হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

শিক্ষাব্যবস্থার বিপর্যয় ও মানহীন বিশ্ববিদ্যালয়

কমডোর জসীম উদ্দীন ভূঁইয়া (অব.)

সম্প্রতি ইউনেসকোর একটি চটকদার জরিপ দেখে আমি স্তব্ধ হয়েছি। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সি জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ মাস্টার্স ডিগ্রিধারী নিয়ে বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষার হারে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে, যা নাকি আঞ্চলিক নীতিনির্ধারণে আমাদের প্রভাব শক্তিশালী করবে! ভেতরের খবর না জেনে দেওয়া আন্তর্জাতিক সংস্থার এই সার্টিফিকেট যে কতটা অন্তঃসারশূন্য ও হাস্যকর, তা ২০২৫ সালের বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ের নির্মম আয়নার দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে যায়। সেই বৈশ্বিক সূচকের শীর্ষ ৮০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ভারতের ২২টি এবং পাকিস্তানের ৯টি প্রতিষ্ঠান জায়গা পেলেও বাংলাদেশের একটিও নেই। এই বৈপরীত্য আমাদের আসল দেউলিয়াত্ব এবং জাতীয় মননের চরম দারিদ্র্যকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়।

ইউজিসি ও ব্যানবেইসের সর্বশেষ সরকারি প্রতিবেদন অনুসারে, দেশে বর্তমানে ৪৭ লাখেরও বেশি টার্শিয়ারি স্তরের শিক্ষার্থী রয়েছে। কাগজে-কলমে এই বিশাল সংখ্যাকে ‘দক্ষ জনশক্তি’ প্রমাণের অলীক আত্মতৃপ্তি নেওয়া হলেও, আমাদের দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আজ শুধু দক্ষতাহীন ‘সনদপত্র’ বিতরণের কারখানায় পরিণত হয়েছে।

সস্তা প্রশংসার আড়ালে আমাদের মূলধারার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মেরুদণ্ডহীন ও অকার্যকর হয়ে পড়ছে। শিক্ষক নামক দলবাজদের আড্ডাখানা গবেষণাহীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আজ দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মানহীন এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই আজ দেশের প্রচ্ছন্ন শত্রু।

১. নৌবাহিনীর শিক্ষা : জাহাজের প্রধান শত্রু এবং জীবনরক্ষার প্রথম পাঠ

নৌবাহিনীর দীর্ঘ চাকরিজীবনে আমাদের একটি অত্যন্ত মৌলিক জীবনমুখী শিক্ষা দেওয়া হয়, ‘জাহাজের আসল শত্রু কে?’ একটি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ মানেই প্রযুক্তিসম্পন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, সংবেদনশীল ওয়্যারিং এবং ধ্বংসাত্মক গোলাবারুদে ঠাসা এক নিশ্ছিদ্র অস্ত্রাগার। একই সঙ্গে সেখানে নাবিকদের তিনবেলার খাবারের জন্য রয়েছে বিশাল রান্নার ব্যবস্থা । এই কমপ্যাক্ট পরিবেশে জাহাজের এক নম্বর শত্রু কোনো বহিঃশত্রুর মিসাইল নয়; জাহাজের প্রধান শত্রু হলো ‘আগুন’ । আর এ কারণেই বিশ্বের সব নৌবাহিনীর জাহাজে প্রতিদিন বিকালে বাধ্যতামূলক ‘ফায়ার ফাইটিং ড্রিল’ বা আগুন নেভানোর মহড়া করা হয়। কারণ, জাহাজে একবার আগুন লাগলে এবং তা সময়মতো নেভানো না গেলে জাহাজটি আস্তে আস্তে কাত হয়ে মাঝসমুদ্রেই ডুবে যায়। তাই টিকে থাকার প্রথম পাঠ হিসেবে এই এক নম্বর শত্রুকে চেনা এবং তার বিরুদ্ধে লড়াই করা শেখানো হয়। শত্রু না চিনলে, যুদ্ধজয়ের আগেই নিজের জাহাজ কয়লা হয়ে তলিয়ে যাবে।

