হোম > মতামত

ইসরাইলের যে স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে

এলাহী নেওয়াজ খান

ফাইল ছবি

‘যুদ্ধবিরতি হয়েছে, কিন্তু যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়নি’—এমনটাই বলেছেন ইরানের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডক্টর মোহাম্মদ মারানদি। তিনি আরো বলেছেন, আবার আক্রান্ত হলে ইরান পূর্ণ শক্তি নিয়ে প্রত্যাঘাত করবে। অর্থাৎ আপাতত যুদ্ধ বন্ধ থাকলেও আবার যেকোনো সময় পুরোদস্তুর যুদ্ধ লেগে যেতে পারে। তবে স্বল্পকালীন এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী একটা প্রভাব ফেলবে, যা মূলত নতুন একটা মেরূকরণ সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। সেভাবেই ভাবছেন আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষকরা।

এদিকে যুদ্ধবিরতির পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, ইসরাইল বেশ আগে থেকেই একটি যুদ্ধের পরিকল্পনা এঁটে আসছিল। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরানে হামলার কয়েক সপ্তাহ আগে ইসরাইলে সফর করতে আসা সাবেক ইরানের শাহের ছেলে রেজা পাহলভিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংবর্ধনা জানানো হয়। এরপর ইসরাইল যখন হামলা চালিয়ে শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন জেনারেল ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীকে হত্যা করে, তখন রেজা পাহলভি সোশ্যাল মিডিয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে ইরানি সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে বিদ্রোহ করার আহ্বান জানিয়েছিল।

এ থেকে এটাই স্পষ্ট হয়ে যায়, ইসরাইল ইরানে হামলার লক্ষ্যে রেজা পাহলভিকে কাজে লাগানোর ধান্দায় এই বিপুল সংবর্ধনা প্রদান করেছিল। বিষয়টি এ রকম ছিল যে, ইসরাইলি হামলায় ব্যাপক বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হওয়া এবং বিপুলসংখ্যক হতাহতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে এবং রেজিম চেঞ্জের মতো ঘটনা ঘটাবে। কিন্তু বর্তমানে ইরানের রাজনীতিতে গুরুত্বহীন শাহ পরিবারের সন্তানকে দিয়ে ইসরাইল যে জুয়া খেলেছে, তা কার্যত দেশটির জন্য বিপর্যয় ডেকে এনেছে। কারণ ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের জনগণ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ইসরাইলের উগ্রবাদী নেতারা ভেবেছিল, ইরানের অভ্যন্তরে এই বেপরোয়া হামলার মাধ্যমে শুধু রেজিম চেঞ্জ নয়, গাজার গণহত্যা থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টিও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পারবে। কিন্তু ইরানের পাল্টা আক্রমণে ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে যে ধ্বংসলীলা চলেছে, তা জায়নবাদীদের অপরাজয়ের ধারণাকে ধূলিস্যাৎ করে দিয়েছে। ইরানের মিসাইল ধ্বংস করেছে বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি, নানা অবকাঠামো, স্থাপনা ও পৃথিবীবিখ্যাত সব গবেষণা কেন্দ্র। বলা যায়, ইরানের ভয়াবহ হামলায় ইসরাইলের শহরগুলো ধ্বংসস্তূপে রূপ নিয়েছে, যা মূলত ইসরাইলের স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে, সেইসঙ্গে বাজিয়ে দিয়েছে অর্থনীতির বারোটা।

এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, ওই রকম একটা হামলার আশঙ্কা থেকে ইরান অনেক আগেই দীর্ঘমেয়াদি একটি যুদ্ধের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছিল। আর সে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলসহ পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে হতে পারে বলে ইরান আগেভাগেই মার্কিন জিপিএস সিস্টেম পরিত্যাগ করে চীনের ‘বাইডু’ গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম চালু করে। তাই বাইডু চালু করার আগে ইরান তার সীমানার ভেতরে অবস্থিত সব জিপিএস সিস্টেম বন্ধ করে দিয়েছিল। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরানের এই উদ্যোগ বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে ইরানের বিজয় হয়েছে বলে ঘোষণা দিলেও আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা সে বিজয়কে মানতে রাজি নন। তারা মনে করেন, এই যুদ্ধে প্রশ্নাতীতভাবে ইসরাইলের বিজয় হয়েছে। তবে পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে, কারণ এখনো ইরানের হাতে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ৪০০ কিলোগ্রামের মতো ইউরেনিয়াম মজুত আছে, যা দিয়ে ১০টি পারমাণবিক বোমা বানানো সম্ভব। অথচ ভারতের এক সামরিক বিশেষজ্ঞ প্রভীন সাওনী বলেছেন, ইরানের আক্রমণে ইসরাইলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।

