মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ছিল পুরোপুরি দিল্লির অধীন। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দিল্লির অধীনতা থেকে মুক্ত হয়। এ সময় পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ঢাকা যখন তার নিজস্ব স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে, তখন বাংলাদেশ তীব্র এক টানাপোড়েনের কবলে পড়ে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টার ঢেউ হাজার হাজার মাইল দূরে ওয়াশিংটনে সরাসরি আঘাত করে। ওয়াশিংটন কোনো রাখঢাক না করে একেবারে প্রকাশ্যেই চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক অধিকতর গভীর করার ক্ষেত্রে আপত্তি জানায়। এছাড়া পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ঘটনায় অসহায় নয়াদিল্লি চেষ্টা করে নানা ধরনের অস্থিরতা তৈরির। তলে তলে অব্যাহত থাকে বিভিন্ন মহলের নানামুখী চাপ ও গভীর ষড়যন্ত্র। নিজস্ব স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বনের চেষ্টার ফলে সৃষ্ট টানাপোড়েন বর্তমানে নতুন মাত্রা লাভ করেছে।
হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশের পর থেকে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়, তার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন মহল থেকে বারবার একটি বিষয় সামনে হাজির করা হয়েছে। সেটি হলো—বাংলাদেশকে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করতে হবে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, তারা মেরুদণ্ড সোজা করে বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বনের কথা বলছে না।
ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি কথাটা শুনতে বেশ ভালো মনে হলেও আসলে এর অন্তরালে লুকিয়ে আছে মেরুদণ্ডহীন নতজানু পররাষ্ট্রনীতি। ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির একটি সোজা মানে হলো, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরাগভাজন হওয়া যাবে না। এর আরেকটি মানে হলো, চীনের বিপরীতে ভারতের সঙ্গেও আমাদের সমান সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। সার্বিকভাবে এর মানে দাঁড়ায়—বাংলাদেশ তার নিজের স্বার্থে বাণিজ্যিক, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা অপরিহার্য মনে করলেও সেটা সে স্বাধীনভাবে করতে পারবে না, কারণ তাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত অসন্তুষ্ট হবে। চীনের সঙ্গে অধিক সম্পর্ক করতে গিয়ে ওয়াশিংটনকে ক্ষেপিয়ে তোলা যাবে না। তার মানে দাঁড়াল—ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি হলো দিল্লি ও ওয়াশিংটনের ইচ্ছা, হুমকি ও স্বার্থের কাছে ঢাকাকে নতজানু থাকতে হবে নিজের স্বাধীন ইচ্ছা, স্বার্থ, নিরাপত্তা ইস্যু ও মর্যাদাকে বিসর্জন দিয়ে হলেও। তাই জেনেশুনে হোক আর না জেনেশুনে হোক, যারাই বাংলাদেশকে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন, আসলে তারা নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বনের কথাই বলছেন। তারা এখনো ওয়াশিংটন ও দিল্লিভীতি কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
বাংলাদেশ যদি চীনের সহায়তায় তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে, তাহলে দিল্লি ভীষণ অসন্তুষ্ট হবে। কারণ দিল্লি একে তার নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে। একইভাবে বাংলাদেশ যদি চীনের প্রস্তাব অনুযায়ী মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে করিডোর স্থাপন করে, চীনের সঙ্গে অধিকতর বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়ে তোলে, জে-১০ সি’র মতো আধুনিক ফাইটার জেট ও দূরপাল্লার মিসাইল, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহ করে, তাহলে দিল্লির পাশাপাশি ওয়াশিংটনও ঢাকার প্রতি অসন্তুষ্ট হবে। এ অবস্থায় ঢাকা যদি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করা থেকে পিছিয়ে আসে, করিডোর প্রস্তাবে সাড়া না দেয় এবং তিস্তা প্রকল্প থেকেও চীনকে বাদ দেয় বা নামেমাত্র রাখে, তাহলে সেটাকে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বলার যেমন কোনো সুযোগ নেই, তেমনি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি না বলে তাকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি হিসেবেই আখ্যায়িত করতে হবে।
মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করেছিলেন। নামেমাত্র স্বাধীন এ ধরনের করদরাজ্য ছাড়া বিশ্বের প্রায় সব রাষ্ট্রই তার জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কোনো কোনো দেশের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলে, আবার কোনো কোনো দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক রক্ষা করে চলে। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়—এটা কোনো দেশের পররাষ্ট্রনীতি হতে পারে না। এই নীতি বস্তুত রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও প্রয়োজনীয়তাকেই অস্বীকার করার শামিল। কারণ রাষ্ট্র মানেই আরেক রাষ্ট্রের শত্রু। তা না হলে আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোনো প্রয়োজন হতো না। বর্তমান মানবসভ্যতার উৎকর্ষের এই চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেও বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ, সংঘাত, শত্রুতা ও প্রতিযোগিতা বন্য প্রাণীদের আধিপত্যকেন্দ্রিক লড়াইকেও হার মানিয়েছে। এই যখন অবস্থা, তখন ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির নামে আসলে সেই ‘কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ বস্তাপচা নীতি নতুনভাবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, যা পরিত্যাগ করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পথেই হাঁটতে হবে।
সংসদে পর্যন্ত কোনো কোনো এমপি যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন, প্রতিবেশী বদলানো সম্ভব নয়, তাই ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতেই হবে। অথচ তারা ভুলে গেছেন, ভারতই শেখ হাসিনাকে দিয়ে বাংলাদেশে মাফিয়াতন্ত্র, গুম, খুন, আয়নাঘর রচনা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করিয়েছে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে গলাটিপে হত্যা করেছে। আর হাসিনার পতনের দুই বছর পরও তারা এখনো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ষড়যন্ত্র করে চলছে। বাংলাদেশে আবার হাসিনা যুগ ফিরিয়ে আনতে তারা এখনো মরিয়া।
বাংলাদেশের সব সরকারই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলতে চেয়েছে। কিন্তু দিল্লির কাছে ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক মানে হলো ভারতকে প্রভু হিসেবে মেনে নেওয়া; নত শিরে, বিনা প্রশ্নে ও বিনা প্রতিদানে তাদের সব স্বার্থ আর চাওয়া বিরামহীনভাবে পূরণ করে যাওয়া—যেমনটা করেছিলেন তাদের সেবাদাসী শেখ হাসিনা। এই বাস্তবতা জেনেও যারা ‘প্রতিবেশী বদলানো সম্ভব নয়’ বলে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষার পক্ষে নানা বয়ান হাজির করছেন, তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য যে ভিন্ন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
ভারত আমাদের প্রতিবেশী। কিন্তু ভারত এমন এক প্রতিবেশী, যারা আমাদের একটি প্রকৃত স্বাধীন-সার্বভৌম শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর চেষ্টার ঘোরতর বিরোধী। কারণ ভারত মনে করে, বাংলাদেশ একটি প্রকৃত স্বাধীন-সার্বভৌম শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ালে তাদের সেভেন সিস্টার্সের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা বিপন্ন হবে। সে কারণে তারা বাংলাদেশকে সবসময় তাদের নতজানু করে রাখতে চায় এবং বাংলাদেশকে সর্বতোভাবে শোষণের ক্ষেত্রে পরিণত করতে চায়। ভারত বাংলাদেশকে সবসময়ই হাসিনার যুগের মতো করে পেতে চায়। ভারতের মতো এ ধরনের বাংলাদেশবিরোধী একটি ষড়যন্ত্রকারী ও শত্রু রাষ্ট্রের শত্রুতা মোকাবিলায় আজ বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য চীনের সঙ্গে গভীরভাবে বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়ে তোলা। চীনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বাংলাদেশের এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বলে দেওয়া হয়েছে, বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে চীনের ওপর বাংলাদেশকে অধিক নির্ভরশীল হওয়া যাবে না।
চীনের উত্থান মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বহুকাল ধরে এ অঞ্চলে ভারতকে তার এজেন্ট ও মোড়লিপনার দায়িত্ব দিয়ে রেখেছে। চীন ঠেকাও নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বিস্তার রোধ করতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল। এর ফলে দেড় যুগ ধরে ভারত বাংলাদেশকে করদরাজ্য বানিয়ে সর্বগ্রাসী শোষণের ক্ষেত্রে পরিণত করেছে। শেষ পর্যন্ত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বহুমুখী বিরোধের কারণে বাইডেন প্রশাসন শেষের দিকে বাংলাদেশের দিকে বিশেষ মনোযোগ দেয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরানোর লক্ষ্যে সে সময় ওয়াশিংটনের ঢাকাকেন্দ্রিক নানা তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্বাচনকে