২. উচ্চশিক্ষার অন্দরমহল : শত্রু না চেনার খেসারত এবং একটি প্রজন্মের জীবন্ত দহন

নৌবাহিনীর ফায়ার ফাইটিং দর্শনের সঙ্গে আমাদের উচ্চশিক্ষার হুবহু মিল রয়েছে। জীবনের মূল্যবান পাঁচ-ছয়টি বছর ও অর্থ বিনিয়োগের পরও যখন লাখ লাখ তরুণ কর্মসংস্থান পায় না, তখন সেই শিক্ষাব্যবস্থা একটি জাতীয় বিপর্যয়। আজ শুধু সামাজিক মর্যাদার লোভে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকছে এবং পরিশ্রম ছাড়াই সহজে সার্টিফিকেট পেয়ে যাচ্ছে। জাহাজের আগুনের মতোই এই সস্তা সার্টিফিকেট, মানহীন পরীক্ষা, রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি এবং জবাবদিহিহীন শিক্ষকরা হলেন আমাদের উচ্চশিক্ষার ‘এক নম্বর শত্রু’। এই অভ্যন্তরীণ শত্রুদের বিরুদ্ধে এখনই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ব্যবস্থা না নিলে আমাদের অর্থনীতি ছারখার হয়ে যাবে, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের অপমৃত্যু ঘটবে এবং যুবসমাজের নৈতিক পতন ও সামাজিক ব্যাধি দাবানলের মতো পুরো দেশকে গ্রাস করবে।

৩. উচ্চশিক্ষার অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিকীকরণ : নীতিনির্ধারকদের হঠকারিতা বনাম ব্যবসায়ীদের মনস্তত্ত্ব

একটি মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা মেধাবীদের জন্য সংরক্ষিত থাকা উচিত, যারা গবেষণা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড দেবে। কিন্তু বাংলাদেশে ঘটেছে উল্টো; ব্যাঙের ছাতার মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশের মালিক চতুর ব্যবসায়ী ও পুঁজিপতি, যাদের কাছে শিক্ষা ট্যাক্স-ফ্রি মুনাফা অর্জনের বাণিজ্যিক হাতিয়ার। ন্যূনতম মান ছাড়াই এখানে কোটি কোটি টাকায় সার্টিফিকেট বিক্রি হচ্ছে। এমনকি বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য নামমাত্র ‘নৈশকালীন কোর্স’ চালিয়ে মৌলিক জ্ঞানহীন শিক্ষার্থীদের হাতে টাকার বিনিময়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি তুলে দিচ্ছে, যা শিক্ষার নামে চরম জালিয়াতি। উচ্চশিক্ষাকে এভাবে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক পণ্যে পরিণত করায় এবং যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে উপাচার্য ও শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ায় ডিগ্রির মান আজ সম্পূর্ণ তলানিতে ঠেকেছে।

৪. ট্রাস্টি বোর্ডের বাণিজ্যিকীকরণ বনাম মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা : প্রাতিষ্ঠানিক লোভের নির্মম রূপ

আমাদের উচ্চশিক্ষা আজ প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির করালগ্রাসের কবলে। যার নগ্ন রূপ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের বাণিজ্যিকীকরণ। আইন অনুযায়ী এগুলো ‘অলাভজনক’ হওয়ার কথা থাকলেও আজ তা স্রেফ ‘সনদবাণিজ্যের’ করপোরেট প্রতিষ্ঠান, যেখানে উপাচার্যরা ক্ষমতাহীন পুতুল মাত্র। স্বনামধন্য এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিদের বিরুদ্ধে ৩০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিলাসবহুল গাড়ি কেনার মামলা বিচারাধীন এবং আরেকটি প্রতিষ্ঠানের জমি কেনা কেলেঙ্কারি ও ৪৪৫ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম নিয়ে দুদক তদন্ত করছে। শিক্ষাঙ্গনে ব্যবসায়িক অর্থলিপ্সা আজ দেশের ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করছে।

৫. শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলার চরম অবক্ষয় ও দুর্নীতি : উপাচার্য ও শিক্ষকদের দলীয় কোন্দল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে আজ শিক্ষা ও গবেষণার পরিবর্তে ঘুস, অন্ধ দলীয় আনুগত্য এবং আত্মীয়তাবাদের একচ্ছত্র রাজত্ব কায়েম হয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘২ কোটি টাকায় উপাচার্য পদ বিক্রি’র খবর দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে।