এদিকে মার্কিন বিশেষজ্ঞদের ওই অভিমত থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, আমেরিকা, ইসরাইল ও পশ্চিমা দেশগুলোর মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির কল্পিত একটি ইস্যু তৈরি করে ইরানের ওপর ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করে যাওয়া। কারণ পশ্চিমারা ইরানকে ইসরাইলের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে। এজন্যই ইরানি নেতারা যতই বলুক, পারমাণবিক বোমা বানানো নয়; বরং তারা পারমাণবিক জ্বালানির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য কাজ করছে, যা পশ্চিমারা মানতে নারাজ। সেটা মানলে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের আর কোনো ইস্যু তাদের হাতে থাকে না।

এদিকে পরমাণু বোমা বানানোর ব্যাপারে ইরানের এই অবস্থানের মূল কারণ হচ্ছে, ইসলামি বিপ্লবের মহান নেতা ইমাম রুহুল্লাহ আলি খামেনি প্রদত্ত সেই বিখ্যাত ফতোয়া। তিনি নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে এই মর্মে ফতোয়া দিয়েছিলেন যে, ইসলামে পারমাণবিক বোমা ও কেমিক্যাল ধরনের সব রকমের বোমা তৈরি, মজুত ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। আর সেজন্যই আট বছরের দীর্ঘ যুদ্ধ চলাকালে ইরাকের কেমিক্যাল অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে ইরান কখনোই অনুরূপ প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অথচ ওই যুদ্ধে ইরানের ২০ হাজার বেসামরিক লোক নিহত হয়েছিল, আর আহত হয়েছিল লক্ষাধিক।

তবে সবকিছুর পরেও ইরান চাইলে বহু আগেই পারমাণবিক বোমা বানিয়ে ফেলতে পারত। কিন্তু ইরানের ইসলামি বিপ্লবের মহান নেতা ইমাম রুহুল্লাহ খামেনির ওই ফতোয়ার কারণে কখনো ইরান ওই পথে হাঁটেনি। তবে এ ব্যাপারে কৌতুক-উদ্দীপক বিষয় হচ্ছে, ইসরাইল পারমাণবিক বোমা বানালে কোনো অপরাধ নেই; কিন্তু ইরান বানালে মহা অপরাধ। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি এমন এক দ্বিচারিতা, যা তাদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে তলানিতে নামিয়ে দিয়েছে। কী অদ্ভুত এক নৈতিক অবস্থান! শুধু পারমাণবিক বোমা বানানোর বিষয় নয়, গণহত্যার ব্যাপারেও যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নির্লজ্জভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। এই ধরুন, জার্মানিতে ইহুদি হলোকাস্টকে তারা জঘন্য অপরাধ হিসেবে দেখে। পক্ষান্তরে ফিলিস্তিনে সংঘটিত গাঁজা হলোকাস্টকে তারা ইসরাইলের নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করে উড়িয়ে দিচ্ছে। অর্থাৎ আমেরিকা ও ইসরাইলের জন্য যা নৈতিক, অন্যের জন্য তা অনৈতিক। বিস্ময়কর এক দ্বৈত নীতি।

