কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরমের পর সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেও তাতে স্বস্তি ফেরেনি। দুপুরের দিকে পুরান ঢাকার সদরঘাট, বাবুবাজার, ইসলামপুর, চকবাজার, বংশাল, গুলিস্তান, প্রেসক্লাব-সচিবালয়, পল্টন, মতিঝিল ও কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়। তবে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল খুবই কম। ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়।
সোমবার দেশের সর্বোচ্চ ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। এদিন খুলনায় সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং ঢাকায় ৩২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, মৌসুমি বায়ু এখন বাংলাদেশে কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিতে পারে।
তবে বিদায়ের আগে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। ৭ ও ৮ অক্টোবর বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। ওই সময় কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। এরপর ৯ অক্টোবর থেকে বৃষ্টির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমার পূর্বাভাস রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর প্রভাব কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতাও কমবে। ফলে বর্ষা-পরবর্তী শুষ্ক আবহাওয়া ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হবে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও ভ্যাপসা গরম পুরোপুরি কাটতে আরও সময় লাগতে পারে।
এদিকে অক্টোবর মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। তবে বঙ্গোপসাগরে একাধিক লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে। ফলে মাসের শেষভাগে আবারও বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিনের মধ্যে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিতে পারে, যার ফলে দেশের আবহাওয়ায় মৌসুমি বৃষ্টিপাতের প্রভাব ধীরে ধীরে কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই আবহাওয়াবিদ বলেন, দেখা যাবে আগামী ১০ অক্টোবরের পর সারাদেশেই বৃষ্টিপাত একেবারেই কমে আসবে। এতে আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত গরমের দাপট অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার পর বর্ষার আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে এবং দেশের আবহাওয়া ধীরে ধীরে শুষ্ক হয়ে আসে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করলেও ভোরের দিকে হালকা ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে, যা শরৎ পেরিয়ে হেমন্তের আগমনী বার্তা বহন করে।
সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা বলেন, মৌসুমি বায়ু বিদায়ের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ বৃষ্টি হতে পারে। তবে এ ধরনের বৃষ্টি টানা হওয়ার সম্ভাবনা কম। এরপরও মাসজুড়ে গরম অনুভূতি থাকতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, বিদায়লগ্নের এই সময়টায় সোমবারের মতো হঠাৎ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি অস্বাভাবিক কিছু নয়, বরং এটি মৌসুম পরিবর্তনেরই একটি স্বাভাবিক অংশ। আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টি ও তাপমাত্রা উভয়ই ধীরে ধীরে কমে আসার মধ্য দিয়ে দেশ পুরোপুরি বর্ষা-উত্তর শুষ্ক আবহাওয়ার দিকে এগোবে বলে পূর্বাভাসে ইঙ্গিত মিলছে।