তিনদিনে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে ভ্যাপসা গরম পড়ে সারা দেশে। গরমে মানুষ যখন অতিষ্ঠ, ঠিক সেই মুহূর্তে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি যেন স্বস্তি এনে দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংস্থাটির ৫১টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ২৬ কেন্দ্র এলাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরমধ্যে রোববার সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয় কিশোরগঞ্জের নিকলিতে ৬৪ মিলিমিটার। এ সময় রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে ৩২ মিলিমিটার। এছাড়া কক্সবাজারে ৫০, সিলেটে ৪৯, নারায়ণগঞ্জ ও বাগেরহাটের মোংলায় ৩৮, নরসিংদীতে ৩৭, মাদারীপুর ২২ ও নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। যা আগের দিন শনিবার শুধু সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ৯, নওগাঁর বদলগাছী ৫, বগুড়ায় ২, খুলনার কয়রায় ২, বাগেরহাটের মোংলা ১ মিলিমিটার এবং ফরিদপুরে সামান্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।
বৃষ্টির প্রভাবে আগের দিনের তুলনায় তাপমাত্রা কমেছে। রোববার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা আগেরদিন ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি ২০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগেদিন ছিল ১৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশ ছিল, বেলা আড়াইটার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়। পরে বিকাল পৌনে ৩টার দিকে ঝুম বৃষ্টি নামে। সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়। এদিকে কিছুক্ষণের বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে যায়, লোকজনকে রাস্তার পাশে মার্কেট দোকান পাটের আটকে থাকতে দেখা গেছে
এদিকে কিছুক্ষণের বৃষ্টিতেই কারওয়ানবাজার মসজিদের সামনে অনেক পানি জমে যায়। এছাড়া পুরো কারওয়ান বাজারে পানি কাঁদার মধ্যে সাধারণ মানুষকে চলা করতে দেখা গেছে।
সবজি ব্যবসায়ী শাহানাজ বেগম আমার দেশকে বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই কাঁচাবাজার কাঁদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। এতে কাঁদা-পানি ভেঙে কেউ কেনাকাটা করতে আসতে চায় না। বৃষ্টি হলেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। সারাদিন তেমন বেচাকেনা হয় না। এগুলো দেখার কেউ নেই।
আবহাওয়া দপ্তরে আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা আমার দেশকে বলেন, রোববার থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এটি অনেক দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করায় মূলত শ্রীলঙ্কা ও ভারতে কিছু রাজ্যে এর প্রভাব পড়তে পারে।
এছাড়া এই আবহাওয়াবিদ বলেন, আগামী ২ দিন দেশে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হলেও ভারী বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তবে এ সময় তাপমাত্রা খুববেশি না বাড়লেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকার কারণে দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরম পড়তে পারে। এরপর আগামী ১৩ মে থেকে টানা কয়েকদিন দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। কেননা, ওই সময়ে ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।
চলতি বছরে গ্রীষ্মের এই সময়ে বেশি বৃষ্টিপাতের বিষয়ে এই আবহাওয়াবিদ আরো বলেন, বিগত ৩০ বছরের আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায় গত ৪-৫ বছর থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে কমে গিয়েছিল। চলতি বছরে আগেভাগেই মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ায় অভ্যন্তরীণ বৃষ্টিপাত কিছু বেড়েছে।
এর আগে গত ২৬ এপ্রিল থেকে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সারাদেশে বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের ভাষায়, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হলে সেটিকে বলা হয়ে থাকে অতিভারি বৃষ্টিপাত।
এএস