হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

ইরানের চেয়ে বড় হুমকি ইসরাইল

শন ইয়ম

ইরান যুদ্ধের সময় প্রায় তিনশটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন জর্ডানের ওপর দিয়ে উড়ে গেছে। এর বেশিরভাগই আঘাত হানে এই ছোট আরব দেশটির মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে। তেহরানের সঙ্গে জর্ডান কখনোই সংঘাতে জড়াতে চায়নি। জুলাই মাসের এক হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন জর্ডানের সামাজিক কর্মীরা। শতাধিক কর্মী তখন একটি দাবিতে সই করেন। দেশে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতির প্রকাশ্য বিরোধিতা করে তাদের জর্ডান ছাড়ার দাবি জানান তারা।

পাশ্চাত্যের গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা এ ঘটনা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। জর্ডানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তাও জানায়। তাদের ভয় হলো, জনতার এই অসন্তোষ হয়তো রাজতন্ত্রকে দুর্বল করে দেবে। মনে রাখা দরকার, বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান ও নির্ভরযোগ্য বন্ধু।

তবে জর্ডানের সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এক ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে। তাদের চিন্তার জায়গাটা একেবারেই আলাদা। ইরান যুদ্ধ নিয়ে তাদের ক্ষোভ পুরোপুরি সত্য। কিন্তু সেই ক্ষোভ ফিকে হয়ে যায় অন্য এক ভয়ে। ইসরাইল যদি পশ্চিমতীর দখল করে নেয়, তবে জর্ডানের অস্তিত্বই হুমকিতে পড়বে। এ ভয়টাই এখন তাদের সবচেয়ে বড় চিন্তা।

জর্ডানের মানুষের ধারণা খুবই পরিষ্কার। ইসরাইল যদি পশ্চিমতীরের ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করে, তবে দলে দলে ফিলিস্তিনি জর্ডানে চলে আসতে বাধ্য হবে। এতে জর্ডানের জনসংখ্যা এবং রাজনৈতিক কাঠামো চরম চাপে পড়বে। যে স্থিতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র হয়ে উঠেছিল, তা এক মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। জর্ডানের মানুষ এই শঙ্কার নাম দিয়েছেÑ‘আল-ওয়াতান আল-বাদিল’। সহজ কথায় এর অর্থ হলো বিকল্প জন্মভূমি। অর্থাৎ, ইসরাইল চায় ফিলিস্তিনিরা জর্ডানকেই তাদের নিজের দেশ বানিয়ে নিক।

ইসরাইল যদি সত্যিই পশ্চিমতীর দখল করে, তবে তারা কোন পদ্ধতিতে এগোচ্ছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সেটার ওপরই নির্ভর করবে জর্ডানের ভাগ্য। অসলো চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিমতীরকে তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল। পশ্চিমতীরের প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির বেশিরভাগই বাস করেন ‘এ’ এবং ‘বি’ এলাকায়। এই এলাকাগুলোতে রয়েছে বড় বড় শহর। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বা পিএ কমবেশি এগুলো পরিচালনা করে। অন্যদিকে সবচেয়ে বড় এলাকা হলো ‘সি’। এই এলাকাটি পুরো ভূখণ্ডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এখানে প্রায় আড়াই লাখ ফিলিস্তিনি সরাসরি ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে বাস করছে। এই ‘সি’ এলাকাতেই এখন ইসরাইল সবচেয়ে বেশি বসতি স্থাপন করছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো ইসরাইল একই সঙ্গে ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’ তিনটি অঞ্চলেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ফলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। শুরু হবে জর্ডানের দিকে ফিলিস্তিনিদের এক বিশাল গণহিজরত। আর সবচেয়ে নরম প্রস্তাবটি হলোÑইসরাইল শুধু ‘সি’ অঞ্চল এবং পূর্ব জেরুসালেম দখলে নিতে চায়। এতে হয়তো ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নড়বড়ে একটি কাঠামো টিকে থাকবে। কিন্তু এর মাধ্যমে ইসরাইল ভবিষ্যতে হেবরন এবং নাবলুসের মতো বড় ফিলিস্তিনি শহরগুলোতে ঢোকার সুযোগ পেয়ে যাবে। ফিলিস্তিনিরা তখন গাদাগাদি করে ছোট ছোট অঞ্চলে আটকে পড়বে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তাদের জর্ডানে চলে যেতে হবে।