এখানে উল্লেখ করতে হয়, বর্বর ইসরাইলি বাহিনী ১৯২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত গাজায় প্রায় ৫৫ হাজারের মতো বেসামরিক মানুষ হত্যা করেছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ২০০-এর মতো হচ্ছে শিশু। বলা যায়, একটা প্রজন্মকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। এ রকম জঘন্য গণহত্যার অপরাধে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করল, তখন যুক্তরাষ্ট্র ফুঁসে উঠেছিল প্রচণ্ড রাগে, হুমকি দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। সেটা ছিল ১৯১৯ সালের ফিলিস্তিনে ইসরাইলি গণহত্যার বিরুদ্ধে মামলা। এখন গাজায় ভয়াবহ গণহত্যার পরও নেতানিয়াহুকে রক্ষা করতে নানারকম পন্থা অবলম্বন করছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে আসল কথাটা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলসহ পশ্চিমা দেশগুলোকে ইরানভীতি পেয়ে বসেছে। বিশেষ করে প্রাচীন সভ্যতার পথ ধরে ইরানের ইসলামি নেতৃত্ব বিজ্ঞান গবেষণায় এতটা উন্নতি লাভ করবে, তা পশ্চিমা দুনিয়া কল্পনায়ও ভাবেনি। একদা অষ্টম শতাব্দী থেকে শুরু করে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত মুসলমানরা শিক্ষাদীক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, চিকিৎসাশাস্ত্র, অঙ্কবিদ্যা, দর্শন, সাহিত্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষে ছিল। তখন ইউরোপ ছিল অন্ধকারে, তিমিরে। আজ ইউরোপ শীর্ষে, আর মুসলমানরা চতুর্দশ শতক থেকে বিগত বহু শতক ধরে ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়তে পড়তে অনগ্রসর ও পশ্চাৎপদ এক ইসলামি বিশ্বে পরিণত হয়েছে। ঠিক এ রকম এক পটভূমিতে ইরান অন্য সব মুসলিম দেশকে ছাড়িয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিস্ময়কর উন্নতি ঘটিয়ে পাশ্চাত্য জগৎকে ভাবিয়ে তুলেছে।

তারা মনে করে, তেলসমৃদ্ধ ইরান যদি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পাশ্চাত্য দেশগুলোর সমকক্ষ হয়ে ওঠে, তাহলে তা ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। শুধু তাই নয়, তাদের আরো মাথাব্যথার কারণ হচ্ছে, ইরানের আদর্শগত অবস্থান অর্থনৈতিক বা অন্য কোনো সুবিধা দিয়ে বাগে আনা সম্ভব নয়। সেটা হলে হয়তো ইরান অনেক আগেই মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মিত্র পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে একটা দফারফা করে ফেলত। তাই দেখা যাচ্ছে, ইরানের মতাদর্শগত দৃঢ় অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কঠিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান কখনো মাথা নত করেনি।

তবে এখন অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ ভূরাজনীতির গোটা প্রেক্ষাপটকে বদলে দিয়েছে। বলা যায়, বর্তমান পরিস্থিতি এখন এমন একপর্যায় পৌঁছেছে, যা ইরানকে পারমাণবিক বোমা বানাতে বাধ্য করবে, যদিও ইরান পারমাণবিক বোমা না বানিয়েও তা ব্যবহার করতে সক্ষম। কারণ ইরানের কাছে যেসব ধরনের মিসাইল আছে তা পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। সুতরাং ইরান তার বন্ধুপ্রতিম যেকোনো দেশ থেকে গোপনে এ ধরনের পারমাণবিক ওয়ারহেড সহজেই জোগাড় করে নিতে পারে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করে ফেললে কারো কিছু করার থাকবে না। কারণ আজ বিশ্ববাসী জেনে গেছে, ইসরাইলের কাছে পারমাণবিক বোমা আছে। সুতরাং এখন এই প্রশ্ন উঠতেই পারে, ইসরাইল পারমাণবিক বোমা বানাতে পারলে ইরান কিংবা অন্য কোনো দেশ কেন বানাতে পারবে না?

পরিশেষে এটা বলা যায়, কোনো যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়া ইরানের ওপর ইসরাইলের এই আক্রমণ এবং তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুক্ত হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘জোর যার মুল্লুক তার’ এ রকম ধারণাই বদ্ধমূল হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ কোনো যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়া ইরানের ওপর ওই আক্রমণের মাধ্যমে সার্বভৌম রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের ছোট ছোট রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ‘কচু পাতার পানি’ ছাড়া আর কিছু নয়। তবে আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নতজানু রাষ্ট্রগুলোর নীতিনির্ধারণে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে।

পিলখানার অসমাপ্ত অধ্যায়

হাদি হত্যায় ভারত এবং গোয়েন্দা স্লিপার সেল

ইচ্ছাকৃত রাজনৈতিক সংকট

সিরিয়ায় ওয়াইপিজির বিলুপ্তি ইরাকের জন্য সতর্কবার্তা

চিন্তার স্বাধীনতা বনাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব

বিধ্বস্ত শিক্ষাব্যবস্থা

ভাষার কোনো বিদেশ নেই, নেই কোনো খাঁচা

নৌবিদ্রোহ ও রাজনীতির বিশ্বাসঘাতকতা

চ্যালেঞ্জের মুখে খামেনির নেতৃত্ব ও ইসলামি বিপ্লব

শব্দের রাজনীতি, ক্ষমতার ভয়