প্রকৃত অর্থে অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে শেখ হাসিনার ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করে ওয়াশিংটন। একের পর এক ঢাকায় আসতে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এ অবস্থায় বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ আশা করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টায় এবার হয়তো তারা মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনার কবল থেকে মুক্ত হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আবার বাংলাদেশকে ভারতের হাতে নতুন করে অর্পণ করে এখান থেকে বিদায় নেয়।
বাংলাদেশ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের তখন সেই চেষ্টা ও উদ্যোগের ফলে ঢাকা দিল্লির হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়। দিল্লি তা কোনো অবস্থাতেই মেনে নিতে রাজি ছিল না। ফলে দিল্লি ঢাকাকে নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সর্বোচ্চ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয় এবং ঢাকাকে তার কব্জায় রাখার বিষয়ে অনমনীয় অবস্থান ব্যক্ত করে। ওয়াশিংটনকে তারা জানিয়ে দেয়, হাসিনাকেই ক্ষমতায় রাখতে হবে। তা না হলে এখানে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটবে এবং চীন প্রবেশ করবে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য তার দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটানোর পথ থেকে ফিরে যায়। ভারতের অনমনীয় অবস্থানের কাছে নতি স্বীকার করে বাইডেন প্রশাসন। কেবল তা-ই নয়, হাসিনার তামাশার নির্বাচনের পর হাসিনা সরকারকে মেনে নিয়ে ওই বছর ফেব্রুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক পত্র পর্যন্ত দেওয়া হয়। সেই পত্রে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট এবং একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গঠনে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মাফিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমরা ভারতকে যেভাবে দায়ী করি, যুক্তরাষ্ট্রের নাম সেভাবে সামনে আনা হয় না। অথচ ২০০৮ সালে ওয়াশিংটনের সমর্থন ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে নয়াদিল্লি সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। সেই নির্বাচনের ফলাফল আগেই ঠিক করে রাখা হয়েছিল দিল্লিতে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে এবং আঞ্চলিক প্রতিনিধি হিসেবেই ভারত বাংলাদেশকে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শেখ হাসিনাকে দিয়ে বিরোধী দমনে গুম, খুন, আয়নাঘর রচনাসহ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে বহু আগেই বাংলাদেশে ভারতের এই অরাজকতা ও শেখ হাসিনার অপকর্ম বন্ধ হতে পারত। কিন্তু ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে তাদের চোখ-কান সম্পূর্ণ বন্ধ করে রেখেছিল। বস্তুত বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বিস্তার রোধ, জঙ্গিবাদ বিষয়ে ভারতের মিথ্যা বয়ান, আঞ্চলিক আধিপত্যকেন্দ্রিক রাজনীতিসহ আরো বিভিন্ন বিষয়ে ওয়াশিংটন-দিল্লির যৌথ বোঝাপড়া ও বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে ভারত এখানে শেখ হাসিনার মাধ্যমে একচ্ছত্র আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং দেড় যুগ পর্যন্ত তা টিকিয়ে রাখার সুযোগ পায়।
তাই আজ যারা চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ে ভীত, তাদের অতীতের দিকে ফিরে তাকানো অপরিহার্য। তাই বলে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, ভারতের সঙ্গে শত্রুতা করব? তা নয়, কিন্তু আমরা কার সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করব আর কার সঙ্গে করব না, সেটা বলে দেওয়ার এখতিয়ার অন্য কোনো রাজধানী থেকে অবশ্যই আসতে পারবে না। সেটা হতে হবে ঢাকার একান্ত নিজস্ব বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র তার বাণিজ্যিক স্বার্থে বাংলাদেশের চীনের ওপর অধিক নির্ভরশীল হওয়া পছন্দ করবে না। সে তার স্বার্থে এটা চাইতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সেই চাওয়া যদি ভারতের চাওয়ার সঙ্গে একাকার হয়ে যায়, ভারতের ষোলোকলা স্বার্থ পূরণ করে, এখানে ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সেই চাওয়া পূরণ করা হবে কি না—সে বিষয়ে আমাদের মেরুদণ্ড সোজা রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েও যদি বাংলাদেশের কোনো সরকার সেটা না পারে, তাহলে তাদের রাজনীতি করা উচিত নয়।
লেখক : সহকারী সম্পাদক, আমার দেশ