কত মানুষ ঘরবাড়িছাড়া হবে, তা নির্ভর করছে কোন কোন এলাকা দখল করা হচ্ছে এবং কতটা শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে, তার ওপর। এমনকি সবচেয়ে ‘সহজ পরিস্থিতি’Ñঅর্থাৎ শুধু ‘সি’ অঞ্চল দখল করলেও অন্তত পাঁচ লাখ ফিলিস্তিনি জর্ডানে প্রবেশ করবে। আর যদি পুরো পশ্চিমতীর দখল করা হয়, তবে এই সংখ্যা কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা ভাবাও কঠিন।

২০০০ সালের পর থেকে জর্ডান কম সংকট পার করেনি। তারা সন্ত্রাসবাদ সামলেছে। ইরাক ও সিরিয়া থেকে আসা লাখ লাখ শরণার্থীর চাপ সহ্য করেছে। এরপর এলো আরব বসন্ত। বেকারত্ব আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে বছরের পর বছর রাজপথে প্রতিবাদ হয়েছে। মাত্র পাঁচ বছর আগে বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর রাজপ্রাসাদেও ষড়যন্ত্রের কালো ছায়া পড়েছিল। ওদিকে সিরিয়া সীমান্ত দিয়ে মাদকের অবৈধ চোরাচালান জর্ডানের নিরাপত্তাকে সবসময় অস্থির করে রেখেছে।

এত কিছুর পরও জর্ডান কিন্তু টিকে আছে। শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ভর করে রাজতন্ত্র একটা সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে। তারা একদিকে যেমন হালকা শাসন বজায় রাখে, তেমনি অন্যদিকে গণতান্ত্রিক সংস্কারের আশ্বাস দেয়। এই স্থিতিশীলতার কারণেই জর্ডান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ রক্ষার প্রধান ঢাল হয়ে উঠেছে। জর্ডানে ডজনখানেক মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান রসদ সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করছে তারা। শুধু এ বছরই জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ২০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা পেয়েছে।

১৯৯৪ সালে জর্ডান ও ইসরাইলের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু আজ গাজা যুদ্ধ এবং লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের কারণে পশ্চিমতীর দখলের ভয় নতুন করে চাঙা হয়েছে। দুদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমে গেছে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুদেশের নিরাপত্তাকেন্দ্রিক যোগাযোগ এখনো চালু আছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ইসরাইলের দিকে ধেয়ে আসা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতেও জর্ডান সাহায্য করেছিল। কিন্তু এরপরও দুদেশই নিজেদের রাষ্ট্রদূতদের ফিরিয়ে নিয়েছে এবং জ্বালানি চুক্তি বাতিল করেছে। বাদশাহ আবদুল্লাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমতীর দখল করার চেষ্টা করলে জর্ডান তা কখনোই মেনে নেবে না। এটি তাদের শেষ সীমা। জর্ডানের নীতিনির্ধারকরা আভাস দিয়েছেন, ইসরাইল এগোলে আম্মান ১৯৯৪ সালের শান্তি চুক্তি বাতিল করে দিতে পারে।

আম্মানের এই গভীর উদ্বেগের পেছনে রয়েছে এক জটিল ও পুরোনো ইতিহাস। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত জর্ডানি এবং মূল জর্ডানিদের সম্পর্ক সবসময় সহজ ছিল না। ১৯৭০ সালের ‘ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর’ গৃহযুদ্ধ উভয়ের মধ্যে গভীর অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছিল। সেই থেকে এক অস্বস্তিকর ভারসাম্য বজায় রেখে চলছে তারা। মূল জর্ডানি উপজাতিগুলো রাষ্ট্র এবং সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে। আর ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত জর্ডানিরা দেশের অর্থনীতি সচল রাখে। কিন্তু রাজনীতিতে তাদের ক্ষমতা খুবই সীমিত।

এই ব্যবস্থার কারণে জাতীয় পরিচয়ের মূল প্রশ্নগুলো এখনো উত্তরহীন রয়ে গেছে। মূল জর্ডানি জাতীয়তাবাদীরা প্রায়ই ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূতদের সন্দেহের চোখে দেখে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত জর্ডানিরা দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ করে আসছে।

