বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এই ভূখণ্ডের ইতিহাস, অর্থনীতি, কৃষি, সংস্কৃতি ও পরিবেশ—সবকিছুই নদীকেন্দ্রিক। যে নদীগুলো বাংলাদেশের জীবনরেখা, তাদের অধিকাংশের উৎস দেশের বাইরে। বাংলাদেশের মোট ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদীর মধ্যে ভারতের সঙ্গে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে, যেগুলোর ওপর বাংলাদেশের কৃষি, পরিবেশ, নৌপরিবহন, মৎস্যসম্পদ এবং কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। ফলে উজানের রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের যেকোনো পানি ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত সরাসরি বাংলাদেশের কৃষি, পরিবেশ, অর্থনীতি ও জনজীবনের ওপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে বিশেষ করে উজানে ভারতের বিভিন্ন বাঁধ, ব্যারাজ, পানি প্রত্যাহার প্রকল্প এবং একতরফা নদী ব্যবস্থাপনার কারণে বাংলাদেশ ক্রমাগত পানিবৈষম্যের শিকার হয়েছে, যা এককথায় পানি আগ্রাসন ও নদীকেন্দ্রিক শোষণ ছাড়া আর কিছু নয়। ফারাক্কা ব্যারাজ থেকে শুরু করে তিস্তা, গোমতী, মনু, খোয়াই, মুহুরী এবং সাম্প্রতিক ফেনী নদীর পানি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক—সবকিছুই সেই দীর্ঘ ইতিহাসের অংশ।
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে এত আলোচনা সত্ত্বেও পানি ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে ন্যায়সংগত কোনো সমাধান আসেনি। ভারত মুখে যতই বন্ধুত্বের কথা বলুক, বাস্তবতা হলো উজানের দেশ ভারত তার ভূরাজনীতি, আঞ্চলিক কৌশলগত নিরাপত্তা এবং নিজের দেশের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যেখানে ভাটির দেশ প্রতিবেশী বাংলাদেশের অধিকার ও উদ্বেগ ভারতের কাছে সবসময় গৌণ থেকে যায়। আন্তর্জাতিক নদী আইনের অন্যতম নীতি হলো, অভিন্ন নদীর পানি ন্যায্য ও যৌক্তিকভাবে ব্যবহার করা। কিন্তু বাস্তবে দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য এতটাই অসম যে বাংলাদেশের মতো ছোট রাষ্ট্রের পক্ষে নিজের অধিকার আদায় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পানিবণ্টন ইস্যুতেও এর প্রতিফলন ঘটে। বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিবণ্টন ও বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত কখনো আন্তর্জাতিক ন্যায্যতার নীতির তোয়াক্কা করেনি। বাংলাদেশের কাছে বিষয়টি কেবল পানিবণ্টনের সমস্যা নয়; বরং এটি ন্যায্য অধিকার, পরিবেশগত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন। কারণ আন্তর্জাতিক নদীর ক্ষেত্রে একটি উজান রাষ্ট্র যখন ভাটির রাষ্ট্রের স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনায় না নিয়ে একতরফাভাবে পানি ব্যবহার বা প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, তখন তার বিরূপ প্রভাব বহন করতে হয় নিম্ন অববাহিকার দেশকে।
ফারাক্কা : নদী আগ্রাসনের সূচনা
১৯৭৫ সালে ভারত গঙ্গার পানি হুগলি নদীতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে ফারাক্কা ব্যারাজ চালু করে। কিন্তু এই প্রকল্পের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে নিম্ন অববাহিকার দেশ বাংলাদেশে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালে গঙ্গা পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও মূল সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। কারণ চুক্তিটি গঙ্গার নির্দিষ্ট অংশের পানিবণ্টন নিয়ে হলেও আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর সমন্বিত ব্যবস্থাপনার প্রশ্নে কোনো কার্যকর কাঠামো গড়ে ওঠেনি। ফারাক্কা প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সময় ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, যা আন্তর্জাতিক নদী আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফারাক্কার এই তিক্ত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মানুষের মনে গভীর অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে। এদেশের মানুষের কাছে এটি কেবল একটি ব্যারাজ নয়, বরং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের একতরফা পানি নিয়ন্ত্রণের প্রতীক।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ এই বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে। এই চুক্তি নবায়ন করা হবে, নাকি দুই দেশের মধ্যে নতুন করে চুক্তি হবে, তা এখনো অন্ধকারে। ভারতের দিক থেকে নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে নতুন ফর্মুলার কথা বলা হচ্ছে। ভারতের দিক থেকে নতুন করে যেসব বক্তব্য আসছে, তাতে চুক্তি নবায়নের বিষয়টি সংকটের মুখে পড়তে পারে। ভারত চাইছে ফারাক্কা পয়েন্টের পানির প্রবাহের আলোকে চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক দাঁড় করাতে, যেটি ভারতের দিক থেকে অন্যায্য দাবি। কারণ গঙ্গা তো শুধু ফারাক্কা পয়েন্টে সীমাবদ্ধ নয়, উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে ফারাক্কা পয়েন্টে পানির প্রবাহ কম থাকে। পানিবণ্টন চুক্তিতে রয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারত কী পরিমাণ পানি পাবে, সেটা নির্ভর করবে উজানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, পানির প্রবাহ ও গতিবেগের ওপর।
