হোম > মতামত

মানবাধিকার নিশ্চিতে নির্বাচনি অঙ্গীকার

আবদুল লতিফ মাসুম

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়; এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার সামাজিক চুক্তি নবায়নের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রতিটি নির্বাচন জনগণকে শুধু শাসক বেছে নেওয়ার সুযোগই দেয় না, বরং রাষ্ট্র কোন নৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে সেই সিদ্ধান্তও গ্রহণের সুযোগ দেয়। এই প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার কোনো গৌণ বা পরিশিষ্ট বিষয় নয়; এটি গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি।

কিন্তু বাংলাদেশের নির্বাচনি রাজনীতিতে মানবাধিকার প্রায়ই ইশতেহার ও পোস্টারের অলংকারে সীমাবদ্ধ থাকে। বাস্তব শাসনে তার প্রতিফলন খুবই দুর্বল। ফলে নাগরিকের কাছে মানবাধিকার শব্দটি ধীরে ধীরে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। আজ যখন বাংলাদেশ আবার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, তখন রাজনৈতিক দলগুলোর মানবাধিকার-সংক্রান্ত অঙ্গীকার শুধু কী বলা হচ্ছে তা নয়, বরং কেন বলা হচ্ছে এবং ক্ষমতায় গেলে তা কীভাবে বাস্তবায়িত হবেÑএ প্রশ্নগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাÑএই তিনটি উপাদান একে অন্যের পরিপূরক। রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রক্ষমতা সংগঠিত ও পরিচালনা করে, মানবাধিকার সেই ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করে আর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষমতাকে নাগরিকের জবাবদিহির আওতায় রাখে। এই তিনটির ভারসাম্যই একটি গণতন্ত্রের প্রকৃত স্বাস্থ্য নির্ধারণ করে।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই ভারসাম্য দীর্ঘদিন ধরেই ভেঙে পড়েছে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এখানে ক্রমেই পরিণত হয়েছে রাষ্ট্র দখলের লড়াইয়ে। আর সেই লড়াইয়ে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত না হয়ে শাসকগোষ্ঠীর কাছে ‘বাধা’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মানবাধিকার কোনো বিমূর্ত নৈতিক ধারণা নয়; এটি নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বাধীনতার বাস্তব ভিত্তি। ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠনের অধিকার, ন্যায়বিচারের অধিকারÑসবই মানবাধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটি নির্বাচন যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে শুধু সরকারই অবৈধ হয় না; রাষ্ট্র নিজেই নাগরিকের মৌলিক অধিকারের ওপর দাঁড়ানো নৈতিক ভিত্তি হারায়।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে আমরা দেখেছি, নির্বাচন ঘিরে গ্রেপ্তার, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মামলা-বাণিজ্য ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ কীভাবে একটি সর্বব্যাপী ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছে। এই বাস্তবতায় কোনো দল যখন নির্বাচনে মানবাধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়, তখন সেটি শুধু একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়Ñএটি হওয়া উচিত একটি রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনের অঙ্গীকার।

তত্ত্বগতভাবে রাজনৈতিক দলগুলো একটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের ভেতরে প্রতিযোগিতা করবে। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় দেখা যায়Ñক্ষমতায় এলে দলগুলো শুধু সরকার গঠনেই থামে না; তারা ধীরে ধীরে রাষ্ট্রকেই দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। ক্ষমতায় গিয়ে দলীয়করণ করা হয়Ñআইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও আমলাতন্ত্র, নিয়ন্ত্রক ও তদারকি প্রতিষ্ঠানÑএমনকি বিচার বিভাগের কিছু অংশও।

এর ফলে একটি winner-takes-all সংস্কৃতি তৈরি হয়, যেখানে নির্বাচন হারানো মানে শুধু ক্ষমতা হারানো নয়; বরং নিরাপত্তা, অধিকার ও কণ্ঠস্বর হারানো। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দল, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজ স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকির মুখে পড়ে। ভিন্নমত আর স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক আচরণ থাকে না; সেটিকে রাষ্ট্রের জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

