হোম > প্রকৃতি ও পরিবেশ

বন্যার পানি নামতেই সামনে এলো ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

স্টাফ রিপোর্টার

ছবি: আমার দেশ

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস মিললেও নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের নিম্নাঞ্চল। একই সাথে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যাকবলিত জেলাগুলো থেকে পানি নামার সাথে সাথে বেরিয়ে আসছে অবকাঠামো, কৃষি ও মৎস্য খাতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতচিহ্ন। চলমান এ বন্যায় এ পর্যন্ত ৫৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, সুরমা-কুশিয়ারা ও নেত্রকোণার নদীগুলোর পানি হ্রাস পাওয়ায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একইভাবে তিস্তা নদীর পানি স্থিতিশীল হয়ে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনায় গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলেও উন্নতির আশা করা হচ্ছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় মনু, খোয়াই ও ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তিস্তা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে। ঘরবাড়ি হারানোর পাশাপাশি সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ওই জেলায় প্রায় ২ হাজার ৪৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ৭৯টি সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৮৯০ কোটি টাকা। বান্দরবানে প্রায় ১৫১ কিলোমিটার সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৪৭টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতেও কয়েক শ কিলোমিটার সড়ক ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

অবকাঠামোর পাশাপাশি সবচেয়ে বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে কৃষি ও মৎস্য খাতে। কক্সবাজারে ১০ হাজার ৪০১ একর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে এবং ২ হাজার ৪৪০ হেক্টর চিংড়িঘের ও পুকুর ভেসে গেছে। চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় কৃষকদের প্রায় ৬০ কোটি টাকার ফসল এবং ৮ কোটি টাকার মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। বান্দরবান ও রাঙামাটির হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি এখন পানির নিচে।

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, দেশের ৫৯টি উপজেলার ৩৬৮টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে এখনো ১০ হাজার ৮৫৪ জন মানুষ অবস্থান করছেন। সরকার ইতোমধ্যে ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, চাল ও শুকনো খাবার বরাদ্দ দিয়েছে। দুর্যোগ কবলিত এলাকায় মানুষের পুনর্বাসন ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

রাজধানীসহ পাঁচ জেলায় দুপুর পর্যন্ত ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা

বৃষ্টি কমতেই বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

দুইদিনের গরম শেষে আবার বর্ষণের আভাস

রাজধানীতে দেখা মিলেছে সূর্যের, বাড়তে পারে তাপমাত্রা

দেশে আরো ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস, দীর্ঘ হতে পারে বন্যা পরিস্থিতি

ঢাকায় বৃষ্টির যে পূর্বাভাস জানাল আবহাওয়া অফিস

টানা বর্ষণে রাজধানীতে অচলাবস্থা, বৃষ্টি আরো বাড়বে বৃহস্পতিবার থেকে

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ১০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি

আজও ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, ১৯ অঞ্চলের নদীবন্দরে সতর্কতা