থেকে রোববার রাজধানী ঢাকায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়াও ফরিদপুর, মাদারীপুর, নীলফামারী, নেত্রকোনা, সিলেট, মৌলভীবাজার, কক্সবাজারের টেকনাফ ও কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে নীলফামারীর ডিমলায় ৮৭ মিলিমিটার।
এদিকে আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, সোমবারও রাজধানীতে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দুইদিন রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আষাঢ়ের শুরু থেকেই রাজধানীর আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকলেও এতোদিন উল্লেখ করার মতো তেমন বৃষ্টি হয়নি। এতে কয়েকদিনের টানা ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল রাজধানীর জনজীবন। সেই অস্বস্তি কাটিয়ে রোববার বিকাল ৫টার দিকে রাজধানীতে নামে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তির বৃষ্টি। মুষলধারে ঝরে পড়া বৃষ্টিতে ঢাকার তাপমাত্রা কমে স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে। রাত ১০ টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল।
কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরমের পর এমন বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের মাঝে আনন্দের ছোঁয়া দেখা গেছে। তীব্র গরমে বৃষ্টির শীতল হাওয়া যেন এক দারুণ উপহার হিসেবে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও রাজধানীবাসীকে বৃষ্টি ঝরার আনন্দ উদযাপনের ছবি ও অনুভূতি প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে।
তবে বৃষ্টির এই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি; মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরীর বেশির ভাগ সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে বরাবরের মতোই ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। বৃষ্টিতে ফুটপাতের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন। বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতায় ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজটে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং রিকশা ও সিএনজি চালকরা বাড়তি ভাড়া দাবি করায় সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গাড়ির ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বিভিন্ন সড়কে প্রাইভেট কার ও সিএনজি অটোরিকশাকে বিকল হয়ে পড়ে থাকতেও দেখা গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে গত কয়েকদিন ধরে যে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছিল, এই বৃষ্টির ফলে তা অনেকটাই কেটে গেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী আরো বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
বৃষ্টির কারণে কাজীপাড়া এলাকায় প্রধান সড়কেই কোমর পানিতে থৈ থৈ। নিউমার্কেট এলাকা সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। গ্রিন রোডজুড়ে পানি থৈ থৈ করার দৃশ্য দেখা দেয়। পুরাণ ঢাকার কাজী আলাউদ্দিন রোডও পানিতে তলিয়ে যায়। শান্তিনগর, মালিবাগ, মধ্য বাড্ডা, গ্রিন রোড, ধানমন্ডি ২৭, মিরপুরের শেওড়াপাড়া, মিরপুর ১০, ১৩ ১৪ নম্বর, সায়েদাবাদ, শনির আখড়া, পুরান ঢাকা, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, হাতিরঝিলের কিছু অংশ, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত বাইপাসসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। বিকালে কারওয়ানবাজার পানিতে তলিয়ে কেনাবেচা বন্ধ হয়ে যায়।
সন্ধ্যার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানায়, জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনের জন্য ৫ হাজার ৩০০ পরিচ্ছন্নতা কর্মী কাজ করছে। প্রতি টিমে ১০ জনকে দিয়ে ১০টি কুইক রেসপন্স টিম কাজ শুরু করে। হটলাইনে (১৬১০৬), আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রধান কার্যালয়ে খবর যাবার সঙ্গে সঙ্গে কুইক রেসপন্স টিমের সদস্যরা সেখানে গিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) জানায়, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ডিএসসিসির ৯১টি দল কাজ করছে। প্রতিটি দলে ৫ জন করে কর্মী রয়েছে। কোথাও জলাবদ্ধতার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।