বাংলাদেশের প্রায় সব প্রধান রাজনৈতিক দলই তাদের ইশতেহারে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর অধিকাংশ সরকারই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে মানবাধিকারের ওপরে স্থান দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক যন্ত্রে পরিণত করা হয়েছে। বিরোধী মতকে ‘রাষ্ট্রবিরোধিতা’ হিসেবে দমন করা হয়েছে। আদালতকে রাজনৈতিক চাপের অধীন করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনকে নামমাত্র প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়েছে। ফলে ‘মানবাধিকার’ শব্দটি মানুষের কাছে ক্রমেই অবিশ্বাস্য হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে মানবাধিকার ও নির্বাচনব্যবস্থা সবসময়ই রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত থেকেছে। সংবিধানে মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের কথা থাকলেও বাস্তবে এসব অধিকারের পরিধি নির্ধারিত হয়েছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির মানসিকতা ও শাসন-দর্শনের ওপর।

স্বাধীনতার পর প্রথম আওয়ামী লীগ সরকারই এই দ্বন্দ্বের ভিত্তি স্থাপন করে। সংবিধানে অধিকার সংরক্ষিত থাকলেও সরকার দ্রুত বিরোধী কণ্ঠ দমন করতে শুরু করে। সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর নিপীড়ন এবং রক্ষীবাহিনীর মাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতন চালানো হয়। এর চূড়ান্ত রূপ আসে ১৯৭৫ সালে বাকশাল কায়েমের মাধ্যমেÑযখন একদলীয় শাসন সাংবিধানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হয় এবং সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই অধ্যায়টি বাংলাদেশের মানবাধিকার ইতিহাসের প্রথম বড় ধস।

এরপর সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলেও গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের অবস্থা ভালো ছিল না। তিনি সেনাবাহিনীর শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন এবং একটি নিয়ন্ত্রিত, কারচুপিপূর্ণ নির্বাচনি ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। সংবাদপত্র, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ তার শাসনে নানা বিধিনিষেধের মুখে পড়ে। তবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণÑএরশাদের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জনগণের ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলনই তার পতন ঘটায়। সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া, যিনি ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠেন।

১৯৯১ সালে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে সরকার গঠিত হয়, তা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ সরকার। তার সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুজ্জীবিত করা এবং রাজনৈতিক বহুত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া। পরে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সাংবিধানিক রূপ পায়, যা দক্ষিণ এশিয়ায় একটি ব্যতিক্রমী ও গণতান্ত্রিক উদ্ভাবন ছিল। এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা, যাতে নাগরিকরা ভয় ছাড়া ভোট দিতে পারেন।

এই গণতান্ত্রিক ধারার ভিত্তি অনেকাংশেই গড়ে উঠেছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়। তিনি একদলীয় ব্যবস্থা ভেঙে বহুদলীয় রাজনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতকে রাষ্ট্রীয় জীবনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। তার শাসনামলে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিখুঁত ছিল না, কিন্তু রাষ্ট্রীয় দর্শনে রাজনৈতিক বহুত্ব ও নাগরিক অধিকারের ধারণা আবার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পায়।

এই তুলনামূলক ধারার বিপরীতে ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসার পর পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নেয়। এ সময় রাষ্ট্র কার্যত একটি নজরদারি ও দমনমূলক যন্ত্রে পরিণত হয়। র‌্যাব, ডিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সদস্যদের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং মিথ্যা মামলার শিকার করা হয়। বহু মানুষ নিখোঁজ হন, অনেকের লাশ পাওয়া যায়, অনেকের ভাগ্য অজানা থেকে যায়। এসব ঘটনার কোনো স্বচ্ছ তদন্ত হয়নি, বরং রাষ্ট্র নিয়মিত দায় অস্বীকার করেছে। এর ফলে বাংলাদেশে একটি ভয়ভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, যেখানে সমালোচনা করা মানেই ঝুঁকিতে পড়া।

নির্বাচনি ব্যবস্থাও এ সময় আওয়ামী লীগের হাতে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলসহ অধিকাংশ দল অংশ না নেওয়ায় ১৫৩টি আসনে বিনাভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হন। এটি ছিল কার্যত ভোটারবিহীন একটি সংসদ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, ভোটের আগের রাতে ব্যালট ভর্তি, বিরোধী এজেন্টদের বের করে দেওয়া ও প্রশাসনের দলীয় ভূমিকার অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না। এসব নির্বাচন ক্ষমতা হস্তান্তরের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং ক্ষমতা দখলকে বৈধ করার আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও এই শাসনামলে মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়েছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ দমনমূলক আইন ব্যবহার করে সাংবাদিক, লেখক, ফেসবুক ব্যবহারকারী ও সমালোচকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গণমাধ্যমকে বিজ্ঞাপন বন্ধ, মামলা ও প্রশাসনিক চাপ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ফলে দেশে একটি আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে মানুষ সত্য বলার আগে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে বাধ্য হয়।

আজ মানুষের মৌলিক প্রশ্ন হলোÑনতুন করে দেওয়া নির্বাচনি অঙ্গীকারগুলো কি আবার কাগুজে প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সত্যিকারের পরিবর্তনের সূচনা ঘটাবে?

মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ মানে শুধু গুম বন্ধ করা নয়। এর অর্থ হলোÑ১. নাগরিক যেন রাষ্ট্রের ভয়ে নয়, আইনের আশ্রয়ে নিরাপদ বোধ করে। ২. পুলিশ যেন শাসক দলের নয়, সংবিধানের সেবা করে। ৩. বিচারক যেন ক্ষমতাবানের নয়, ন্যায়ের কাছে দায়বদ্ধ থাকে। ৪. সাংবাদিক যেন সত্য বলার জন্য কারাগারে না যায় এবং ৫. রাজনৈতিক কর্মী যেন মতপ্রকাশের জন্য নিখোঁজ না হয়। অর্থাৎ মানবাধিকার হলো রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও নাগরিকের স্বাধীনতার মধ্যে একটি নৈতিক ভারসাম্য।

ইতিহাস বলে, কর্তৃত্ববাদী শাসনে প্রথম আঘাত আসে বাকস্বাধীনতার ওপর। কারণ মুক্ত মতপ্রকাশ থাকলে ক্ষমতার জবাবদিহি তৈরি হয়। বাংলাদেশে সাংবাদিক, লেখক, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ও স্বাধীন কণ্ঠগুলো ক্রমাগত চাপের মুখে। ডিজিটাল আইন ও নজরদারি ব্যবস্থাকে অপরাধ দমনের বদলে অনেক ক্ষেত্রে সমালোচনা দমনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলেÑদুর্নীতি বাড়ে, নীতিগত ব্যর্থতা আড়ালে থাকে এবং অন্যায় অদৃশ্য হয়ে যায়। একটি রাষ্ট্র যদি নাগরিকের সৎ প্রতিক্রিয়া না পায়, তবে সে রাষ্ট্র ধীরে ধীরে আত্মবিনাশী ভুল করতে শুরু করে।

মানবাধিকারকে যদি সত্যিকার অর্থে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে যে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে তা হচ্ছেÑ১. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কার ও জবাবদিহির নিশ্চয়তা। ২. গুম ও নির্যাতনের সত্য উদঘাটন ও বিচার নিশ্চিত করা। ৩. বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান। ৪. দমনমূলক ডিজিটাল আইনের সংস্কার এবং ৫. স্বাধীন ও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন গঠন করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে কে ক্ষমতায় আসবে, তার ওপর নয়, বরং কীভাবে ক্ষমতা পরিচালিত হবে তার ওপর। মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রাজনৈতিক ক্ষমতার শত্রু নয়Ñএগুলোই বৈধ ও টেকসই রাষ্ট্রক্ষমতার ভিত্তি। মানুষ আর আলংকারিক প্রতিশ্রুতি চায় না। তারা চায় এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে পুলিশ ভয়ের নয়, আদালত ভরসার আর সরকার জনগণের অধিকার রক্ষক হবে শাসক নয়। কারণ গণতন্ত্র টিকে থাকে ব্যালট বাক্সে নয়Ñটিকে থাকে নাগরিকের মর্যাদায়।

লেখক: রাজনীতি বিশ্লেষক, সাবেক অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রেফারেন্ডাম ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার

মাথায় তোলা না কি আছাড়ের প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য বনাম তুর্কি নাগরিকের গল্প

ভারতে মুসলিমবিদ্বেষের নগ্ন দৃষ্টান্ত

লাতিন আমেরিকা কেন ট্রাম্পের টার্গেট?

ওসমান হাদির রাজনৈতিক বন্দোবস্ত

সেক্যুলার বুদ্ধিজীবী এবং রাজনীতির সংকট

আগ্রাসনের ভাষা ও উগ্র রাজনীতি

পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ কেনার কৌশলগত গুরুত্ব

বাংলাদেশপন্থার রাজনীতি ও ভারত