হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

সাধারণ চাওয়াগুলো পূরণ কি অসম্ভব

মেহেদী হাসান

এ দেশের মানুষ নিজের পকেটের টাকা খরচ করে অনেক কষ্ট সহ্য করে শহর থেকে সুদূর গ্রামে যান শুধু একটি ভোট দেওয়ার জন্য। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পছন্দের প্রার্থীকে একটি ভোট দিতে পেরে তারা যে শান্তি আর তৃপ্তি অনুভব করেন, তা কোনো কিছু দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। এমনকি হাসপাতালের বেডে থাকা রোগী হাতে ইনজেকশনের ক্যানোলা লাগানো অবস্থায় অন্যের সাহায্য নিয়ে ভোটকেন্দ্রে এসেছেন ভোট দিতে, এমন নজিরও এবার ঘটেছে। মানুষ বাসে, ট্রেনে, লঞ্চের ছাদে মিছিলে মিছিলে গ্রামে গেছেন ভোট দিতে। এই মানুষগুলো এটা আশা করেন না, নির্বাচনের পর তাদের প্রার্থী বিজয়ী হলে সবাইকে রাতারাতি ধনী করে দেবেন। বরং তারা চান একটুখানি শান্তি আর স্বস্তি।

এ দেশের সাধারণ মানুষের চাওয়া খুব বেশি নয়। সাধারণ মানুষের চাওয়াগুলো খুবই সাধারণ। সাধারণ সেই চাওয়াগুলো পূরণ করা সরকারের পক্ষে অসম্ভবও নয়। মানুষ বিশ্বাস করেন শুধু সরকার আন্তরিক হলেই তাদের এই সাধারণ চাহিদাগুলো পূরণ করা সম্ভব।

এ দেশে সরকারের পর সরকার আসে কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য কারণে সাধারণ মানুষের সাধারণ চাওয়াগুলো বারবার অপূর্ণই থেকে যায়। শুধু অপূর্ণ থেকে যায় তা নয়, বরং দিন দিন জটিল রূপ ধারণ করে। সাধারণ মানুষের জীবন ক্রমেই কঠিন থেকে কঠিনতর হতে থাকে। শুধু সাধারণ এই চাহিদাগুলো পূরণ করতে না পারার কারণে বাংলাদেশে বিপুল ভোটে নির্বাচিত কোনো সরকারই পরবর্তী নির্বাচনে আর জয়ী হতে পারেনি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রতিটি সুষ্ঠু নির্বাচনে জনগণ প্রতিবার সরকার পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। প্রতিবার ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে গণরায়ের মূলে ছিল মোটা দাগে সাধারণ মানুষের সাধারণ চাওয়াগুলো পূরণে বড় মাত্রার ব্যর্থতা। বস্তুত, ক্ষমতার প্রতি শাসকবর্গের সীমাহীন লোভ এবং আজীবন ক্ষমতায় থাকার বাসনাই গণমানুষের প্রকৃত মুক্তির পথে বারবার প্রতিবন্ধকতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

পতিত মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনার আমলে বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষকে জিম্মি করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করা হতো । বাজারকেন্দ্রিক এই শোষণব্যবস্থা স্থায়ীভাবে চেপে বসে এ দেশের নিপীড়িত মানুষের ওপর। মানুষ এখন এর অবসান চায়। বাজারকেন্দ্রিক সিন্ডিকেট, সব অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর আর কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায় দেশের মানুষ।

সরকার যদি সত্যিই চায় বাজারকে রাহুমুক্ত করে পণ্যের স্বাভাবিক দাম নিশ্চিত করতে, তবে এটি অসম্ভব কিছু নয়। বর্তমান সরকারের সামনে এ ক্ষেত্রে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে রয়ে গেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মডেল। দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি দেশের হাল ধরেছিলেন তিনি। জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে জিয়াউর রহমান তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন অসৎ মজুতদারদের বিরুদ্ধে এবং সুষ্ঠু বিপণন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে। তিনি নিজে সরাসরি এ কাজে যুক্ত হয়েছিলেন। বিপণন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সারা দেশের প্রতিটি পণ্যগুদামের তালিকা হাতে নিয়ে তিনি নিয়মিত মনিটরিং করতেন কোন গুদামে কী পরিমাণ পণ্য কতদিন ধরে মজুত আছে। কোন গুদামে প্রতিদিন কোন কোন পণ্য আসে এবং কোন গুদাম থেকে পণ্য খালাস হয়ে কোথায় যায়, তার প্রতিটি পদক্ষেপ তিনি নিজে তদারকি করতেন। এর ফলে আলাদিনের চেরাগের মতো বাজারে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যায়। এ ছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে তিনি কৃষি ও শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে ‘উৎপাদনের রাজনীতি’সহ যেসব যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, তা স্থায়ীভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি করে দেয়, যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে মূলত আজকের বাংলাদেশ।

