হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

স্বাধীন বাংলাদেশের সংস্কৃতির সংকট

গাজীউল হাসান খান

বিশ্বব্যাপীÑঅর্থাৎ আন্তর্জাতিকভাবে উন্নত প্রযুক্তি, প্রকৌশল কিংবা কৃষি, শিল্প ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার ক্ষেত্র এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে বেশ কিছু প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পেরিয়ে আজ একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমরা তা পরিষ্কারভাবে উপলব্ধি করতে পারছি। পৃথিবী প্রায় সব দিক থেকেই আমাদের চোখের সামনে দ্রুত বদলে যাচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদী কিংবা আধিপত্যবাদী অপতৎপরতা এবং এমনকি আন্তর্জাতিকতাবাদী ধ্যান-ধারণার কাছে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী চেতনা কিংবা ধ্যান-ধারণা বাধাগ্রস্ত এবং প্রতিরোধের সম্মুখীন হচ্ছে। মানুষের প্রথাগত কৃষ্টি-সংস্কৃতি, বৈচিত্র্য এবং বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলার উপক্রম হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন অঞ্চলভেদে মানুষের ঐক্য, সংহতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিন্যাসও বিপর্যস্ত হওয়ার সম্মুখীন হয়েছে। রাজনীতি মানুষের জীবনাচরণ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ওপরও নিদারুণ বিরূপ প্রভাব ফেলছে। সে কারণেই আজ আমাদের মনে হচ্ছে, বাঙালি জাতীয়তাবাদ আর বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এক ও অভিন্ন নয়। ভারতের ‘বন্দেমাতরম’ স্লোগান কিংবা হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রভাব ক্রমেই পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের জাতিগত ঐক্যে ফাটল ধরাচ্ছে এবং দুই বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। শুধু তা-ই নয়, আমাদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ঐক্যের ওপর ভারতের রাজনৈতিক প্রভাব একধরনের অর্থনৈতিক শোষণ কিংবা আধিপত্য বিস্তারের একটি দৃশ্যমান প্রক্রিয়া চালু করেছে। ফলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ধ্যান-ধারণা এখন শুধু কৃষ্টি-সংস্কৃতির দিক থেকেই নয়, আর্থরাজনৈতিক দিক থেকেও এক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।

সংস্কৃতি বলতে আজ আর শুধু ভাষা, সাহিত্য, সংগীত ও আমাদের খাদ্যাভ্যাসকেই বোঝায় না; এর অন্তরালে জড়িত রয়েছে আমাদের আর্থরাজনৈতিক স্বার্থ ও অস্তিত্বের প্রশ্ন। তাই আমাদের আবহমানকালের বিরাজমান কৃষ্টি-সংস্কৃতিগত অস্তিত্ব এখন এক মহাসংকটের সম্মুখীন। এই অবস্থাকে হিন্দুত্ববাদী কিংবা ভারতের আধিপত্যবাদী প্রভাব-প্রতিপত্তি থেকে উদ্ধার করতে না পারলে শুধু আমাদের আর্থরাজনৈতিক বিপর্যয়ই নয়, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিজস্ব জাতীয় স্বকীয়তাও হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমাদের গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের সম্ভাবনা ক্রমেই লোপ পেতে পারে। বাংলাদেশ বর্তমানে যে সংকটের সম্মুখীন হয়েছে, তা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে না পারলে বিদেশি আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসী থাবা থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে না। সে কারণেই বর্তমান বাংলাদেশকে তার সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য, অর্থনৈতিক স্বার্থ, রাজনৈতিক অগ্রগতি এবং সর্বোপরি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাকল্পে নতুন কিংবা যুগোপযোগী ধ্যান-ধারণা প্রণয়নে সচেষ্ট হতে হবে। নতুবা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে কিংবা আমাদের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যকে এগিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে আমরা আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্য বা দিগদর্শন হারিয়ে ফেলতে পারি।