আজ ক্যাম্পাসগুলোয় বিশৃঙ্খলা ও পচনের মূলে রয়েছেন খোদ উপাচার্য ও শিক্ষকরা। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মারামারি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যা জাতির জন্য খুবই লজ্জার।

৬. মেধার জীবন্ত কবর : লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি বনাম একটি প্রজন্মের সামাজিক অবক্ষয়

বিশ্ববিদ্যালয় মানেই নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও গবেষণার পবিত্র পীঠস্থান। অথচ বাংলাদেশের নির্মম বাস্তবতা হলো, এখানে গবেষণার সংস্কৃতিকে সমাহিত করে শুধু সস্তা ‘সার্টিফিকেট’ বিতরণকেই একমাত্র লক্ষ্য বানানো হয়েছে। বিবিএস ও বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, দেশে উচ্চশিক্ষিত যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব প্রায় ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ! প্রতি তিনজনে একজন গ্র্যাজুয়েট পাস করার পর টানা দুই বছর সম্পূর্ণ বেকার বসে থাকে। এই পরিসংখ্যান লাখ লাখ পরিবারের কান্না এবং একটি প্রজন্মের মেধার জীবন্ত কবর।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় দীর্ঘকাল ধরে বিদ্যমান দলীয় লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি এ দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি অন্যতম কালো অধ্যায় হয়ে আছে। বিশেষ করে, মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনার আমলে দেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দলবাজ প্রশাসন বশ্যতা শিকার করেছিল দুর্বৃত্ত ছাত্ররাজনীতির কাছে। যার একটি পরিণতি হলো বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের নির্মম হত্যাকাণ্ড। শুধু এই ধ্বংসাত্মক ছাত্ররাজনীতি নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতিও দীর্ঘকাল ধরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ধ্বংসের অন্যতম কারণ হিসেবে বিরাজ করছে।

৭. ঐতিহাসিক সংকট : শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি ও নেতৃত্বের পুনর্জাগরণ

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আজ চরিত্র গঠন, গভীর আত্মশুদ্ধি (Self-purification) এবং দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব তৈরির বুনিয়াদি দর্শন শেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে। আমরা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষমতার রাজনীতির কাছে বন্ধক রেখেছি। পিছিয়ে থাকার এই ৬৩ বছরের গ্লানি মুছতে হলে এবং ঐতিহাসিক বিপর্যয় থেকে বাঁচতে হলে, উচ্চশিক্ষার খোলনলচে বদলে ফেলে চরিত্র, নৈতিকতা ও দক্ষতার এক নতুন বিপ্লব সূচনা করতে হবে।

৮. সমাধান ও রূপরেখা : চীনের সঙ্গে জাতীয় চুক্তি এবং কারিগরি শিক্ষার বিপ্লব

এই ভয়াবহ জাতীয় সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের এখনই একটি বৈপ্লবিক ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রথমত, আমাদের ঢালাওভাবে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তি অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। উচ্চশিক্ষা সবার জন্য নয়; এটি প্রতিভাসম্পন্ন এবং প্রকৃত মেধাবীদের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত।