১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুবার বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পায়। এ সময় দেশের অন্যতম সমস্যা ছিল বিদ্যুৎ ঘাটতি। বিদ্যুৎ খাতের সেই দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনা ২০০৯ সাল থেকে এই খাতের উন্নয়নের নামে লুটপাটের অন্যতম হাতিয়ারে পরিণত করেন। বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধান না করে শেখ হাসিনা সরকার এ ক্ষেত্রে দেশবিরোধী যেসব পদক্ষেপ নেয়, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল লুটপাট ও ভারতকে সন্তুষ্ট করা। স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কয়েক গুণ দামে মানুষকে কিনতে বাধ্য করা হয়।

শেখ হাসিনার দেড় যুগের শাসনামলে বিদ্যুৎ খাতের লুটপাটের চিত্র তুলে ধরতে গত বছর জানুয়ারি মাসে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে বলা হয়, দেড় যুগে আওয়ামী লীগ ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ১ লাখ কোটি টাকা লুট করেছে। ওই সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ কীভাবে বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করে দলীয় অলির্গাকদের ভাগবাটোয়ারা করে দিয়েছিল, তার চিত্র তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে তখন বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী। তিনি তখন বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুতে যেসব উন্নয়ন করা হয়েছে, সেটি টেকসই ছিল না। যেকোনো সময় মুখ থুবড়ে পড়বে। দুর্নীতির ধরন দেখে বোঝা যায়, তারা এই খাতকে ফোকলা করে দিয়েছে… ।

ওই সংবাদ সম্মেলন থেকে বিএনপি তখন সরকারের প্রতি দাবি জানায় আওয়ামী লীগ আমলে বিদ্যুৎ খাতের সব চুক্তি জনসম্মুখে হাজির করার।

আওয়ামী লীগ আমলে বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম পর্যালোচনায় অন্তর্বর্তী সরকার একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে এবং তারা একটি রিপোর্ট জমা দেয়। তাতে বলা হয়, সরকারের একতরফা চুক্তির কারণে বর্তমানে বাংলাদেশকে প্রতিবছর ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি গচ্চা দিতে হচ্ছে। দেশের মানুষের দাবি, বর্তমান সরকার আওয়ামী আমলে করা দেশবিরোধী সব চুক্তি প্রকাশ করবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ খাতের স্থায়ী সমাধান এবং বিদ্যুৎ খাতে বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য দ্রুত স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে। কারণ, বিদ্যুৎ খাতের উন্নতি না করে কোনো সরকারের পক্ষে বাংলাদেশে জনতুষ্টি অর্জন সম্ভব নয়। বাজারব্যবস্থার ভালোমন্দ যেমন প্রতিদিন মানুষকে স্পর্শ করে, তেমনি প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে মহাভোগান্তির শিকার হন। তা ছাড়া বর্তমানে ইরান যুদ্ধের কারণ বিশ্বব্যাপী যে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, তাতে বিদ্যুৎ, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতকেতে তেল-গ্যাসনির্ভরতা থেকে মুক্ত করে বিকল্প স্বনির্ভর টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবহেলার আর কোনো সুযোগ নেই।

বর্তমান যান্ত্রিক সভ্যতা দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যুতের ওপর। কিন্তু গভীর পরিতাপের বিষয় হলো ৫৪ বছর হলো দেশ স্বাধীন হয়েছে; কিন্তু কোনো সরকারই আজ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই খাতের স্থায়ী সমাধানের কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের যে চিত্র বর্তমান বিশ্বে তা কল্পনাও করা যায় না। বাংলাদেশে অর্থের অভাব ছিল না। শুধু রাজধানী ঢাকার যানজট দূর করার নামে শেখ হাসিনার আমলে ১০ বছরে ১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে । গত বছর মে মাসে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ঢাকার যানজট দূর করার নামে সংশোধিত এসটিপির অধীনে আগামী ২০ বছরে আরো ৫৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ বিদ্যুতের মতো সমস্যা সমাধানে এ ধরনের কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নেওয়া হয় না। বরং বিদ্যুতের মতো অতিশয় স্পর্শকাতর বিষয়ে স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে অতিশয় উচ্চমূল্যে আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে ভারতের মতো দেশের কাছ থেকে।

ঘুস, দুর্নীতি ও অনিয়ম বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। অনিয়মই এখন বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়মে পরিণত হয়েছে। ঘুস, দুর্নীতি আর পদে পদে নাজেহাল হওয়া ছাড়া এ দেশে সাধারণ মানুষের পক্ষে সরকারি সেবা পাওয়া সম্ভব নয়। ঘুস, দুর্নীতি, ভাগবাটোয়ারা, চাঁদাবাজি আর লুটপাট ছাড়া এ দেশে কোনো উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা চিন্তা করা যায় না। অথচ শুধু উন্নয়ন কার্যক্রমকেন্দ্রিক লুটপাট বন্ধ করা গেলে কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের চেহারা আমূল বদলে ফেলা সম্ভব হতো। ঘুস-দুর্নীতির এই প্রাতিষ্ঠানিক অভিশপ্ত চক্র থেকে মুক্তি চায় দেশের মানুষ। সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে, সরকার চাইলে এই অভিশপ্ত চক্র ভাঙা অসম্ভব নয়।

সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ঘুস-দুর্নীতি দমনে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায় দেশের মানুষ। এ ক্ষেত্রে নতুন সরকারের কাছ থেকে কঠোর ও আপসহীন পদক্ষেপের প্রত্যাশায় রয়েছে দেশবাসী।

অতীতে বারবার ব্যাপক ভোটে নির্বাচিত প্রতিটি সরকার দ্রুত অজনপ্রিয় হয়েছে নিয়ন্ত্রণহীন চাঁদাবাজি আর দলীয় বাহিনীর সন্ত্রাসের কারণে। মানুষ চায় জীবনের নিরাপত্তা। ভয়ভীতিহীন অবস্থায় মানসম্মান নিয়ে সমাজে বেঁচে থাকতে চায় তারা। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলোÑগত ২৫ ফেব্রুয়ারি একদিনে দেশে তিনটি ঘটনা ঘটেছে, যাতে স্তম্ভিত দেশবাসী। এর মধ্যে নরসিংদীতে গণধর্ষণের শিকার ১৫ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষকরা তার বাবার কাছ থেকে অপহরণ করে নিয়ে হত্যা করেছে। লোমহর্ষক এ ঘটনার রেশ না কাটতেই ২৭ তারিখ রাতে পাবনার ঈশ্বরদীর ভবানীপুরে গভীর রাতে একটি বাড়িতে ঢোকে দাদিকে হত্যা করে তার ১৫ বছরের নাতনিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ঘাতকরা। এসব ঘটনার কোনো কোনোটিতে সরকারি দলের লোকজনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার পর জনমনে তীব্র ভীতি, আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে, যা ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট উৎসবকে সম্পূর্ণরূপে ম্লান করে দিয়েছে। কারণ নতুন সরকারের আমলে মানুষ এসব আশা করেনি। জনমনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হলে কঠোর হস্তে এসব অরাজকতা দূর করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।

পতিত মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনার মূলনীতি ছিল বিরোধীদের দমন-পীড়ন, হত্যা, ধ্বংস এবং উন্নয়নের নামে লুটপাট। সব পদ্ধতি ধ্বংস করে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে। সুশাসন বলতে কিছু ছিল না। কেড়ে নেওয়া হয়েছিল মানুষের, বিশেষ করে বিরোধীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার। গুম ও খুনের মাধ্যমে ভয়ের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বিচার বিভাগকে পরিণত করা হয়েছিল দলীয় ও পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে। পুলিশসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থাকে পরিণত করা হয় দলীয় বাহিনী ও বিরোধী দমন যন্ত্রে। পাশাপাশি বিরোধীদের দমনের জন্য দলীয় লোকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল রাষ্ট্রীয় অস্ত্র।

তাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে আইনের শাসন, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিকতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার বাস্তবায়ন দেখতে চান মানুষ। দেশ পরিচালনায় অতীতের মাফিয়া সরকারের দমন-পীড়নের নীতি আর দেখতে চায় না এ দেশের জনগণ। কাজেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, বিরোধী মতের প্রতি সম্মান দেখানোর পাশাপাশি তাদের গঠনমূলক সমালোচনাকে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারকে মনে রাখতে হবে, দমন-পীড়ন ও ধ্বংসাত্মক উপায়ে দেশ পরিচালনার নীতি দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেন। জনভোগান্তি দূর করে জন-আস্থার প্রতিদান দিতে সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

শিক্ষিত যুবসমাজের প্রধান দাবি কর্মসংস্থান, মেধার মূল্যায়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং শোষণ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। সর্বস্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়ন মানুষের অন্যতম প্রধান চাওয়া।

লেখক : সহকারী সম্পাদক, আমার দেশ

শিক্ষাব্যবস্থার বিপর্যয় ও মানহীন বিশ্ববিদ্যালয়

শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা

অর্থনীতির গতি ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি

ইরানি বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস ও মার্কিন ক্যাম্পাসে কণ্ঠরোধ

‘মৌলবাদী অর্থনীতি’ থেকে ইসলামি ব্যাংকিং

ভবদহ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান

ইরান যুদ্ধ গুঁড়িয়ে দিয়েছে আমিরাতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা

‘কিচেন ক্যাবিনেট’ সংস্কৃতির গতিপ্রকৃতি

শিক্ষাবিদ ও সংস্কারক প্রফেসর মুহাম্মাদ আব্দুল বারী

দেশ আর ৫ আগস্টের আগে ফিরবে না