বহু প্রজন্ম ধরে জর্ডানের রাজতন্ত্র স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে এসেছে। তাদের জন্য এটি ছিল এক ধরনের নিরাপত্তাকবচ। মূল জর্ডানিরা বিশ্বাস করত, ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাজ্য গঠিত হলে ফিলিস্তিনিরা নিজ দেশে ফিরে যাবে। আর ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূতদের কাছে এই স্বাধীন ফিলিস্তিনের স্বপ্নটি ছিল রাজনৈতিক অসহায়ত্বের কষ্ট ভুলে থাকার উপায়। ইসরায়েলি আগ্রাসন প্রতিহত করার এই যৌথ লক্ষ্যই তাদের ভেতরের দূরত্ব ভুলিয়ে রাখত। গাজা যুদ্ধের সময়ও জর্ডানে ইসরাইলবিরোধী বিশাল বিক্ষোভ দেখা গেছে, যা ছিল পুরো অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম বড় সমাবেশ।

কিন্তু পশ্চিমতীর দখল হয়ে গেলে এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বপ্ন মুছে গেলে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল আবার উসকে উঠবে। মূল জর্ডানিরা ভয়ে থাকবে যে তারা বুঝি নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য হারিয়ে ফেলল। অন্যদিকে নতুন করে আসা ফিলিস্তিনিদের যাওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না। ফলে তারা পূর্ণ নাগরিক অধিকারের দাবি তুলবে। একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় এই দাবিগুলো রাজপথে বড় ধরনের প্রতিবাদ আর সরকারের কঠোর দমনপীড়নের এক বিষাক্ত চক্র তৈরি করতে পারে।

এই নতুন বিপুল জনগোষ্ঠীর আগমন জর্ডানের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেবে। দেশের সরকারি ঋণ এখন ৮৩ শতাংশে পৌঁছেছে, তরুণদের বেকারত্বও আকাশছোঁয়া। জেরুসালেমের পবিত্র স্থানগুলোর রক্ষক হিসেবে জর্ডান রাজপরিবারের যে বিশেষ সম্মান ছিল, ফিলিস্তিন হাতছাড়া হলে সেটিও নষ্ট হবে। দেশের ভেতরে সরকারের বৈধতা সংকটে পড়বে। তার ওপর জর্ডানের মাটিকে ব্যবহার করে চরমপন্থি দলগুলো ইসরাইলে হামলার পরিকল্পনা করবে। ফলে রাজপথে নামবে সাধারণ মানুষের ঢল, আর দেশে তৈরি হবে তীব্র অস্থিরতা।

পশ্চিমতীরে ইসরাইলের দখলদারিত্ব জর্ডানের জনসংখ্যা, রাজনীতি এবং অর্থনীতিÑসবকিছুর ভিত নাড়িয়ে দেবে। দেশটি হয়তো মানচিত্র থেকে মুছে যাবে না, তবে তারা বছরের পর বছর ধরে দীর্ঘস্থায়ী এক সামাজিক সংঘাতের মুখোমুখি হবে।

জর্ডানের পক্ষে একাকী ফিলিস্তিনিদের এই আগমন আটকে দেওয়া সম্ভব নয়। সত্যি সত্যি যদি পশ্চিমতীর দখল হয়ে যায়, তবে জর্ডান হয়তো ১৯৯৪ সালের শান্তি চুক্তি বাতিল করবে। সীমান্ত পারাপার বন্ধ করে দেবে এবং সীমান্তে সেনাবাহিনী মোতায়েন করবে। একই সঙ্গে জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি বন্ধের হুমকি দিয়ে ইসরাইলকে থামানোর আর্জি জানাবে।

