হোম > প্রকৃতি ও পরিবেশ

লা নিনার প্রভাবে এবার দেশজুড়ে বাড়বে শীতের তীব্রতা

সরদার আনিছ

ঘন কুয়াশার দাপটে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে তাপমাত্রা কমেছে। এর সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস বাড়িয়ে দিয়েছে শীতের তীব্রতা। দুপুর ১২টার পরও সূর্যের দেখা মেলেনি অধিকাংশ এলাকায়। বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায় ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর রাজধানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, এই কুয়াশা শুধু রাজধানী নয়, উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও রাজশাহীর বড় অংশজুড়ে, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের বেশিরভাগ এলাকায় বিস্তৃত ছিল। তবে দেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলে কুয়াশা অপেক্ষাকৃত কম ছিল।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, আগামী দুই থেকে তিন দিন এমন অবস্থা থাকতে পারে। পরে কুয়াশা ও শীত কিছুটা কমতে পারে। পরে আবার তা বাড়তে পারে।

নতুন বছর থেকে যেন শীতের অনুভূতি বেড়েছে রাজধানীসহ সারা দেশে। চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি শীত অনুভব করছেন মানুষ। শীতের তীব্রতায় সারা দেশে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে উত্তর-পশ্চিমের হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় অনুভূত হচ্ছে হাড় কাঁপানো কনকনে শীত।

এদিকে জানুয়ারি মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে তিন থেকে পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বাড়বে শীত। এরমধ্যে দেশের পশ্চিম, উত্তর ও উত্তরপূর্বাঞ্চলে দুয়েকটি মাঝারি ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এতে তাপমাত্রা ৬ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে দু-তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দেশজুড়ে শীতের প্রকোপ বাড়বে এবং তা ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় নাগাদ এর স্থায়িত্বকাল হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য ও বৈশ্বিক জলবায়ু বিষয়ক প্রতিবেদন থেকেও এমনই পূর্বাভাস মিলছে।

কেন এবার শীতের তীব্রতা বাড়বে এমন প্রশ্নের জবাবে আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, দেশে এ বছর বর্ষার শেষের দিকে বৃষ্টিপাত বেশি হয়েছে। যে বছর বর্ষার শেষের দিকে বৃষ্টিপাত বেশি হয়, সে বছর ঠাণ্ডা বেশি অনুভব হয়। এছাড়া এ বছর লা নিনার প্রভাবে বাংলাদেশে তাপমাত্রা অনেক কম অনুভূত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে পরিবেশের উপর যে চাপ পড়েছে তার প্রভাবেও শীত বাড়ার অন্যতম কারণ। কেননা, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শীত বেশি অনুভূত হওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনেরও বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। মূলত বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বিশ্বের জলবায়ুর ধরনে পরিবর্তন ঘটছে। পাশাপাশি মহাসাগরীয় আবহাওয়ার আচরণও বদলে যাচ্ছে, এর ফলে তাপমাত্রার চরম ওঠানামা ঘটছে। বদলে যাচ্ছে ঋতু এবং আবহাওয়ার সময়কালও।

তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. মো. রেদওয়ানুর রহমান বলেন, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে শীত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। যুগ যুগ ধরে এমনটিই হয়ে আসছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে, হিমালয় পেরিয়ে আসা শীতল হাওয়া, সেই সাথে কুয়াশা আর বঙ্গোপসাগর থেকে উঠে আসা জলীয় বাষ্প দেশে এসে একাকার হয়ে গেছে। দিনের কয়েক ঘণ্টা রোদ দেখা গেলেও কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে দেশের বেশির ভাগ এলাকা। ফলে দেশের বেশির ভাগ এলাকার তাপমাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করেছে। এ তাপমাত্রা কমে জানুয়ারি শেষ নাগাদ ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে এসে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে।

শুক্রবার থেকে সপ্তাহজুড়ে শীত ক্রমেই বাড়তে পারে। দুই দিনের মাথায় দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়তে পারে। চলতি সপ্তাহ ছাড়াও মাসজুড়ে হাড়কাঁপানো শীতের প্রকোপ থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ১০টি শৈত্যপ্রবাহ সঙ্গে শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসেও দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যায় শৈত্যপ্রবাহ। ২০২৪-এর জানুয়ারিতে পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিলো ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, অপরদিকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে উত্তরের এই জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এবারের শীতের তীব্রতা ছাড়িয়ে যেতে পারে আগের বছরকেও।

তাই অন্যবারের শীতের তুলনায় অনেক বেশি হবে। এর প্রধান কারণ হল প্রশান্ত মহাসাগরের পরিস্থিতি এবং বিশ্বজুড়ে সার্বিক তাপমাত্রার হেরফের। যেভাবে ২০২৩ সালের সঙ্গে তুলনা করে ২০২৪ সালের তাপমাত্রা বদল হয়েছে ঠিক তেমনিভাবে ২০২৫ সালেও একই ঘটনা ঘটবে। ইতোমধ্যেই ২০২৪ সাল গরমের দিক থেকে নতুন রেকর্ড তৈরি করে ফেলেছে। চলতি বছর প্রায় ১.৫ ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রা দেখছে পৃথিবী।

আগামীদিনে এর প্রভাব আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। ডিসেম্বর মাস থেকে শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত থাকবে লা নিনার প্রভাব। বিশ্ব উষ্ণায়নের হাত ধরে এল নিনা তার খেল দেখিয়েছে। এবার লা নিনার পালা। শুধু বেশি বৃষ্টিপাত নয়, তীব্র গরম থেকে শুরু করে প্রচুর শীত সবই থাকছে এর মধ্যে। ডাব্লিউএমও-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেভাবে এল নিনা প্রভাব ফেলেছে তার সঙ্গে তাল রেখে লা নিনা তার প্রভাব বিস্তার করবে।

দুপুরের মধ্যে ১৫ জেলায় ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আভাস

তাপমাত্রা কমলেও দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরম

ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ৮ নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত

লা-নিনোর প্রভাবে ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে

আষাঢ়ের তাপপ্রবাহ, তীব্র গরমে অতিষ্ঠ সারা দেশের মানুষ

১১ জেলায় ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে যে ৮ জেলায়

দেশের ১২ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

এল নিনোর প্রভাবে বর্ষায় ছন্দপতন, কম বৃষ্টি বেশি তাপমাত্রা

এত কম বৃষ্টিপাত দেখা যায়নি এক দশকেও