জ্বালানি জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। গোটা বিশ্বে এখনো প্রায় সব আধুনিক যুদ্ধমেশিন সরাসরি ফসিল ফুয়েলের ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের লজিস্টিক সাপোর্ট, সাপ্লাই চেইনসহ গোটা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা ছাড়া। এ অবস্থায় বাংলাদেশের মতো দেশ, যেখানে ৯৮ শতাংশ জ্বালানির উৎস ফসিল ফুয়েল, সেখানে দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি সংকট সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি বড় ধরনের হুমকি। জ্বালানিসংকটের কারণে যদি একটি দেশের অর্থনীতি আক্রান্ত হয়, সেটাও পরোক্ষভাবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি ডেকে আনে। ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের জ্বালানি সংকট ও জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি মোকাবিলায় জ্বালানি খাতকে ফসিল ফুয়েল-নির্ভরতা থেকে যেমন উত্তরণ ঘটানো দরকার, তেমনি নবায়নযোগ্য টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। কারণ বর্তমানে একটি দেশকে সামরিক দিক দিয়ে শক্তিশালী হতে হলে আধুনিক সমরাস্ত্রের পাশাপাশি এখন অপরিহার্য বিবেচ্য বিষয় হলো টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
করোনার সময় বিশ্বব্যাপী একটি বড় বোঝায় পরিণত হয় জ্বালানি তেল। জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় উৎপাদনকারী দেশগুলো তথা যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের উৎপাদিত জ্বালানি তেল নিয়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র, কারণ তাদের তেল রাখার কোনো জায়গা অবশিষ্ট ছিল না। ফলে তেল উৎপাদনকারীরা ক্রেতাদের অর্থ দেয় তেল কিনে সংরক্ষণের জন্য। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম মাইনাস ৩৭ ডলারে নেমে আসে এবং বিশ্বে নজির স্থাপন করে। আকস্মিক চাহিদা কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম তখন ১০ ডলারে নেমে আসে। তেল নিয়ে যখন তাদের এই চরম দুর্ভোগ তখন ভারতের মতো আমদানিনির্ভর অনেক দেশ আক্ষেপ করতে থাকে অধিক তেল মজুতের জন্য অবকাঠামো না থাকায়।
করোনার কারণে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেয় চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে। আর বর্তমানে জ্বালানিসংকট দেখা দিয়েছে ইরান যুদ্ধের কারণে। ভারতসহ যেসব দেশ করোনার সময় পর্যাপ্ত মজুত অবকাঠামো না থাকায় আফসোস করেছে, সেই একই আফসোস এখনো তাদের করতে হচ্ছে। উভয় ক্ষেত্রে কারণ একই, তথা দীর্ঘ মেয়াদে তেলের মজুত অবকাঠামো না থাকা।
চার বছরের অধিক সময় ধরে বিশ্ব টানা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো চলছে। এরই মধ্যে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামাস-ইসরাইল যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জড়িয়ে পড়ে ইরান, ইয়েমেন, লেবানন ও ইরাকের মিলিশিয়া বাহিনী। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু থেকেই রাশিয়া বনাম গোটা পশ্চিমা বিশ্বের প্রক্সি যুদ্ধে পরিণত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গোটা ইউরোপ এ যুদ্ধে ইউক্রেনকে সরাসরি অর্থ, অস্ত্র ও সব ধরনের যুদ্ধকৌশল ও বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে যাচ্ছে। ফলে এ যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি বড় ধরনের প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে। রাশিয়ার ওপর জ্বালানি অবরোধ আরোপের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২৪২ বিলিয়ন ডলারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হাইড্রোজেন অবকাঠামো ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রকল্প গ্রহণ করে, যা আগামী বছর শেষ হবে।
কিন্তু অব্যাহত এ যুদ্ধ ও ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট মাথায় রেখে বাংলাদেশসহ অনেক দেশই কৌশলগত তথা দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি মজুত গড়ে তোলা বা ফসিল ফুয়েলের বিকল্প কোনো বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তোলারও কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি, যা অতিশয় দুর্ভাগ্যজনক। দীর্ঘ টানা চার বছরের যুদ্ধ থেকেও বাংলাদেশ কোনো শিক্ষা গ্রহণ না করায় বর্তমানে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি দেশ।