তিস্তা : অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির ইতিহাস
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জীবনরেখা বলা হয় তিস্তা নদীকে। বাংলাদেশ-ভারত পানি-বিরোধের অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো তিস্তা নদী। ভারত উজানে গজলডোবা ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে তিস্তার পানি ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের তিস্তা নদীর বুক মরুভূমিতে পরিণত হয়।
দীর্ঘ আলোচনার পর ২০১১ সালে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতার অজুহাতে শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। বস্তুত তিস্তা নদীর পানি থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করার ক্ষেত্রে দিল্লি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এতদিন ধরে অজুহাত হিসেবে ব্যবহারের কৌশল গ্রহণ করে আসছে।
ছোট নদী, বড় বিতর্ক
ফেনী নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। আয়তনে ছোট হলেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেক বড়। ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলের সাবরুম শহরের বাসিন্দাদের পান করার জন্য শেখ হাসিনা ২০১৯ সালে ভারতকে প্রতি সেকেন্ডে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি তোলার অনুমতি দিয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ভারত এই চুক্তির ফলে বিভিন্ন পয়েন্টে শক্তিশালী পাম্প বসিয়ে ইচ্ছামতো পানি তুলে নিচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের মানুষ সীমান্ত এলাকায় এ নদীর পানি তুলতে গেলে বাধা দেয় বিএসএফ। ছোট এ নদীর পানি ভারত ইচ্ছামতো তুলে নেওয়ার কারণে হুমকির মুখে মুহুরীর সেচ প্রকল্প। শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে যাওয়ার ফলে ফেনী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া এবং চট্টগ্রামের মিরসরাই অঞ্চলের কৃষকেরা ফসলে সেচ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান না।
ছোট এই নদীটির পানি ভারতকে দেওয়ার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা ত্রিপুরার মানুষের পানি সংকটকে মানবিক অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছেন। অথচ তিনি নিজ দেশের মানুষের পানি সংকটের কথা বিবেচনায় নেননি। ভারত যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশকে তার পানির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার পাশাপাশি পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিরামহীনভাবে যে কত অমানবিকতা ও নিষ্ঠুরতা চালিয়ে যাচ্ছে, সেটা শেখ হাসিনার কাছে কোনো বিষয় নয়।
নদীকে কেবল পানির উৎস হিসেবে দেখলে চলবে না। একটি নদী হলো একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তুতন্ত্র। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হলে কৃষি, মৎস্য, বন, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবনযাত্রা—সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উজানে পানি আটকে রাখা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি বর্ষাকালে হঠাৎ অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়াও ভাটির দেশকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। ফলে বাংলাদেশ কখনো খরার, কখনো বন্যার শিকার হয়।
ভারতের পানি আগ্রাসন ও নদীকেন্দ্রিক শোষণের কারণে আজ বাংলাদেশের নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি, মাছের আধার, নদীকেন্দ্রিক জীবনব্যবস্থা, খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য—সবই নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এর সমাধান করতে না পারলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের নেতিবাচক পরিণতির অপেক্ষায় রয়েছে আমাদের দেশ। নদীকেন্দ্রিক জীবনব্যবস্থা ধ্বংস এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে বাড়ছে শহরকেন্দ্রিক অভিবাসন এবং এটি অদূর ভবিষ্যতে নগরব্যবস্থাকে লন্ডভন্ড করে দিতে পারে।