আমরা যদি আমাদের পার্শ্ববর্তী অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের দিকে তাকাই, তবে দেখব তারা এ সংকটকে কতটা কঠোর ও দূরদর্শিতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করেছে। চীনে উচ্চশিক্ষার প্রাথমিক ধাপেই একটি কঠোর ছাঁটাই প্রক্রিয়া রয়েছে। তারা ঢালাওভাবে সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ দেয় না। তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক পর্যায়েই বাধ্যতামূলকভাবে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষায় নিয়োজিত করে। যার ফলে চীনের তরুণ সমাজ বেকারত্বের বোঝা না হয়ে, সরাসরি দেশের উৎপাদনশীল শিল্প খাতের দক্ষ চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়। সম্প্রতি চীনের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) অ্যাপ ‘ডিপসিক’ (Deep Seek) পুরো বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। অত্যন্ত কম খরচে তৈরি এই বৈপ্লবিক এআই প্রযুক্তির প্রবক্তা হলেন ৪০ বছর বয়সি লিয়াং ওয়েনফেং, যিনি চীনের ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। লিয়াং তার এই অসাধ্য সাধনের জন্য চীনের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে সেরা সেরা গবেষক ও কারিগরি কর্মীদের বাছাই করেছিলেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই কারিগরি বিপ্লব কীভাবে সফল করা সম্ভব, তার একটি সফল বাস্তব উদাহরণ আমাদের নিজেদের দেশেই রয়েছে। ২০০৯ সালে আমি যখন বাংলাদেশ নেভি ডকইয়ার্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম, তখন আমার হাত করেই ‘বাংলাদেশ নেভি ডকইয়ার্ড টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট’র (BNDTI) কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের এক ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। ডকইয়ার্ডের এই টেকনিক্যাল ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার আন্তর্জাতিক গুরুত্ব ও গুণগত মান এতটাই উচ্চপর্যায়ের ছিল যে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা আইএলও (ILO) কারিগরি শিক্ষার একদল শিক্ষার্থী বা ব্যাচের সম্পূর্ণ অর্থায়ন করেছিল, যাতে তারা বাংলাদেশ নেভি ডকইয়ার্ডের CSTI থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে এবং পরে বাংলাদেশের বিভিন্ন বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষক (Trainer) হিসেবে অবদান রাখতে পারে। একইভাবে, এই শিক্ষার অনন্য মান ও যোগ্যতার কারণে বিশ্বব্যাংকও (World Bank) শিক্ষার্থীদের ছয়টি ব্যাচের প্রশিক্ষণের জন্য সরাসরি অর্থায়ন করেছিল। নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডের এই সফল ও ফলপ্রসূ মডেলটি প্রমাণ করে যে, তাত্ত্বিক সার্টিফিকেটের পেছনে না ছুটে যুবসমাজকে যদি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে হাতে-কলমে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা দেওয়া যায়, তবে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা কোনো কঠিন বিষয় নয়।

তাই বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে রাষ্ট্রীয় বাজেট কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার দিকে ডাইভার্ট করতে হবে।

২৭ দশমিক ৮ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের ভয়ংকর হার মাথায় নিয়ে ইউনেসকোর চটকদার সার্টিফিকেটের অলীক মোহে অন্ধ থাকার সুযোগ নেই। মানহীন ডিগ্রিধারী তৈরি করে সমাজকে অপরাধের অভয়ারণ্য বানানোর এই আত্মঘাতী খেলা বন্ধ করার এখনই শেষ সময়। কারণ মেধা ও দক্ষতাহীন এই ‘দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত দেশের সুপ্ত শত্রু’।

আমাদের মূল সংকট সুন্দর পরিকল্পনার অভাব নয়, বরং তা বাস্তবায়নের সদিচ্ছা। দীর্ঘদিনের এই বাস্তবায়নহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে এবার মন্ত্রণালয়কে দ্রুত ও সরাসরি অ্যাকশনে নামতে হবে। ট্রাস্টি বোর্ডের অশুভ প্রভাব ও উপাচার্য পদের প্রশাসনিক বিচ্যুতি কঠোর হস্তে দমন করার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে কাগজে-কলমে অগ্রাধিকার না দিয়ে বাস্তবভিত্তিক রূপ দিতে হবে। চীনের কারিগরি মডেল অনুসরণ করে যুবশক্তিকে সরাসরি দক্ষ করে তোলার মাধ্যমেই শুধু একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ জয় করে একটি মেধাভিত্তিক অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সম্ভব।

লেখক : সাবেক সহকারী নৌবাহিনী প্রধান ও উপ-উপাচার্য, বিইউপি

শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা

অর্থনীতির গতি ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি

ইরানি বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস ও মার্কিন ক্যাম্পাসে কণ্ঠরোধ

‘মৌলবাদী অর্থনীতি’ থেকে ইসলামি ব্যাংকিং

ভবদহ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান

ইরান যুদ্ধ গুঁড়িয়ে দিয়েছে আমিরাতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা

‘কিচেন ক্যাবিনেট’ সংস্কৃতির গতিপ্রকৃতি

শিক্ষাবিদ ও সংস্কারক প্রফেসর মুহাম্মাদ আব্দুল বারী

দেশ আর ৫ আগস্টের আগে ফিরবে না

রামিসা-লামিয়াদের জন্য শোকগাথা