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি দিন জ্বালানি তেল মজুত রাখতে পারে জাপান। জাপানে ৯ মাসের প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল মজুত রাখার অবকাঠামো রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীন সাত মাসের জ্বালানি তেল মজুত রাখতে পারে। চীন বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ। অপর দিকে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেলের আমদানিকারক ও বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেলের ভোক্তা। কিন্তু ভারতে দুই মাসেরও কম জ্বালানি তেল মজুতের অবকাঠামো রয়েছে, যা বর্তমানে দেশটিতে গভীর জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের ৮০ শতাংশই পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করে এবং ৪০ থেকে ৪৫ দিনের বেশি মজুত অবকাঠামো নেই।
বর্তমানে যুদ্ধে অন্যতম প্রধান টার্গেট প্রতিপক্ষের জ্বালানি ও বিদ্যুৎব্যবস্থা ধ্বংস করা। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যে ধ্বংসাত্মক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের সব গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের এখন লক্ষ্য ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করা।
এ অবস্থায় দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি মজুতও একটি হুমকি। কিন্তু তারপরও দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি মজুত অবকাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প নেই। কারণ যুদ্ধবিহীন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট থেকে অর্থনীতির চাকা সচল ও জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে এটি অপরিহার্য।
তবে ফসিল ফুয়েল হোক আর নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, উভয় ক্ষেত্রে এখন এমন কৌশল অবলম্বন করা দরকার, যাতে শত্রুপক্ষ একক কোনো হামলার মাধ্যমে বড় পরিসরে ধ্বংস সাধন করতে না পারে। জ্বালানি বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গোটা দেশকে অসংখ্য ছোট ছোট ইউনিটে ভাগ করা যেতে পারে। কমিউনিটিভিত্তিক সৌরচালিত বিদ্যুৎ, বায়োগ্যাসসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে যুদ্ধ ছাড়াও এ ধরনের জ্বালানি সংকটের ক্ষেত্রে দেশকে গুরুতর সংকট থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
চীন-তুরস্কসহ অনেক দেশ সৌরবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎচালিত গাড়ির ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছে। বর্তমানে চীনে যত গাড়ি চলে তার ১০ শতাংশ বিদ্যুৎচালিত, যা অত্যন্ত পরিবেশবান্ধব। ফলে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকট চীনের পরিবহন খাতকে তেমন কাবু করতে পারেনি। চীনের লক্ষ্য গোটা পরিবহন ব্যবস্থাকে বিদ্যুৎনির্ভর করা এবং এ বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সৌরব্যবস্থার মাধ্যমে। পাশাপাশি তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতাও পরিত্যাগ করতে হবে অবিলম্বে।
বিশ্বের অর্ধেকের বেশি ইলেকট্রিক গাড়ি রপ্তানি করে এখন চীন। অপর দিকে ইউরোপের ইলেকট্রিক গাড়ির কেন্দ্র হতে যাচ্ছে তুরস্ক। ইউরোপ, চীনসহ বিশ্বের অনেক দেশ ফসিল ফুয়েল জ্বালানিনির্ভরতা কাটিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে। চীন তাদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের বর্তমানে ৯ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে পেয়ে থাকে। বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা বর্তমানে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, যা দুর্ভাগ্যজনক। প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো মূল্যবান একটি জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে আরেকটি জ্বালানি তৈরির কাজে, যা এ সম্পদের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।
ভবিষ্যৎ যুদ্ধ, জ্বালানিসংকট, পরিবেশ, জলবায়ু সবকিছু বিবেচনায় আমাদের ফসিল ফুয়েলনির্ভরতা কাটিয়ে টেকসই পরিবেশবান্ধব জ্বালানিব্যবস্থা গড়ে তোলার আর কোনো বিকল্প নেই। আর এ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুচালিত বিদ্যুৎ হতে পারে অন্যতম সমাধান।
পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড। এটিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৫৫ বছরে বাংলাদেশে আর কোনো ক্রুড অয়েল রিফাইনারি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বাংলাদেশের মতো জ্বালানি তেল আমদানিনির্ভর দেশে স্বাধীনতার এত দীর্ঘ সময় পরও নতুন কোনো রিফাইনারি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া এবং বিদ্যমান রিফাইনারির সক্ষমতা বৃদ্ধি না করা দেশ ও জাতির জন্য অতিশয় দুর্ভাগ্যের বিষয়। রিফাইনারি প্রতিষ্ঠা করলে একদিকে প্রতি বছর পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বাবদ যেমন রক্ষা পেত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার, তেমনি পরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানি করে আয় করা যেত বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।
বাংলাদেশে যে পরিমাণ জ্বালানি তেলের প্রয়োজন, তার মাত্র ২০ ভাগ রিফাইন করতে সক্ষম ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড। বাকি ৮০ ভাগ পরিশোধিত জ্বালানি তেল তথা ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েল ভারত, চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ভারত থেকে ডিজেল আমদানির জন্য ২০১৮ সালে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন স্থাপন চুক্তি করে। নির্মাণ শেষে ২০২৩ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের পলাতক মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনা এ পাইপলাইন উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ এ পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি করে। বাংলাদেশ বর্তমানে ভারত থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে পাঁচ লাখ টন ডিজেলসহ অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে।
অভিযোগ রয়েছে ভারতের স্বার্থে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে আজ অবধি নতুন কোনো ক্রুড অয়েল রিফাইনারি প্রতিষ্ঠা করেনি।
অথচ ভারত তার জ্বালানি তেলের চাহিদার ৮৫ শতাংশ অপরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করে নিজেরা রিফাইন করে থাকে। কেবল তা-ই নয়, ভারত কম দামে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে পরিশোধনের পর ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও জেট ফুয়েল আকারে তা অতি উচ্চ মূল্যে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ আয় করে থাকে। এটি ভারতের অন্যতম প্রধান একটি বাণিজ্যিক কৌশল। ভারত প্রতি বছর যে পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে তার চার ভাগের এক ভাগ পরিশোধন করে বিদেশে বিক্রির উদ্দেশ্যে। পরিশোধন করে বিদেশে বিক্রির জন্য ভারত দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ব্যবহার করে। জ্বালানি ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভর দেশ হয়েও ভারত বিশ্বের চতুর্থ রিফাইনারি দেশ এবং পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানিকারক হিসেবে দেশটির অবস্থান বিশ্বে সপ্তম।
অথচ বাংলাদেশ আজ দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বাবদ বিপুল পরিমাণ কষ্টার্জিত ডলার বিদেশে পাঠিয়ে চলছে। একটি দেশ যখন তার কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় সব জিনিসের ক্ষেত্রে বিদেশের ওপর নির্ভরশীল, তখন সেই দেশের স্বাধীনতা বাস্তবে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। আমাদের অতিমাত্রিক ক্ষমতালোভী রাজনীতিবিদরা বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছেন। ক্ষমতার বাসনা, ক্ষমতায় গিয়ে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ভালো কিছু করা—এসব মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। বিশ্বের যারাই যে দেশে ক্ষমতায় রয়েছেন, তাদের সবার মধ্যেই কম-বেশি ক্ষমতার প্রতি এ বাসনার কারণেই তারা ক্ষমতার চেয়ারে বসতে পেরেছেন। কিন্তু দেশের স্বার্থ বিদেশের কাছে বিকিয়ে দিয়ে হলেও যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় যাওয়া এবং ক্ষমতা ধরে রাখার যে উদাহরণ বাংলাদেশের অনেক রাজনীতিবিদ স্থাপন করেছেন, তা বিশ্বে অনেকটা বিরল।
স্বাধীনতার পর থেকে ভারত ফারাক্কা বাঁধসহ বিভিন্ন ড্যাম নির্মাণ করে পানিকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের উচিত ছিল ভারত যেন বাংলাদেশকে আর কোনোভাবে জিম্মি করতে না পারে, সে পদক্ষেপ গ্রহণ করা। কিন্তু অতিশয় দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশকে আরো সর্ব উপায়ে জিম্মি করার সব হাতিয়ার ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তি এবং ভারত থেকে ডিজেল আমদানির জন্য গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন এ ক্ষেত্রে দুটি নিকৃষ্ট উদাহরণ।
লেখক : সহকারী সম্পাদক, আমার দেশ