স্টাফ রিপোর্টার
তাপমাত্রা খুব বেশি না বাড়লেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সারা দেশে ভ্যাপসা গরম পড়েছে। দিনরাত ২৪ ঘণ্টায় তীব্র তাপপ্রবাহের মতো প্রচণ্ড গরম অনুভূত হচ্ছে। যদিও সোমবার বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী এবং খুলনা বিভাগের জেলাগুলো ছাড়া দেশের আর কোথাও তাপপ্রবাহ ছিল না। এ অবস্থা আরো কয়েকদিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়ায় দপ্তর।
এ প্রসঙ্গে সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক আমার দেশকে বলেন, মনে হচ্ছে তাপমাত্রা অনেক বেড়েছে, আসলে দিনের তাপমাত্রা তেমনটা বাড়েনি। সোমবার রাজধানী সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সারাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি বলেন, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় রংপুর বিভাগ ছাড়া সারাদেশেই প্রচণ্ড গরম অনুভূত হচ্ছে। এ অবস্থা আরো কয়েকদিন চলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার থেকে যে তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে তা আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা নেই। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী এবং অন্যান্য অঞ্চলেও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকার কারণে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার বৃষ্টি আরো বাড়তে পারে।
এদিকে সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল রৌদ্দোজ্বল। এতে সারাদিন জ্যৈষ্ঠের খরতাপে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ ছিল ঢাকাবাসী। দুপুরের পর থেকে আকাশে কালোমেঘ জমলেও সন্ধ্যার বেশ কিছুসময় সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। এতে গরমে দাপট তেমন একটা কমেনি।
এদিকে বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী এবং খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে মৃদু তাপপ্রবাহের সাথে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরম পড়েছে ওইসব এলাকায়। এতে সারাদিনে জ্যৈষ্ঠের খরতাপ আর ভ্যাপসা গরমে সারা দেশের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
আগের দুইদিন দেশের ১৩ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেলেও গত রোববার তা কমে ৭ জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। আর সোমবার বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী এবং খুলনা বিভাগের জেলাসমূহে মোট ১১ জেলায়মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে।
আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক জানান, আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার সারাদেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়লেও এরপর থেকে প্রবণতা কমে আসতে পারে। তবে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
এর আগে চলতি মাস বৃষ্টি দিয়ে শুরু হয়ে গত দুই সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হয়। আর তাতে মে মাসের তীব্র গরম ততটা অনুভূত হয়নি; বরং দেশের দ্বিতীয় উষ্ণতম মাসেও রাতের বেলায় রাজধানীতেও গায়ে চাদর মুড়িয়ে ঘুমাতে হয়েছে। ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে শুক্রবার থেকে বৃষ্টি অনেকটাই কমে তাপপ্রবাহ শুরু হয়ে তা অব্যাহত রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মাঝারি এবং তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ ধরা হয়। তাপমাত্রা ৪২-এর বেশি হলে তা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলে গণ্য হয়।
অন্যদিকে সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হলে সেটিকে বলা হয়ে থাকে অতিভারী বৃষ্টিপাত।
এএস