বাংলাদেশের দাবি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নীতির ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। আন্তর্জাতিক নদী ব্যবস্থাপনায় কয়েকটি মৌলিক নীতি ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। ‘United Nations Watercourses Convention (1997)’-এর কয়েকটি মৌলিক নীতি রয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি ‘ন্যায্য ও যুক্তিসংগতভাবে’ ব্যবহার করতে হবে। উজানের রাষ্ট্র এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে না, যা ভাটির রাষ্ট্রের জন্য ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষতি’ সৃষ্টি করে। নদী ব্যবস্থাপনায় তথ্য বিনিময়, পূর্ব অবহিতকরণ এবং যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
‘হেলসিঙ্কি রুলস ১৯৬৬’ ঘোষণায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক নদী কোনো একক রাষ্ট্রের সম্পত্তি নয়। প্রতিটি নদীতীরবর্তী রাষ্ট্রের ন্যায্য অংশীদারত্ব রয়েছে। উজান ও ভাটি রাষ্ট্রের অধিকার সমানভাবে বিবেচনা করতে হবে।
‘International Law Association Berlin Rules (2004)’-কে হেলসিঙ্কি রুলসের আধুনিক সংস্করণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এতে বলা হয়েছে, মানবাধিকারের অংশ হিসেবে পানির অধিকার, পরিবেশগত প্রবাহ (Environmental Flow), টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এবং আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানিবণ্টনের ক্ষেত্রে এই নীতিগুলোর পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।
নদী ভবিষ্যতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক সম্পদে পরিণত হতে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এই বাস্তবতা আরো তীব্র। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নদী কেবল পরিবেশগত ইস্যু নয়, এটি ভূরাজনৈতিক স্বার্থ ও কৌশলগত ক্ষমতার প্রশ্ন। বাংলাদেশ যদি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে শক্ত অবস্থান নিয়ে সময়মতো কার্যকর পানি কূটনীতি গড়ে তুলতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ ও অর্থনীতি আরো বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে। অতীতে নদীর পানির হিস্যা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বরাবরই সমঝোতা ও কূটনৈতিক সংলাপের পথ অনুসরণ করেছে। অথচ বাস্তবে দেখা যায়, সীমান্ত, বাণিজ্য কিংবা নিরাপত্তা সহযোগিতায় বাংলাদেশ ছাড় দিলেও এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রশমিত করলেও পানি ইস্যুতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। এটি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট, কেবল নমনীয়তা দেখিয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা সম্ভব নয়। বাস্তবতা হলো, জলরাজনীতিতে কূটনৈতিক সৌজন্যের পাশাপাশি প্রয়োজন দক্ষতা ও কৌশলগত দৃঢ়তা। বাংলাদেশের উচিত আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোয় নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি আরো জোরালোভাবে উত্থাপন করা এবং আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনায় বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক নীতিমালার পক্ষে বৈশ্বিক সমর্থন গড়ে তোলা।
ফারাক্কা থেকে ফেনী—এই দীর্ঘ পথচলা বাংলাদেশের জন্য শুধু পানিবণ্টনের ইতিহাস নয়; এটি অস্তিত্ব, পরিবেশ ও ন্যায্য অধিকারের প্রশ্ন। আন্তঃসীমান্ত নদীগুলো বাংলাদেশের জীবনরেখা। উজানে একতরফা পানি নিয়ন্ত্রণের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে, তা বাংলাদেশের জনগণ বহু দশক ধরে বহন করে চলেছে। তাই বাংলাদেশের দাবি কোনো দয়া বা অনুগ্রহের আবেদন নয়; এটি একটি বৈধ ও ন্যায্য অধিকার। বাংলাদেশ ও ভারত প্রতিবেশী রাষ্ট্র, উন্নয়নের অংশীদার এবং বহু ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারক। সেই সম্পর্কের প্রকৃত শক্তি তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন নদীকে আধিপত্যের উপকরণ নয়, বরং সহযোগিতার সেতুবন্ধ হিসেবে দেখা হবে।
ফারাক্কার ক্ষত, তিস্তার হতাশা এবং ফেনীর বিতর্ক আমাদের একটি শিক্ষা দেয়—নদীকে ভাগ করা যায়, কিন্তু নদীর ভাগ্যকে একতরফাভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। নদী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। আর বাংলাদেশ বাঁচার এই প্রশ্নে ন্যায্য পানিবণ্টন কোনো কূটনৈতিক সৌজন্য নয়; এটি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং মানবিক অধিকারের অপরিহার্য দাবি।
লেখক : এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস (কাস্ট)