এসব কারণে বাংলাদেশের অনেক নেতৃস্থানীয় রাজনৈতিক চিন্তাবিদ মনে করেন, বাংলাদেশে এখন ব্যাপকভাবে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অনুশীলন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আমাদের সমাজজীবনের সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চা পরিকল্পিতভাবে আবার শুরু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব বা সংকটময় পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রয়াত অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেছেন, রাজনীতিতে সংস্কৃতির ধারণাটি যুক্ত হয়েছে লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি এবং মাও জেদংয়ের নেতৃত্বে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মাধ্যমে। মার্ক্সবাদের সঙ্গে সংস্কৃতির মার্ক্সীয় ধারণাও পৃথিবীর সব রাষ্ট্র ও জাতির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে ইসলামের সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব ও মহান প্রতিপালকের সৃষ্টিকেন্দ্রিক পালনতত্ত্বের চিন্তা-চেতনা এবং সংস্কৃতিও প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। ফলে সাম্রাজ্যবাদী, আধিপত্যবাদী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার এবং শোষণ-শাসনের পুঁজিবাদী ধ্যান-ধারণাগুলোও বিশ্ববাসীর কাছে আরো পরিষ্কার হয়ে ওঠে। গণতন্ত্রের নামে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা করা হয়েছে, তা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক শোষণ-শাসন ও বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে। আমাদের দেশে বাম ধারার প্রগতিশীল এবং এমনকি বিভিন্ন গণতান্ত্রিক শক্তি বারবার তা উল্লেখ করলেও একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের অপতৎপরতার কারণে বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রাম দানা বেঁধে উঠেও বারবার ভেস্তে গেছে। সংগ্রামী মানুষ উপলব্ধি করেছেন, প্রগতির ধারাকে সফল করতে না পারলে আমাদের রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক দুর্গতি আরো বিস্তৃত এবং ঘনীভূত হবে এবং হয়েছে তা-ই । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ মার্ক্সবাদী রাজনীতির যে অবস্থা, গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অবস্থাও একই রকম।

উল্লিখিত কারণে বিভিন্ন কায়েমি স্বার্থ ও প্রতিক্রিয়াশীল ধ্যান-ধারণা থেকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অনুশীলন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বলে রাজনৈতিক চিন্তাবিদরা মতপ্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সেই গণতন্ত্র হতে হবে সর্বজনীন, নব্য উদারবাদী গণতন্ত্র নয়। বিগত প্রায় ১৬ বছরেÑঅর্থাৎ শেখ হাসিনার শাসনকালে, ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী শাসকদের আধিপত্যবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির প্রভাব বাংলাদেশে পড়েছে। অর্থবিত্ত ও নিজেদের কিংবা দলীয় স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে তারা আমাদের জাতীয় স্বার্থ, এমনকি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়টিও অগ্রাহ্য কিংবা পদদলিত করেছে। এর ফলে জাতীয় রাজনীতিতে স্বাধীনভাবে গণতন্ত্রের চর্চা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অনুশীলন ব্যাহত হয়েছে। সে কারণে সদ্য ক্ষমতায় আসা জাতীয়তাবাদী বলে পরিচিত গণতান্ত্রিক সরকারের উচিত হবে, আমাদের জাতিসত্তা ও সার্বিক স্বার্থ রক্ষার জন্য সর্বপ্রথম যাবতীয় সাংস্কৃতিক সংকট কাটিয়ে ওঠা। এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী ভারতের স্বার্থ ও জাতিগত অবস্থানের সঙ্গে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সার্বিক এবং বাস্তব পরিস্থিতিকে জোর করে মিলিয়ে ফেললে ভুল করা হবে। এতে আমাদের জনগণ জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক বিষয় থেকেও বঞ্চিত হবে। আমাদের আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে যে বৈশিষ্ট্য রয়েছে, স্বাধীন জাতিসত্তার বিকাশের জন্য অবস্থানগতভাবে সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিতেই হবে। কারণ, এই উপমহাদেশের মতো সনাতনী বঙ্গভূমি বা বাংলাও বিভক্ত হয়ে গেছে। বাংলাদেশ আজ একটি পৃথক, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। তাই এ অঞ্চলের জাতীয় নীতিমালা কিংবা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এখানকার জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে। এ অঞ্চলের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি এখন আর ভারতের সঙ্গে মোটেও এক ও অভিন্ন নয়। ভাষা ও সংস্কৃতিগত কিছু মিল থাকলেই একটি রাষ্ট্র গঠিত হয় না। এ ক্ষেত্রে পৃথিবীর বিভিন্ন ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষাভাষী রাষ্ট্রের দিকে তাকালেই তাদের অবস্থানগত স্বকীয়তা এবং পৃথক বৈশিষ্ট্যের কথা বোঝা যাবে। তাদের জীবনদর্শন, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ কিংবা সংস্কৃতি সম্পূর্ণ এক ও অভিন্ন নয়।

