উত্তরের জেলাগুলো ছাড়া এবার সারা দেশে কিছুটা দেরিতে শীতের আগমন ঘটতে পারে; সেই সঙ্গে খানিকটা আগেই শীত চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদেরা। তারা বলছেন, আগামী শুক্রবারের মধ্যে মৌসুমি বায়ুর বিদায় হলেও তাপমাত্রার তেমন কোনো হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এমনকি এবার শীতকালের মেয়াদও কম হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা আমার দেশ-কে বলেন, এবার এল-নিনোর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা বেশি থাকবে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়; ফলে এবার শীতকালের মেয়াদও কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শীত কম হলেও ঘন কুয়াশা বাড়তে পারে। এরই মধ্যে নদী অববাহিকা অঞ্চলে কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে।
দেশের সর্বউত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে এরই মধ্যে অনুভূত হতে শুরু করেছে শীতের আমেজ। মধ্যরাতের পর বাড়ছে শীতের অনুভূতি। ভোরের প্রকৃতিতে দেখা মিলছে কুয়াশা ও শিশিরের। ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু আর উত্তরের হিমেল বাতাস জানান দিচ্ছে—দুয়ারে কড়া নাড়ছে শীত।
প্রকৃতির আগাম এই বার্তা যখন কুয়াশা আর শিশিরে স্পষ্ট, তখন শীতার্ত মানুষের জন্য প্রস্তুতিও নিতে হবে আগেভাগে। কারণ, কারও কাছে শীত মানে প্রকৃতির সৌন্দর্য, আবার কারও কাছে শীত মানে এক টুকরো উষ্ণতার অপেক্ষা।
মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে সোমবার জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে মঙ্গলবার সারা দেশের মধ্যে খুলনার কয়রায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ এবং রাজধানীতে ৩৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের কয়েকদিনের তুলনায় কিছুটা কমেছে।
পঞ্চগড়ের স্থানীয়রা জানান, বর্ষার আমেজ পুরোপুরি কাটতে না কাটতেই মধ্যরাত থেকে কিছুটা ঠান্ডা বাতাস অনুভূত হচ্ছে। ভোরে দেখা মিলছে কুয়াশা ও শিশিরের। ঘাসের ডগায় জমে থাকা স্বচ্ছ শিশিরবিন্দু, চারপাশে কুয়াশার আবরণ আর উত্তরের হিমেল বাতাস—সবকিছুতেই মিলছে ঋতু পরিবর্তনের আগাম বার্তা। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থানের কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পঞ্চগড়ে শীতের অনুভূতি শুরু হয় অপেক্ষাকৃত আগেভাগেই।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, শীত মৌসুমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়। মৌসুমের বেশিরভাগ দিনেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই জেলায় রেকর্ড হয়ে থাকে। অনেক সময় তাপমাত্রার পারদ নেমে আসে এক অঙ্কের ঘরে।
অক্টোবরের আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, মৌসুমি বায়ু বিদায়ের সময় কোথাও কোথাও বৃষ্টি হলেও দেশে শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে। এতে তাপমাত্রা বেড়ে ভ্যাপসা গরম নভেম্বরের শেষ নাগাদ অব্যাহত থাকতে পারে।
চলতি মাসজুড়ে দেশের আবহাওয়ায় বেশ কয়েক দফা পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। মাসের প্রথমার্ধে ভ্যাপসা গরমের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন বৃষ্টি হতে পারে। এরপর বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার পর মাসের শেষভাগে বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য লঘুচাপ বা নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম আমার দেশ-কে বলেন, আগামী শুক্রবারের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বিদায় ঘটতে পারে। এ সময় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা বাড়তে পারে। এরপর আবার দেশে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। মৌসুমি বায়ুর বিদায়ে বর্ষারও আনুষ্ঠানিক বিদায় ঘটবে। এরপর দেশে শীতল আবহ তৈরি হয়ে কিছুটা স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে এবার এল-নিনোর প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা বেশি থাকতে পারে।