আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। তবে লঘুচাপটি শেষ পর্যন্ত কতটা শক্তিশালী হবে এবং নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, নতুন এই আবহাওয়ার প্রভাবে অক্টোবরের শুরুতে দেশের বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা আমার দেশ-কে বলেন, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যেই লঘুচাপটি সৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী সময়ে এটি আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, নিম্নচাপ কিংবা গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। তবে এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তা নির্ভর করবে সিস্টেমটি সৃষ্টির পর এর গতিপথ ও শক্তি বৃদ্ধির ওপর। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা ঐতিহাসিকভাবে থাকলেও বর্তমান পর্যায়ে নতুন সিস্টেমটিকে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
তিনি আরও জানান, আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের আবহাওয়া অনেকটাই শুষ্ক থাকার পর শুক্রবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।
এর আগে আবহাওয়া দপ্তরের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ আমার দেশ-কে বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় একেবারে বিরল নয়; ৭-৮ বছর পরপর একবার সেপ্টেম্বরেও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। দেশ স্বাধীনের পর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সেপ্টেম্বর মাসে ছয়বার ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। তবে ঐতিহাসিকভাবে বঙ্গোপসাগরে অক্টোবর-নভেম্বরেই ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
এদিকে রোববার মানিকগঞ্জের আরিচায় ১ মিলিমিটার বৃষ্টি ছাড়া দেশের অন্য কোথাও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়নি। ফলে অনেক এলাকায় তাপমাত্রা বেড়ে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়েছে। রোববার দেশের সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ঢাকা, চাঁদপুর, ফেনী ও খুলনায়।
তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দেশ পুরোপুরি বৃষ্টিশূন্য থাকবে না। রোববার সন্ধ্যা থেকে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সোমবার চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং অন্য বিভাগগুলোর দু-এক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। মঙ্গলবারও চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টির পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার ও বৃহস্পতিবারও কয়েকটি বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থাৎ, আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টি একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিবর্তে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি এবং এর মধ্যবর্তী সময়ে গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার দেশের দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। মঙ্গলবার দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, নতুন লঘুচাপটি সৃষ্টি হওয়ার পর এর অবস্থান, গতিপথ ও শক্তি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তাই আপাতত এটিকে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা হিসেবে দেখার চেয়ে সম্ভাব্য লঘুচাপ এবং এর প্রভাবে বৃষ্টির পরিবর্তন হিসেবে পর্যবেক্ষণ করাই যুক্তিযুক্ত। সাম্প্রতিক সময়েও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি নিম্নচাপ পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছিল এবং সেটির প্রভাবে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।