ভারতবর্ষে মুসলিম শক্তির উত্থান ও দিল্লি সালতানাত ১১৭৫-১২৯০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হলেও কাবুলের তরুণ রাজা জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের নেতৃত্বে মোগল সাম্রাজ্যের পত্তন হয়েছিল ১৫২৬ সালের দিকে। দুই ঘটনার মধ্যে প্রায় সাড়ে তিনশ বছরের ব্যবধান। এর মধ্যে আফগানিস্তানের এক অখ্যাত সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি ১২০৪ সালে বাংলার তৎকালীন হিন্দু ব্রাহ্মণ রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজত্ব আক্রমণ করেন। লক্ষ্মণ সেন তখন আকস্মিক ওই আক্রমণে দিশাহারা হয়ে রাজধানী নদীয়া ছেড়ে পূর্ববঙ্গে পালিয়ে যান। খিলজি তখন দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দিনের সম্মতিক্রমে বাংলার লক্ষণাবতী বা গৌড়ে একটি প্রাদেশিক মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তখন থেকে ওই প্রদেশের মধ্যে ইসলামি শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে অসংখ্য মসজিদ ও মাদরাসা-মক্তব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সে সময় থেকে বাংলায় কিছু সুফি ও ইসলাম সম্পর্কে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন আলেম-বুজুর্গ ইসলাম প্রচারে আগ্রহী হন। এরপর থেকে দীর্ঘকাল ধরে, অর্থাৎ ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত, বাংলায় মুসলিম শাসকদের প্রভাব-প্রতিপত্তি কখনো কমেনি।

বিশেষ করে, ইলিয়াস শাহি ও হোসেন শাহি রাজবংশের আমলে, অর্থাৎ বাংলার ইতিহাসে স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহর নেতৃত্বে এ শাসনের সূচনা হয়। তখন থেকে বাংলায় ইসলামের পাশাপাশি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের লক্ষণীয় অগ্রগতি হয়েছিল। পরবর্তী হোসেন শাহি আমলে, অর্থাৎ আলাউদ্দিন হোসেন শাহর শাসনকালে, ১৫১৫ সালে বাংলায় ‘মহাভারত’ রচিত হয়েছিল। তা ছাড়া মহাকবি আলাওল ১৬৪৮ সালে বাংলায় রচনা করেছিলেন প্রসিদ্ধ ‘পদ্মাবতী’ নামে ছন্দোময় কাব্যগ্রন্থ। ইলিয়াস শাহি ও হোসেন শাহি রাজবংশের সম্মিলিত শতাধিক বছরের শাসনামলে তৎকালীন বৃহত্তর বঙ্গে ইসলাম ধর্ম ও বাংলা ভাষার প্রচার-প্রসার ছাড়া আরো অনেক গৌরবময় স্থাপনাসহ ঐতিহাসিক অর্জন সাধিত হয়েছিল।