তবে এই পদক্ষেপগুলো শেষ পর্যন্ত কাজ নাও করতে পারে। জর্ডান মার্কিন সহায়তার ওপর এতটাই নির্ভর করে যে, মার্কিন ঘাঁটিগুলো রাতারাতি বন্ধ করা তাদের জন্য খুবই কঠিন। গাজার সঙ্গে মিসরের সীমান্ত যেমন সমতল, জর্ডানের বিষয়টি তেমন নয়। পশ্চিমতীরের সঙ্গে জর্ডানের ৬০ মাইলের এক দীর্ঘ ও দুর্গম সীমান্ত রয়েছে। জর্ডান সেনাবাহিনীর পক্ষে পাহাড়ি এই সীমান্ত পুরোপুরি সিল করে দেওয়া অসম্ভব। তাছাড়া, জর্ডানের রাজধানী আম্মান সীমান্ত থেকে মাত্র ২০ মাইল দূরে অবস্থিত। ফলে একবার উদ্বাস্তু ফিলিস্তিনিরা ঢুকে পড়লে রাজপরিবারের পক্ষে তাদের ফেরত পাঠানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।

জর্ডানের নেতারা একসময় ভাবতেন, কৌশলগত সুবিধার কথা চিন্তা করে ইসরাইল হয়তো কখনোই পশ্চিমতীর দখল করবে না। কিন্তু এখন সেই পুরোনো হিসাবনিকাশ দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

প্রথমত, ইসরাইলের কাছে জর্ডান এখন আর আগের মতো অপরিহার্য কোনো ‘বাফার স্টেট’ নয়। ইসরাইলের জন্য আঞ্চলিক হুমকি অনেকটাই কমে গেছে। হামাস এবং হিজবুল্লাহর শক্তি এখন অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতন ঘটেছে। আর ইরানও ভেতর ও বাইরের চাপে দিশাহারা। এছাড়া ২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকোর্ডের মাধ্যমে অন্য আরব দেশগুলোর সঙ্গেও ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।

এই নতুন পরিস্থিতিতে ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থিদের কাছে জর্ডানের স্থায়িত্ব রক্ষার চেয়ে পশ্চিমতীরের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় দাবি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দ্বিতীয়ত, পশ্চিমতীর দখলের এই দাবি এখন আর কোনো চরমপন্থি গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন ইসরায়েলি মূলধারার রাজনীতিতে জায়গা করে নিয়েছে। সেখানকার প্রায় সব প্রধান রাজনৈতিক দলই এখন পশ্চিমতীরের কোনো না কোনো অংশ দখলের কথা বলছে। পশ্চিমতীরে বসতি স্থাপন বাড়ানো এবং নতুন আইন করে জমি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কাজ ইসরাইল বেশ জোরেশোরেই চালিয়ে যাচ্ছে।

জর্ডানের মানুষের ভয় হলো, বাইরের কোনো শক্তিই ইসরাইলকে থামাতে পারবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হয়তো এই দখলদারিত্বকে বেআইনি বলবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপ তো গাজা যুদ্ধকেও থামাতে পারেনি।

ফলে এখন একমাত্র ওয়াশিংটনের হাতেই ক্ষমতা আছে এই সিদ্ধান্তকে আটকে দেওয়ার। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিমতীর দখলের বিরোধিতা করেছেন, তবু জর্ডানের ভয় হলো শেষ মুহূর্তে ওয়াশিংটন হয়তো বরাবরের মতোই ইসরাইলের পক্ষই নেবে।

জর্ডানের এক সাংবাদিক ঠিকই বলেছেন, বাইরের কেউ এসে রক্ষা করবে, এমন আশায় বসে থেকে অতীতে বারবার ঠকতে হয়েছে। তাই পশ্চিমতীর দখলের এই বিভীষিকা থেকে চোখ সরাতে পারছেন না জর্ডানের মানুষ।

ফরেন পলিসি থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর : জুলফিকার হায়দার

সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা

পতাকা বদলেছে শাসন নয়

মেধাভিত্তিক নিয়োগের পথে নতুন শঙ্কা

সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এখন বাংলাদেশের স্বপ্ন

ছোট পর্দায় ইউএস ওপেনের ফাইনালের সঙ্গে ক্রিকেটের রোমাঞ্চ

১৫ লাখ টাকা হারিয়ে দুধ দিয়ে গোসল, জুয়া ছাড়লেন যুবক

জীবনের সকল ক্ষেত্রে রাসূল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে: মাওলানা আবদুল হালিম

ঝুঁকি এড়াতে এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান

৮ কোটি টাকার সড়ক, দুই মাসেই বেহাল দশা

ফটিকছড়িতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডাবা হারুন গ্রেপ্তার