ব্রিটিশ শাসনামলে সেই ধারা বাধাগ্রস্ত হলেও ১৮৭২ সালে অনুষ্ঠিত আদমশুমারিতে দেখা যায়, পূর্ববঙ্গে বাঙালি মুসলমানদের সংখ্যা সমগ্র বাংলায় বসবাসকারী হিন্দুদের তুলনায় অনেক বেশি। তারপরও সমগ্র বঙ্গে বাঙালি জাতীয়তাবাদ বলতে বোঝানো হতো হিন্দু জাতীয়তাবাদ। সেখানে বাঙালি মুসলমানদের জীবনযাপন কিংবা জীবনাচরণের কোনো প্রতিফলন বা প্রাধান্য ছিল না। ঊনবিংশ শতকের বাঙালি সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ বা ‘রেনেসাঁ’র কথা বলা হয়, তা মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি বা সার্বিক অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজা রামমোহন রায় কিংবা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাঙালি মুসলমানদের অবস্থার পরিবর্তন কিংবা হিন্দুদের সঙ্গে তাদের বৃহত্তর সম্প্রীতি স্থাপনের কোনো কর্মসূচি হাতে নেননি। অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রসঙ্গে একটি উল্লেখযোগ্য পুস্তক প্রকাশ করেছেন। তাতে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাংলাদেশি মুসলমানদের অবস্থান নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশে সম্প্রতি বেশ কিছু অসংগতি এবং বাঙালি মুসলমানদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব বা প্রতিফলনের অভাবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৪ অক্টোবর ঢাকার জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতির সংকট : স্বরূপ সন্ধান’ প্রসঙ্গে একটি জনাকীর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে প্রথমে ড. মুস্তাফা মজিদ এ বিষয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণাধর্মী কথিকা পাঠ করেন। পরে তার ওপর জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। উল্লিখিত দুই বিশিষ্ট বক্তা ছাড়াও অনেকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তাদের মূল অভিযোগ ছিল একটিই—বাঙালি জাতীয়তাবাদের কোথাও একতার দোতারা, পল্লিগীতি ও খাদ্যাভ্যাসের মতো কিছু সাধারণ বিষয় ছাড়া নতুন বা পরিবর্তিত বাংলাদেশের কোনো গভীর এবং তাৎপর্যপূর্ণ তাত্ত্বিক প্রতিফলন নেই। সে কারণেই আমাদের সংস্কৃতির নীতিমালায় একুশ শতকের স্বাধীন বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি মুসলমানের জীবন-জীবিকা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং জাতিগত উন্নয়ন ও আশা-আকাঙ্ক্ষার ভাবধারা তুলে ধরা আবশ্যক। উচ্চতর মানের জাতীয় সংস্কৃতি গড়ে তোলার রূপরেখা অবিলম্বে প্রণয়ন করা উচিত। সেই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের গভীর গবেষণা, সংগ্রাম ও সাধনার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে হবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের তরুণ জাতীয়তাবাদী নেতা তারেক রহমান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যের নেতা এবং বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী চিন্তাশীল ব্যক্তিদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে আমাদের বর্তমান সাংস্কৃতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে এবং ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের জন্য যুগোপযোগী একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

লেখক: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা

ফ্রান্সসহ ইউরোপে বিক্ষোভের জন্য মুসলমানরা দায়ী!

এ রোড ম্যাপ টু বাকশাল-থ্রি

অর্থনীতির বিপদ ক্ষমতাসীনেরা টের পেতে শুরু করেছেন

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক কেন

মুসলিম দেশ কসোভোতে অন্য এক দৃষ্টান্ত

দিল্লি থেকে ইউরোপ: জেন-জি আন্দোলনের মডেল বাংলাদেশ

বলিষ্ঠ নেতৃত্বই পারে অনৈক্য দূর করতে

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গভর্নরের বৈঠক, ঢাকায় কার্যালয় খোলার আলোচনা

রাজনীতিতে গোয়েন্দা সংস্থা বিতর্ক

জাহাজ নির্মাণ শিল্প: হাতছাড়া হচ্ছে অপার সম্ভাবনা